kalerkantho


শৈশবের নৈতিক শিক্ষা অবক্ষয় ঠেকাবে

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



শৈশবের নৈতিক শিক্ষা অবক্ষয় ঠেকাবে

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, পারিবারিক সম্পর্কে শিথিলতা, বড়দের দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়াসহ নানা কারণে কিশোর, তরুণ ও যুবসমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটছে। আইনের প্রয়োগও অনেক সময় হচ্ছে না প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে। পরিবারে সন্তানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে হবে। মাদকের আগ্রাসন ও তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহারও বর্তমান প্রজন্মকে নষ্ট করছে। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোনে ও ই-মেইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন

 

►   সামাজিক অবক্ষয় রোধে জনপ্রতিনিধিরা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। উচ্চবিত্তের কেউ কেউ ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয় না, বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশও অনেক সময় ধর্ষণকারীদের পক্ষে অবস্থান নেয়, কিন্তু সেই পুলিশের বিচার হয় না। শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে শিক্ষার্থীর নৈতিকতা নিয়ে ভাবেন না। খুনি ও ধর্ষকদের পক্ষে কেন আইনজীবীরা দাঁড়াবেন?

নিমাই কৃষ্ণ সেন

মেইন রোড, বাগেরহাট।

 

►   নৈতিকতার মানদণ্ডে উন্নীত শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়ারও কি মানদণ্ড আছে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও যদি তদারকির আওতায় না থাকে, সঠিক শিক্ষা কিভাবে নিশ্চিত হবে, শিক্ষার্থীরা কিভাবে সমাজ উন্নয়নে পরবর্তী জীবনে ভূমিকা রাখবে?

শাহ সিকান্দার

এনসি কলেজ, সিলেট।

 

►   ধনী-দরিদ্র বৈষম্যের সঙ্গে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা। দারিদ্র্য থেকে একশ্রেণির মানুষ অপরাধে জড়াচ্ছে, আরেক শ্রেণির মানুষ লোভের বশে লুটপাটে ব্যস্ত। শেষ শ্রেণির মানুষের কেউ কেউ অর্থের গরমে পশুর স্তরেও নেমে যায়। বনানী ধর্ষণের ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা এর উজ্জ্বল উদাহরণ। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেলেই ব্যক্তি মানুষের নৈতিকতার উন্নয়ন ঘটবে।

অধ্যাপক কাজী ফরিদ উদ্দিন আখতার

প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম।

 

►   সামাজিক অবক্ষয়ের কারণেই অপরাধ বাড়ছে। এ জন্য অভিভাবক ও যুবসমাজ দুই পক্ষই দায়ী। বিবেকবুদ্ধি না বাড়লে নৈতিকতার উন্নয়ন হবে না।

মোহাম্মদ জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

►   পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। যুবসমাজ যে জায়গায় নেমেছে কোনো ধর্মে, সমাজে তা গ্রহণীয় হবে না। তরুণরা, কিশোররা বড়দের সন্মান করতেও ভুলে গেছে। বিদেশি সংস্কৃতি, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার তাদের মনোজগেক তছনছ করে দিচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্র ও শাসকযন্ত্রকে সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধান খুঁজতে হবে।

মোহাম্মদ নাজিম আদি

সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।

 

►   আমাদের অভিভাবকদের আগে সচেতন হতে হবে। তা না হলে নিজের সন্তানের কাছেও মা-বাবা নিরাপদ থাকবে না। মাদক, ধর্ষণসহ নানা অপরাধে সন্তানের জড়ানো রোধে অভিভাবকদের আগে থেকেই সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

►   নৈতিকতা না বাড়লে, গণসচেতনতা না বাড়লে সমাজ বদলাবে না।

এম এ মতিন

বেগুনবাড়ী, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

►   সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে সারা দেশেই। গাজীপুরে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাবার আত্মহত্যার ঘটনা আমাদের দেখিয়ে দেয় নৈরাজ্য মানুষকে কতটা হতাশ করতে পারে। বনানীর ধর্ষণের ঘটনাও সারা দেশের বিবেকবান মানুষকে নাড়া দিয়েছে। মা-বাবা, প্রশাসন, শিক্ষক, সমাজ, জনপ্রতিনিধি—সবাইকে সজাগ হতে হবে এ বিষয়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ বাক্স রাখতে হবে।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ ট্রার্মিনাল।

 

►   নৈতিকতা উন্নয়ন ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সমাজকে অগণিত ভূমিকা রাখতে হবে। সমাজ আদর্শভাবে গড়ে উঠলে সমাজের মানুষগুলোও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হবে।

শিবুপ্রসাদ মজুমদার

লেকসার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

 

►   পরিবারে ও সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়াতে হবে। অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তবেই মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করা যাবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম

বাউফল, পটুয়াখালী।

 

►   সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পাশাপাশি আমাদেরও উদ্যোগ নিতে হবে সমাজে সব অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে।

এম আনিসুর রহমান

বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

►   শুধু সন্তান জন্ম দেওয়া নয়, সন্তানকে স্নেহ ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ রেখে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা আদর্শ মা-বাবার দায়িত্ব। মাদকের অবাধ সরবরাহ ও ব্যবহার আমাদের ছাত্র এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।

হাবিবুর রনি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

 

►   ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা যেমন করতে হবে, তেমনি অনুশাসনেও রাখতে হবে। যা ইচ্ছা তাই করা মানেই স্বাধীনতা নয়। আমাদের দরকার একজন অভিভাবক। জিপিএ ফাইভ নয়, যিনি শেখাবেন মানুষ হতে।

মুজতবা শামীম

 বেজপাড়া, যশোর।

 

►   ইতিহাস, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, সততা, মানবতা, ঐতিহ্য ও পারিবারিক বন্ধন সম্পর্কে জ্ঞানদানের মাধ্যমে প্রতিটি সন্তানকে সচেতন করার বিকল্প নেই।

আলমগীর ইমন

 লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

 

►   পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবনে ব্যাপক পরিসরে সামাজিক আন্দোলন অথবা সামাজিক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

মো. ফখরুল ইসলাম টিপু

 সেনবাগ, নোয়াখালী।    

 

►   এখনই লাগাম টেনে ধরা না গেলে ১০ বছরে ভয়াবহ রূপ নেবে সামাজিক অপরাধ।

 মো. মোশাররফ হোসেন মুন্সী

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

►   পরিবার শিশুর প্রধান ও প্রথম পাঠশালা। পরিবারেই গড়ে ওঠে নৈতিকতা ও মানবতার মূল ভিত্তি। এই নৈতিকতা গঠনে অভিভাবক ব্যর্থ হলে সন্তানের ভবিষ্যৎ হুমকির মধ্যে পড়বেই। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ সাফাত ও নাঈম।   তাদের এ ধরনের অপকর্মের পরও যখন পরিবারের বড়দের কেউ আস্ফাালন দেখায়, আমরা অবাক না হয়ে পারি না। এ ধরনের পরিস্থিতি রুখতে পরিবারকেই মূল ভূমিকা নিতে হবে। একেকটি পরিবার যদি নৈতিকতা চর্চার কেন্দ্র ও শোধনাগার হয়ে ওঠে তবে সমাজ থেকে অনেক অপরাধের নির্বাসন সম্ভব। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ নষ্ট করে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো যেন জিপিএ তৈরির কারখানা। শিক্ষকরা অনেক সময়ই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ও সারকথা শিক্ষার্থীদের দেন না বা দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। উচ্চশিক্ষিত কোনো কোনো মানুষের পতন যে আমরা দেখি তার রহস্য নিহিত এখানেই। শিক্ষার সার গ্রহণে ব্যর্থ মানুষই পরবর্তী জীবনে সমাজের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। ভালো বীজই যদি না থাকে, সমাজ ভালো ফসল পাবে কিভাবে!

এম এ সাক্কুর আলম

জিনজিরা, ঢাকা।

 

 

►   সামাজিক অবক্ষয় রোধ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতায় উদ্বুদ্ধ করানো। প্রাথমিক শিক্ষায় আলাদা পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করে বাল্যকাল থেকে তাদের সামাজিক অবক্ষয় রোধের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। গণমাধ্যমে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ আরো অনেক বেশি করে ফুটিয়ে তুলতে হবে। ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তর, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে সরকারপ্রধানের কার্যালয় সবখানে মাসে অন্তত এক দিন বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। নৈতিক স্খলনজনিত মামলাগুলোয় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে। এ মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একটা বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করে সারা দেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক মা-বাবার উচিত তাদের সন্তানদের নিজ নিজ ধর্মপালন ও সামাজিক কৃষ্টি-কালচারে মনোনিবেশ ঘটানো। সন্তানদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে। অসচেতন অভিভাবকদের এনজিওর মাধ্যমে সচেতন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিপুল মুখার্জি

বিআরটিসি আন্তর্জাতিক শাখা, কমলাপুর, ঢাকা।

 

►   সমাজের সব সদস্যকে কঠোর ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে। ধর্মের মর্মবাণী সাধারণ মানুষের জাগতিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মনকে পরিশুদ্ধ রাখে। সব ধর্মেই অনুসরণীয় কিছু মানুষ থাকে। আমাদের দুর্ভাগ্য, এসব মানুষকে আমরা মূল্যায়ন করি না। আবার আদর্শ ধর্মগুরুরও বড় অভাব রয়েছে। এখানেও অর্থের প্রভাব লক্ষ্যণীয়। রাষ্ট্রব্যবস্থায়ও ক্ষমতা ও অর্থের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। ফলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ও অপরাধ প্রবেশ করছে। নেতা ও জনতা, ক্রেতা ও বিক্রেতা সবার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। তবেই সামাজিক অবক্ষয় রোধ ও নৈতিকতার উন্নয়ন হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►   আগে আদর্শ শিক্ষা বাড়াতে হবে। বেকারত্ব দূর করতে হবে। উন্নয়ন হতে হবে বৈষম্যহীনভাবে।

মো. মহসিন সরকার

নয়নপুর, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

 

►   সমাজে অনেক ভালো মানুষও আছে। তাদের কাজে লাগাতে হবে। অনৈতিকতা প্রতিরোধ করতে ধর্ম মন্ত্রণালয় আরো তৎপর হতে পারে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►   অনৈতিক লোভ দমনে প্রতিটি পরিবারে গৃহিণীর ভূমিকা হতে হবে প্রশংসনীয়।

মো. হুমায়ন কবির বাবু

দক্ষিণ বানিয়াগাতি, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

 

►   সামাজিক অবক্ষয় রোধের পূর্বশর্ত হচ্ছে, আমাদের প্রত্যেক নাগরিককে দেশপ্রেমিক হতে হবে এবং দেশের কল্যাণের জন্য সরকারকে সব ধরনের সহায়তা করতে হবে। তবেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব।

 মো. রতন

 বিক্রমপুর গার্ডেন সিটি, সদরঘাট, ঢাকা।

 

►   ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন করতে হবে। সামাজিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে হবে। প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দুই দিক সম্পর্কে সবাইকে জ্ঞানদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

ইকবাল হোসাইন রুদ্র

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

 

►   পচন শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে। রাজনীতিতে নীতি, আদর্শ বা মূল্যবোধের কোনো অস্তিত্ব নেই। জনকল্যাণ বা দেশপ্রেমের পরিবর্তে রাজনীতি এখন শুধু ক্ষমতাকেন্দ্রিক। ধর্মকেও বর্তমানে ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে। অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাবে মূল্যবোধও হারিয়ে যাচ্ছে। বৈধ-অবৈধ বহু শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, অবৈধভাবেই বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হচ্ছে। তাদের বিপুল অর্থের কাছে দেশের আইন, নিয়ম-নীতি ও মানবিক মূলবোধ সব কিছুই অসহায়, অকার্যকর। সারা দেশেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এবং তাদের সন্তানরা নানা ধরনের বেআইনি ব্যবসা ও অনৈতিক এবং অসামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এই অবস্থা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্ত করতে হবে।

বিপ্লব

ফরিদপুর।  

 

►   ধর্মের প্রকৃত পাঠই শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

মো. আবু তাহের মিয়া

কারমাইকেল কলেজ, রংপুর।

 

►   যেকোনো মূল্যে বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে পুনরুর্জীবিত করা না গেলে দেশের মানুষকে আরো অমঙ্গলের দিকে নিয়ে যাবে। দ্রুত এ অন্ধকার যেন ঘুচতে শুরু করবে।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

►   এ জন্য দায়ী প্রথমত পারিপার্শ্বিক ও সামাজিক কারণ, দ্বিতীয়ত অর্থনৈতিক কারণ। যে ব্যক্তির মধ্যে নৈতিক শিক্ষা থাকে, সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা থাকে সে ব্যক্তি সব অপরাধ থেকে বিরত থাকে। সে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। যে ব্যক্তির নৈতিক শিক্ষা নেই, সে সামাজিক মূল্যবোধের মর্ম বোঝে না। মানুষের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো তার পরিবার। পরিবারের উচিত শিশুকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া এবং সামাজিক মূল্যবোধগুলো জানানো। উচিত ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া।

মোহাম্মদ অঙ্কন

ঢাকা।

 

►   মুনতাসীর মামুন, আহমদ রফিক, অনুপম সেনসহ উচ্চপর্যায়ের সমাজবিজ্ঞানীদের পরামর্শ গ্রহণ করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

এইচ কে নাথ

ঢাকা।

 

►   সন্তানকে সময় দিন। তাকে বুঝতে চেষ্টা করুন। তাকে নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিন। মানুষ আর পশুর মধ্যে আচরণগত যে পার্থক্য রয়েছে সে শিক্ষাটি তাকে শৈশব থেকেই দিতে শুরু করুন। তবেই না সে পশুত্বকে ঘৃণা করতে শিখবে।

মো. ইমরান হোসেন সরদার

চাকলা বাজার, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

►   পারিবারিক সচেতনতা, একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ধর্মীয় গোঁড়ামিমুক্ত, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে সফলতা আসবে।

জহির আহমদ

বাইট্টাপাড়া বাজার, লংগদু, রাঙামাটি।

 

►   যৌথ পরিবার প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বলেও এমন ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। যৌথ পরিবার প্রথা অটুট রাখতে সমাজ বা রাষ্ট্রের করণীয় নিয়েও চিন্তা করা যেতে পারে। সহনশীলতার অভাব, ধর্মের গুরুত্ব হ্রাস, নৈতিকতার অভাব, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা, নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বেকারত্ব, দুর্নীতি, অশ্লীলতা, উপযুক্ত শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব, পেশিশক্তির প্রভাব, সুশাসনের অভাব ও মাদকের আগ্রাসনসহ বিভিন্ন কারণে মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে। নিজেদের ঐতিহ্য রক্ষায় সচেষ্ট হতে হবে।

মুশরেফা আক্তার বিপাশা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

 

►   পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে মিলিতভাবে প্রজন্মের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির কাজ করতে হবে। স্কুল-কলেজগুলো মঞ্চনাটক, দেয়াল লিখন, পত্রিকা বের করার কাজ করাতে পারে। এই কর্মকাণ্ডে যারা ভালো করবে, তাদের পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।

রহিমা আক্তার মৌ

 তেজগাঁও, ঢাকা।

 

►   মা-বাবা ছোটকাল থেকে সন্তানকে কী শিক্ষা দেয় সেটাই আসল কথা। আমার সন্তানকে আমি কী শিক্ষা দিচ্ছি—সেটা যদি আমি নিজে অনুভব করতে না পারি, তাহলে আমার সন্তান ভালো না মন্দ কোন শিক্ষা পাচ্ছে তা কেমন করে বুঝব। বড়রা নিজেদের নৈতিকতাকে বিসর্জন দেয় তাহলে ছোটরা তাদের কাছে শিখবে অন্যায়। আর এখানেই রয়েছে সমাজের বড় দায়িত্ব। পরিবার থেকে সমাজ। সমাজ থেকে রাষ্ট্র।

মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির

দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, চট্টগ্রাম।

 

►   আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সামাজিক অবক্ষয় রোধ ও নৈতিকতার উন্নয়ন করতে পারে।

মো. সাব্বির রহমান

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

►   ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে। অসৎ ব্যক্তিদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বয়কট করতে হবে। সৎ ও ধর্মভীরু ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করতে হবে।

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

►   হত্যা, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি অপরাধ ঘটিয়ে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সামাজিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পুলিশ বাহিনীকে আরো সৎ ও জনসেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

►   অভিভাবকদের নিজে সৎ হয়ে সন্তানের সামনে আদর্শ তুলে ধরতে হবে? সন্তানের খোঁজখবর সার্বক্ষণিকভাবে রাখতে হবে? অভিভাবক-শিক্ষক-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যৌথভাবে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা করতে হবে? গ্রাম-মহল্লাভিত্তিক আলোচনা করতে হবে। প্রচারমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে?

হুমায়ুন কবির

হাজারীবাগ, ঢাকা।

 

►   অনুপ্রবেশ ঘটেছে আকাশ সংস্কৃতি ও আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতির। একে একে বন্ধ হতে থাকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ সুকুমারবৃত্তিক চর্চার সব দ্বার। হাল আমলের মোবাইল সংস্কৃতি শিশু-কিশোর-যুবা শ্রেণিকে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি থেকে একেবারে নির্বাসনে পাঠানোর ষোলোকলা পূর্ণ করেছে। জিপিএ ফাইভ নামক সোনার হরিণের পেছনে ছুটতে ছুটতে কোমলমতি শিশু-কিশোররা হারিয়ে ফেলেছে নিজেদের পরিচয়।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

 চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

►   প্রথমে নৈতিক শিক্ষাকেই দায়ী করব আমি। তা ছাড়া তথ্য-প্রযুক্তির উন্নতির ফলে স্মার্টফোন, ল্যাপটপের অব্যবহার চলছে। মা-বাবা সন্তানদের হাতে সহজেই উঠিয়ে দিচ্ছেন স্বেচ্ছা ধ্বংসের হাতিয়ার। অসামাজিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নোংরা ফিল্ম দেখে যুবসমাজ এগিয়ে যাচ্ছে অবক্ষয়ের দিকে।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।

 

►   পরিবারের উদাসীনতায় ঐশীর মাদকাসক্ত হওয়া, মা-বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা, হত্যার দায়ে আদালত কর্তৃক আবার তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া ইত্যাদি ঘটনাই প্রমাণ করে আমাদের চারপাশে বেড়ে ওঠা মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চরম ঘাটতি। সর্বশেষ বনানীর ধর্ষণ ঘটনা থেকেও আমাদের বড় শিক্ষা নিতে হবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।


মন্তব্য