kalerkantho


প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও পদ্ধতিতে বেশি মনোযোগ দরকার

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও পদ্ধতিতে বেশি মনোযোগ দরকার

সরকারের নানা উদ্যোগের পরও প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মান উন্নত করতে হলে সবার আগে শিক্ষকদের সামর্থ্য, দক্ষতা ও আন্তরিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। পাঠকে আনন্দময় করতে হলে ছাত্র-ছাত্রীর ঘাড় থেকে অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা নামাতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষক-অভিভাবক সম্পর্ক সুন্দর হতে হবে। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর বাণিজ্যিক প্রবণতা দূর করতে হবে। সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরকে সদা তৎপর থাকতে হবে। টেলিফোনে ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

►  একশ্রেণির মানুষ মনে করে গরিব-দুস্থদের ছেলে-মেয়েরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। তাই তারা ঝুঁকে পড়ছে অলিগলিতে গড়ে ওঠা ‘কিন্ডারগার্টেন’-এর দিকে। কিন্তু এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে যদি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় ও বাচ্চাদের রুচিসম্মতভাবে সাজানো হতো তাহলে এমন হতো না। শ্রেণিকক্ষগুলো এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা উত্ফুল্ল হয়।

‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’ যদি সারা দেশে চালু করা যায় তাহলে ‘ঝরেপড়া’ বাচ্চার সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। এই কর্মসূচিতে ‘রান্না করা খাবার’-এর বিষয়টি সরকার আরো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করলে বেশ সুফল পাওয়া যাবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করতে হবে। শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার ওপর প্রশিক্ষণ থাকতে হবে।

মো. সাইফুল ইসলাম

সংকুর পাড়, লালমাই, কুমিল্লা।

 

►  মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে আগে দরকার যোগ্যতাসম্পন্ন দক্ষ শিক্ষক। প্রাথমিক শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। পড়াশোনায় যারা ভালো, তারা শিক্ষক হতে চায় না। কারণ সুযোগ-সুবিধা খুব কম। কিভাবে শিক্ষাকে শিশুর কাছে আনন্দময় করা যায় সে ব্যাপারে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিক্ষক পড়ান বটে, কিন্তু শিশুরা তা বুঝে না, আনন্দ পায় না। এমন শিক্ষা শুধু সময়ের অপচয়। তাই দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মফস্বলের স্কুলগুলোর আধুনিকায়নও দরকার। বেসরকারি স্কুলগুলোতে বাচ্চাদের কী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে তার তদারকি দরকার। শিক্ষা যেন ব্যবসা না হয়ে পড়ে।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

মিরপুর-১২, ঢাকা।

 

► মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সুপারিশ—১. জাতীয় বাজেটে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ২. শিক্ষকতা পেশায় ভালো ফল করা বেশি মেধাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। ৩. ডিগ্রি পাসের নিচে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। ৪. প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাসময়ে শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। ৫. উপজেলা শিক্ষা অফিসার দ্বারা আকস্মিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করাতে হবে। ৬. অনিয়মিত ও দায়িত্বে অবহেলাকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৭. শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের সরকারিভাবে সম্মাননা দিতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধর, বাড়ইখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

► সরকার প্রাথমিক শিক্ষার সংস্কারে বদ্ধপরিকর। শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে সরকার যুগান্তকারী কাজ করেছে। এর পরও প্রাথমিক শিক্ষা নিম্নমানের। মান উন্নত করতে হলে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► প্রাথমিক শিক্ষা মানসম্পন্ন করতে প্রথমেই বইয়ের বোঝা কমিয়ে শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। ঝরেপড়া রোধকল্পে অবশ্যই গ্রামের হতদরিদ্র, দরিদ্র শিশুদের উপযুক্ত উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের চারপাশে নানা পদ্ধতির প্রাথমিক শিক্ষা চলছে। মাদরাসাপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা একভাবে গড়ে উঠছে, ইংরেজি মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা অন্যভাবে। আবার বাংলা মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা আরেকভাবে গড়ে ওঠে। এ ধরনের সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য অবশ্যই প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তিকে আরো গ্রহণযোগ্য, মজবু্ত ও উন্নত করতে হবে। সব পদ্ধতির মধ্যে একটি সমন্বয় দরকার।

ওয়াহিদ মুরাদ

দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।

 

► মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিশুদের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। তাদের মনোযোগের সঙ্গে পাঠদান করাতে হবে। গাইড বই ও প্রাইভেট পড়ানোর উপদেশ না দিয়ে শিক্ষকরাই শিশুদের প্রতি একটু বেশি পরিশ্রম করলে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত হতে পারে।

বজলুর রহমান

শেকারা, বহরপুর, রাজবাড়ী।

 

► প্রাথমিক শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে ভালো শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে শিক্ষার মান অনুযায়ী গল্প, প্রবন্ধ, কবিতার সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করতে হবে। শিশুদের জন্য এমসিকিউ বাদ দিয়ে রচনামূলক প্রশ্ন বেশি করতে হবে। মেধাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দিলেই আমরা ভালো ছাত্র পাব।

এম এ মতিন

বেগুনবাড়ী, বাসাবো, ঢাকা।

 

►  ফিনল্যান্ডে ১০ বছরে শিক্ষার মানোন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তারা পাঁচ-ছয় বছরে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশ্বের এক নম্বর দেশে চলে এসেছে। কিন্তু আমরা এত দিন ধরে শিক্ষার নীতি পরিবর্তন করেও ফল অর্জন করতে পারিনি। আমি বিশেষভাবে বলব, অবশ্যই যেন ভালো ছাত্রদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, সেটি প্রথমে দেখতে হবে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তক যদি সুন্দর ও গঠনমূলক হয়, তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিশ্চিত হবে।

মো. ইলিয়াস সাদেক

নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

 

► শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে উপযুক্ত পাঠ্যক্রম তৈরি করতে হবে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সেই আলোকে পাঠদান করতে হবে। প্রশ্ন-বিভাজনে পরিবর্তন আনতে হবে। নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যথাযথভাবে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতে হবে।

এ কে এম ফয়সল সৌরভ

আড়াইসিধা, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

 

► সুদক্ষ আদর্শ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকের দ্বারা পাঠদান করানো দরকার। শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো উচিত। শাসনের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি মায়া-মমতা প্রদর্শন করা দরকার। এ ছাড়া স্কুলের পরিবেশ সুন্দর হতে হবে। সুধীসমাজ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনীয় বই ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► শিক্ষার্থীদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশের জন্য স্কুলে গল্প বলা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, উপস্থিত ও নির্ধারিত বক্তৃতা নিয়মিতভাবে পরিচালনা এবং বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া, শিক্ষক ও এসএমসি সদস্য কর্তৃক কার্যকর হোম ভিজিট করা, মা সমাবেশ, উঠান বৈঠক, শিক্ষক-অভিভাবক সভা ও অভিভাবক সমাবেশ করতে হবে। বিদ্যালয়ে স্লিপার, দোলনা ও আউটডোর খেলাধুলার সামগ্রী বৃদ্ধি করা, যাতে শিশুরা উন্মুক্ত পরিবেশে খোলামেলা ছোটাছুটির সুযোগ পায়। নিয়মিত শপথবাক্য পাঠ করানোসহ সমাবেশ ও সঠিক তাল, লয় ও সুরে জাতীয় সংগীত পরিচালনা করতে হবে।

লিপি রহমান

এয়ারপোর্ট রোড, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

► প্রাথমিক শিক্ষাকে একটি মানে উন্নীত করতে হলে অবশ্যই নিয়োগ দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। মেধাবী ও শিক্ষকতায় আগ্রহীদের নিয়োগ না দিতে পারলে কখনোই এখানে শিক্ষাদান নির্দিষ্ট একটি মানে পৌঁছবে না। একটি বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষকের সংখ্যা বেশি এখনকার শর্ত অনুযায়ী। কোনো কোনো সময় দেখা যায়, একসঙ্গে কয়েকজন শিক্ষক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যান, তখন শিক্ষক সংকট হয়, যার কারণে পাঠদানে সমস্যা দেখা দেয়। এমনও অভিযোগ ওঠে, কখনো কখনো বদলি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেওয়ার প্রবণতা। অন্যদিকে কিন্ডারগার্টেনগুলোর ক্ষেত্রে সমস্যা অধিক খরচ এবং অদক্ষ শিক্ষক দ্বারা পাঠদান। এ সমস্যাগুলো উত্তরণের জন্য অবশ্যই দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে। মান বাড়ানোর জন্য সমগ্র পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও ভাবা প্রয়োজন।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করি—১) শুধু সিলেবাসের পড়া নয়, আদর্শবান করে তোলার জন্য নৈতিকতার শিক্ষাও দিতে হবে। ২) চার বছর বয়সে স্কুলে গমন বাধ্যতামূলক করে ছয় বছর বয়স পর্যন্ত শুধু নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। বয়স ছয় বছর পার হলে আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষাদান শুরু করতে হবে। ৩) শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাবী, চরিত্রবান ও যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে বাছাই করতে হবে। ৪) পৃথক বেতন কাঠামো করে শিক্ষকদের মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে হবে। ৫) ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত কমিয়ে আনতে হবে। ৬) অভিভাবকদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। ৭) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাসে অন্তত এক দিন একজন সফল ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথ দেখাবেন, জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা দেবেন। ৮) মেধা বিকাশের জন্য, শিক্ষার পরিবেশ তৈরির জন্য যা যা প্রয়োজন সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সীপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

► প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে যাঁরা এরই মধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন তাঁদের জন্য দুই বছরের পিটিআই ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করা উচিত। কারণ এই ট্রেনিংই শিক্ষকদের উপযুক্ত শিক্ষক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

টিটো রহমান

রাধানগর, পাবনা।

 

► প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিশুদের ক্লাসে পড়ানোর চেয়ে কোচিংয়ে পড়াতেই বেশি আগ্রহী। তাঁরা ছাত্রদের দিকে খেয়াল রাখেন না। শিক্ষকরা নিয়োগ পাওয়ার পর টাকা রোজগারের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় যিনি যে এলাকার, তিনি সেই এলাকাতেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। এটা না করে বরং শিক্ষকদের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় দিলে তিনি বেশি মনোযোগী হবেন। নিজের সামর্থ্য ও যোগ্যতাকে আরো বেশি ব্যবহার করতে পারবেন বলে মনে হয়।  

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► আমাদের গ্রাম ও থানাভিত্তিক বেশির ভাগ প্রাথমিক স্কুলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তো দূরের কথা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষাদান পদ্ধতি চলে। এ ছাড়া সরকারি পর্যায়ে তথাকথিত মডেল প্রাইমারি স্কুলের অবতারণা করে সরকার নিজেই প্রাইমারি শিক্ষাদান পদ্ধতিকে বিভক্ত করে রেখেছে। যদিও মডেল স্কুলগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করা যাচ্ছে না। তাই শিক্ষার নানা রকম বৈষম্য দূর করে, উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ করে প্রাইমারি স্কুলকে আনন্দময় করে তুলতে হবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে সত্যিকারের মেধাবীদের নিয়োগ দিতে হবে। কারণ একটি প্রকৃত মেধাই পারে আরেকটি মেধাকে জাগ্রত করতে। শিক্ষকদের দায়সারা পাঠদান থেকে বিরত রেখে আনন্দ দিয়ে শিশুদের শেখাতে হবে। এ ছাড়া স্কুলের যিনি সভাপতি হবেন তাঁকেও সজ্জন ব্যক্তি হতে হবে। শিশুরা অনুকরণপ্রিয়, তাই তারা যেন অনুকরণ করতে পারে এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা শিক্ষকদের দায়িত্ব। এসব ক্ষেত্রেও মেধাবী ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই। তাই মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

মেইন রোড, বাগেরহাট।

 

► প্রাইমারি লেভেলের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভালো মানের শিক্ষক হিসেবে তৈরি করতে হবে। কারণ প্রাইমারি শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা তুলনামূলক অনেক কম। প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিগ্রি পর্যন্ত করলে প্রাইমারি শিক্ষার মান অনেকাংশেই বেড়ে যাবে।

আজিনুর রহমান লিমন

চাপানীহাট, ডিমলা, নীলফামারী।

 

► পরিবারে মা হচ্ছে শিশুদের জন্য মহাবিদ্যালয়। মা যদি উচ্চশিক্ষিত হয়, তাহলে শিশুদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় হবে মা। শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে মা। তাই শিশুদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে শিক্ষিত মেয়ে বিয়ে করা উচিত। সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আরো মানসম্মত করা প্রয়োজন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলমান ক্লাস টাইম পরিবর্তন করা সময়ের দাবি। প্রাথমিক শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে মা। যার মা যত বেশি শিক্ষিত তার প্রাথমিক শিক্ষাও তত মানসম্মত।

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

► প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হোন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকই হোন—সবার মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে পারলে সমগ্র শিক্ষা কাঠামোর ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় সময়সূচি নিয়েও কর্তৃপক্ষের আরো গভীরভাবে ভাবতে হবে। গোটা ব্যবস্থারই পরিবর্তন আবশ্যক। অন্যান্য চাকরিতে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই ফল বিবেচনায় বেতন, ইনক্রিমেন্ট বা সুবিধা দেওয়া হয়, যা প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নেই। বিদ্যালয়ের সময়সূচি, শিক্ষকের বেতন ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারলে শিক্ষার মান বাড়ানো সম্ভব।

এস এম সাইদুর রহমান (উলু)

বাবুপাড়া, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

► বাণিজ্যিক স্বার্থে পাঠ্য বইয়ের অতিরিক্ত অনেক বই শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হচ্ছে। নোট ও গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হচ্ছে। অতি দ্রুত এই প্রবণতার অবসান হওয়া প্রয়োজন। ‘সৃজনশীল’ পদ্ধতি অবশ্যই ভালো। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমাদের অনেক শিক্ষক এটি বোঝেন না। শিক্ষকদের ভালো করে প্রশিক্ষণ দিয়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হলে এর সুবিধা অনেক বেশি পাওয়া সম্ভব ছিল। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে—১. বইয়ের বোঝা কমাতে হবে, ২. শিক্ষকদের সৃজনশীল পদ্ধতিতে দক্ষ করতে হবে, ৩. গাইড বইয়ের প্রসার রোধ করতে হবে এবং ৪. তিনটি বা চারটি মৌলিক বিষয়ে পাঠদান করে পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► প্রাথমিক শিক্ষা হলো শিক্ষার মূল ভিত্তি। যদি সেই ভিত্তিটাই মজবুত না হয়, তাহলে ভালো কিছু আশা করা যায় না। মানসম্মত শিক্ষার জন্য মানসম্মত শিক্ষক ও কর্মকর্তা প্রয়োজন। শিক্ষক সংকটে বিঘ্নিত হচ্ছে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। উন্নত বিশ্বে শিক্ষার বাজেট সবচেয়ে বেশি থাকে। আর বাংলাদেশে উল্টো চিত্র। শিক্ষায় পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের সৃজনশীলতার ওপর যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যদানে সহজ পন্থা খুঁজে পায়। শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত গাইড বই ক্রয়, বেতন, ফি ও অন্যান্য ব্যয়বহুল খরচগুলো যাতে হ্রাস পায় এ ব্যাপারে সরকারের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

শায়লা শারমিন রিমা

কাজুলিয়া, গোপালগঞ্জ।

 

► মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণও থাকতে হবে। সৃজনশীল পদ্ধতি চালু রয়েছে বটে, কিন্তু অনেক শিক্ষক এ বিষয়ে যথাযথভাবে অবহিত নন। অনেক স্কুলে মার্চ মাসেও বিনা মূল্যের বই পাওয়া যায় না। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা শুরুতেই পাঠের বিষয় ও পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত হয়। পাঠ্য বইয়ের ভুল সংশোধন এবং প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

►  প্রাথমিক শিক্ষা মানসম্মত করতে হলে এমসিকিউ পদ্ধতি তুলে দিতে হবে। পুরো প্রশ্নপত্রই সৃজনশীল হতে হবে। পাঠ্যপুস্তকের ভুল সংশোধন করতে হবে। বছরের শুরুতেই ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছাতে হবে। পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে শুরুতেই ধারণা দিতে হবে।

মো. নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া

নোহা সিএনজি, ভৈরব।

 

► শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এখন শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। কারণ এটি এখন শুধুই ব্যবসা। কিন্তু সবার শিক্ষার অধিকার রয়েছে। তাই অনুরোধ সবাইকে শিক্ষার মূল্য বুঝতে দিন।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কয়েকটি প্রস্তাব—১. শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, ২. শিশুদের জন্য আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, ৩. শিশুদের শাস্তি দেওয়া যাবে না, ৪. পাঠ বুঝতে শিশুদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে, ৫. শিশুদের সঙ্গে স্নেহ-ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, ৬. পাঠে মনোযোগী করার জন্য সহজ ও আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করতে হবে এবং ৭. অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া থাকতে হবে।

আনোয়ার হোসেন মিছবাহ

মজুমদারি, সিলেট।

 

► মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের লেখাপড়ায় আগ্রহী ও উৎসাহী করতে হবে। শিক্ষক-অভিভাবক সম্পর্ক সুন্দর হতে হবে। স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অবশ্যই শিক্ষিত ও সৎ হতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম দূর করতে হবে এবং মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আসার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।

ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল

বেলাব, নরসিংদী।

 


মন্তব্য