kalerkantho


ব্যবস্থাপনা কমিটির দক্ষতা ও নিষ্ঠা জরুরি

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকে। এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এসএমসি বা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য ব্যাপক। কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর বা সভাপতির অনুপস্থিতিতে দুজন সদস্যের স্বাক্ষর ছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিদ্যালয়ের মাসিক রিপোর্ট গ্রহণ করা হয় না। এই রিপোর্ট দেখে শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বিল অনুমোদন করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা ও সামগ্রিক উন্নয়নে এ কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু কমিটির অনেক সদস্যই তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ঠিকমতো জানেন না। আবার অনেকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত হলেও সেসব পালনে আন্তরিক নন। অনেকে এসএমসির মাসিক সভায় নিয়মিত উপস্থিত হন না। অনেক সময় বাড়ি গিয়ে কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়। ফলে কোনো কোনো বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রায় অকার্যকর।

শিশু ভর্তি, শিশু জরিপ, ঝরেপড়া শিশুর সংখ্যা কমিয়ে আনা ও বিদ্যালয়ে সীমিত পরিসরের উন্নয়নকাজে সহযোগিতা করা ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বের আওতাভুক্ত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কমিটির সদস্যরা এ দায়িত্ব পালনে নিজেদের কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করেন না। ফলে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয় না। তাই অভিভাবকরা তাঁদের শিশুদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে আগ্রহী হয়ে পড়েন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কমিটি সহায়ক ভূমিকার পরিবর্তে কর্তৃত্বমূলক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এতে শিক্ষকরা হতোদ্যম হন এবং শিক্ষা প্রদানে নিরুৎসাহী হয়ে পড়েন। তাঁরা দায়সারা গোছের পাঠদান করেন।

অনেক বিদ্যালয়ে নামমাত্র ব্যবস্থাপনা কমিটি আছে। নিয়মিত সভায় বেশির ভাগ সদস্য অনুপস্থিত থাকেন। তাঁরা বিদ্যালয়সম্পর্কিত বিষয়ে তেমন খোঁজখবর রাখেন না। এ ধরনের নিষ্ক্রিয় কমিটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন তথা মানসম্মত শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে তিনজন মহিলা সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বেশির ভাগ মহিলা সদস্যই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন না।

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে যেকোনো মূল্যে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি বা এসএমসিকে সক্রিয় করতে হবে। স্থানীয় মানুষ ও এসএমসি শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে সচেতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রত্যাশিত ফল পাব না। বছরে অন্তত দুবার কমিটির সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে কমিটির সদস্যরা দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন। সদস্যদের ওপর কমিটির বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগও দরকার। এসএমসিকে কর্তৃত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে সহযোগিতামূলক ব্যবস্থাপনায় মনোনিবেশ করতে হবে। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আন্তরিক ও সক্রিয় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কোনো বিকল্প নেই।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।


মন্তব্য