kalerkantho


প্রকল্প বাস্তবায়নে সদিচ্ছা দরকার

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শিক্ষার প্রাথমিক স্তরেই গড়ে ওঠে একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক ভিত্তি, যা তার উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথ অনেকটাই প্রশস্ত করে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

ফলে শিশুদের স্কুলমুখী করা ও ঝরেপড়ার হার কমাতে অনেক স্কুলই ভূমিকা রাখতে পেরেছে। কিন্তু মুদ্রার অন্য পিঠ হচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষা খাতে জনবল ঘাটতি ব্যাপক। প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা খুবই কম। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনেক প্রকল্পই আলোর মুখ দেখে না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রথমত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। যাতে মেধাবী তরুণরা প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে কর্মসংস্থানের তালিকায় ওপরের দিকে রাখে। শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দদায়ক পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করতে হবে। আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বাজেটের অপ্রতুলতা নেই। অপ্রতুলতা রয়েছে সদিচ্ছার। অনেক গ্রামে মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম প্রদান করা হলেও তারা আজ পর্যন্ত তা ব্যবহারই করেনি। এর মূলে রয়েছে প্রশিক্ষণের অভাব ও অবহেলা। অনেক স্কুলে আশাতীত সাফল্য দেখা যায় শুধু ভালো ব্যবস্থাপনার কারণে। কিন্তু যেসব অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে, সেখানে ব্যর্থতার বড় চিত্র ফুটে উঠেছে। সবশেষে এটাই বলা যায় যে শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, বাস্তবায়নের জন্য সদিচ্ছা থাকতে হবে। তবেই আমরা একটি কার্যকর ও মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব।

এম এ সাক্কুর আলম

জিনজিরা, ঢাকা।


মন্তব্য