kalerkantho


নাগরিক সমাজের দায়

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জঙ্গিবাদ দমনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সফলতার মুখ দেখছি না। এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। অল্প বয়সীরা কী করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে—খেয়াল রাখতে হবে, প্রয়োজনে পুলিশকে জানাতে হবে। সমাজ সচেতনতা সৃষ্টির জন্য অবশ্যই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ব্যাপক ভূমিকা রাখতে হবে। যেমন—তাঁরা জনসমাবেশ করে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন, লিফলেট, পোস্টার, রেডিও-টিভিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে এ পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাবেন। আবার যাদের জঙ্গি বলে মেরে ফেলা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তারা জঙ্গি কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। যেনতেনভাবে যে কাউকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে মেরে ফেলায় কোনো কৃতিত্ব নেই। বরং তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের মাধ্যমে বিচার করা যেতে পারে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি জাতীয় সম্মেলন করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব গ্রহণ করা যেতে পারে। জঙ্গি দমনের নামে রাজনৈতিকভাবে কাউকে ঘায়েল করার জন্য যদি চেষ্টা করা হয় তা জনগণের বুঝতে অসুবিধা হবে না।

সে ক্ষেত্রে জঙ্গি দমনের নামে রাজনৈতিক অপকৌশল প্রয়োগ হচ্ছে কি না সে বিষয়টিও ভেবে দেখা উচিত বলে মনে করি। আরেকটি বিষয়, প্রায়ই পত্রপত্রিকায় দেখি, দীর্ঘদিন ধরে একটি ছেলে বা মেয়ে হারিয়ে গেছে। এই হারিয়ে যাওয়া মানুষেরা জঙ্গি তত্পরতায় জড়িয়েছে, নাকি চক্রান্তের শিকার সে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা যেতে পারে। যাতে করে ভুল কোনো সিদ্ধান্তের বলে কাউকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত না করা হয়।

 

ওয়াহিদ মুরাদ

স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর।


মন্তব্য