kalerkantho


সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ চাই

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রতিবাদহীন বোবাকান্নায় জীবন কাটিয়ে দেওয়ার জাতি বাঙালি নয়। প্রতিবাদ-প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা আমাদের আছে। বাংলাদেশের মাটি যে প্রতিক্রিয়াশীল, ধর্মান্ধ জঙ্গি জিহাদিদের জন্য সুবিধাজনক জায়গা নয়, তা এরই মধ্যে কিছুটা আঁচ করা গেছে। শোকাবহ আগস্টের পুঞ্জীভূত শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে আগস্টের প্রথম দিনেই সমগ্র জাতি হাতে হাত মিলিয়ে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঘণ্টাব্যাপী সম্ভবত ইতিহাসের বৃহত্তম শোভাযাত্রা করেছে। এই প্রতিবাদ শোভাযাত্রার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর অসাম্প্র্রদায়িক অবয়ব। হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সব মতের সমাগম ছিল এতে। সবার চোখে জঙ্গিবাদীদের প্রতি তীব্র ঘৃণা আর তাদের মোকাবেলার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় মিশ্রিত অগ্নিঝিলিক। এর চেয়ে বড় সামাজিক প্রতিরোধ আর কী হতে পারে? আনুষ্ঠানিকভাবে রচিত এ দ্রোহী চেতনা সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ হিসেবে নিরন্তর প্রেরণা জোগাবে। চলমান জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশ সরকারিভাবে ও সামাজিকভাবে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু শুধু অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের মূল উত্পাটন করা যাবে না। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার।

 

এস এম রওনক রহমান আনন্দ

স্কুলপাড়া, বিমানবন্দর সড়ক, ঈশ্বরদী, পাবনা।


মন্তব্য