kalerkantho


জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সক্ষমতা বাড়াতে হবে

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সক্ষমতা বাড়াতে হবে

জঙ্গিরা থেমে নেই, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সাফল্যও আসছে। তবে সুযোগ পেলেই তারা বড় আঘাত হানতে পারে। তাই গোয়েন্দা তত্পরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দরকার আছে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র বা প্রযুক্তি ব্যবহারেরও। জঙ্গিরা মূল জনস্রোতে মিশে আছে, তাই জনগণকেও তথ্য লাভে সম্পৃক্ত করতে হবে। তথ্যদাতাদের পুরস্কারের সঙ্গে নিরাপত্তাও দিতে হবে। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোন ও ই-মেইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন

 

♦ জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালাতেই হবে, তবে তাদের জীবিত ধরার চেষ্টা করতে হবে। তখন তাদের কাছ থেকে নেপথ্যের গডফাদারদের তথ্য আদায় করার সুযোগ তৈরি হয়। হত্যা করা হলে তথ্য লাভের কোনো সম্ভাবনা থাকে না। গোয়েন্দা তত্পরতা বাড়াতে হবে। বাড়ি বাড়ি খুঁজে তো আর জঙ্গি ধরা যাবে না।

মো. মহসীন সরকার

নয়নপুর, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

 

♦ জঙ্গি দমনে চলমান কৌশল আদৌ সঠিক নয়। জঙ্গি কাদের আশ্রয়ে হচ্ছে, তারা কোন পরিবারের সন্তান—এসবে নজর দিন। যাদের হত্যা করা হচ্ছে তারা সবাই কি জঙ্গি? সন্দেহভাজন হলে আত্মসমর্পণের সুযোগ দিতে হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মানবাধিকার লঙ্ঘন।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

♦ জঙ্গি দমনের নামে পুলিশ যেন কোনো ব্যবসা না ফেঁদে বসে। আমার এক নিকটাত্মীয় আলিয়া মাদরাসার ছাত্র। ট্রেন থেকে রাজশাহী স্টেশনে নামার পর পুলিশ তাকে আটক করে এবং আমাদের কাছে ফোন করে টাকা চায়। তা নাহলে জঙ্গি সন্দেহে চালান দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়। আমরা লোক মারফত ২৭ হাজার টাকা পুলিশকে দিয়ে ওই নিকটাত্মীয়কে ছাড়িয়ে আনি। পুলিশের এ ধরনের বাণিজ্যের ঘটনা নতুন নয়; ভুক্তভোগী অনেকেই আছেন, যাঁরা হয়তো ভয়ে মুখ খোলেন না। এ ব্যাপারে নীতিনির্ধারক মহলের কড়া নজরদারি আশা করছি। কোনো একটি প্রক্রিয়ায় অসততা ঢুকে পড়লে লক্ষ্য হাসিল করাই কঠিন হয়ে পড়ে।

এম এ মতিন

বেগুনবাড়ী, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

♦ জঙ্গি নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করুন।

সাব্বির মোহাম্মদ রহমান

ঢাকা।

 

♦ জঙ্গি দমনে চলমান কৌশল যথাযথ বলেই আমি মনে করি। কিন্তু আরো কঠোর হওয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। যানবাহন, স্টেশন ও নৌ প্ল্যাটফর্মগুলোয় তল্লাশি চালাতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো কঠোর হবেন—এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।

শিবু প্রসাদ মজুমদার

লেকসার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

 

♦ দেশে কর্মসংস্থানের অভাব কাউকে কাউকে বেপরোয়া করে তুলছে। স্বার্থান্বেষীরা এই সুযোগে তরুণদের তাদের দলে ভেড়াচ্ছে। অল্পবয়সীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনারও মিলন ঘটাতে হবে। নবীনদের বলব, সরকারের ওপর আস্থা রাখো—উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ বাড়বে। তোমরা বরং নিজেদের আরো যোগ্য করে তোলো, যাতে প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারো। সরকারকেও বলব, অনেক পদ ফাঁকা আছে। নতুনদের এই সুযোগে আত্তীকরণ করুন।

মো. শফিউল আজম

হালিশহর, এইচ ব্লক, চট্টগ্রাম।

 

♦ জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের নামে কোনো নিরীহ ও সাধারণ অসহায় মানুষ যেন হয়রানি ও গ্রেপ্তার না হয়।

এস এম সাইদুর রহমান উলু

বাবুপাড়া, এয়ারপোর্ট রোড, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

♦ জঙ্গি দমনে চলমান কৌশল যথাযথ নয়। সরকারের এতগুলো গোয়েন্দা বিভাগ থাকার পরও জঙ্গি নির্মূলে তেমন সাফল্য নেই কেন?

এস এম সাইফুল্লাহ্ খালেদ

 কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

♦ আমাদের বাহিনী যদি এভাবে কাজ চালিয়ে যায়, তাহলে জঙ্গিগোষ্ঠীরা কোনো দিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। চিরতরে জঙ্গি নির্মূলে সরকারের পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়।

শেখ মোহাম্মদ আলী

 তালতলা বাজার, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ।

 

♦ জঙ্গি দমনে সরকারের পদক্ষেপ তখনই সফল হবে, যখন সব নাগরিক এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সরকারকে সহযোগিতা করবে। এলাকার কোথায়ও জঙ্গিরা আস্তানা গাড়লে জনগণই প্রথমে আঁচ করতে পারে। তাই তথ্যটি জনগণকেই দিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ-র‌্যাবে আরো জনবল বাড়াতে হবে।

রিয়াজুল ইসলাম

দাপুনিয়া, ময়মনসিংহ।

 

♦ চলমান কৌশল সাময়িক সমাধান দেবে। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য দেশপ্রেম, মানবতাবোধ, নীতিবান ও কর্তব্যপরায়ণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

আলমগীর ইমন

সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম।

 

♦ জঙ্গি দমনে সরকারের কৌশলগুলো একেবারে সেকেলে। এতে না আছে প্রযুক্তিগত অগ্রসরতার দিক, না আছে উন্নত বিশ্বের কৌশল বাস্তবায়ন। বরং জঙ্গিরা ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষিত হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতেও পারে। পৃথিবীর উন্নত দেশের গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মতত্পরতা আমরা দেখি। তাদের কাছে আমাদের বাহিনীর প্রশিক্ষণ গ্রহণ দরকার।

ইসরাইল মোহন্ত

জাজিরা, শরীয়তপুর।

 

♦ জঙ্গিবিরোধী অভিযানে আমাদের আরো কৌশলী হতে হবে। গুলশান হামলায় ভোর পর্যন্ত কেন অপেক্ষা করা হলো? আগেই পাল্টা হামলা চালানো হলে নিহতের সংখ্যা হয়তো এত বেশি হতো না। সর্বশেষ জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সাফল্য এসেছে। বাড়ির মালিকের সচেতনতাও এখানে প্রশংসনীয়। তিনি খবর না দিলে পুলিশ জানতেই পারত না বাড়িটিতে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে। এমন আরো অনেক বাড়িতে জঙ্গিরা নিশ্চয়ই আত্মগোপন করে আছে। তাদের ধরে দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকেও চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।

মোহাম্মদ আলী

বোরহানপুর, হাজারীবাগ রোড, ঢাকা।

 

♦ বর্তমান কৌশল যথাযথ আছে, তবে পদ্ধতিগত উন্নতি প্রয়োজন।

হাবিবুর রনি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

 

♦ সন্দেহভাজন জঙ্গিদের জীবিত ধরার বিশেষ চেষ্টা পুলিশ বাহিনীর নেই? তা সত্ত্বেও এসব অভিযান যে মানুষের মনে স্বস্তি এনে দিচ্ছে, জঙ্গি তত্পরতায় লাগাম টানতে পারছে, তা পরিষ্কার? কিন্তু এটাই কি একমাত্র সমাধান? ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো যে বিষাক্ত মতাদর্শ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছে, সেটা দমনের উপায় খুঁজে বের করা আগে জরুরি।

বর্তমানে যেভাবে পশ্চিমা বাহিনীর অভিযান চলছে, তাতে অচিরেই শেষ হয়ে যাবে ইরাক ও সিরিয়ার কিছু অংশে থাকা ইসলামিক স্টেটের দখলদারিত্ব? জঙ্গিগোষ্ঠীটির পক্ষে সেভাবে সংগঠিত হওয়া হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আর সম্ভব হবে না। কিন্তু থেকে যাবে তাদের ছড়িয়ে দেওয়া বিষাক্ত মতাদর্শ? এই মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াইটা তাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যেখানে ইউরোপই হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমাদের বাংলাদেশ কি তৈরি? এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে অতীতের তুলনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে আমার কাছে মনে হয়।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

♦ জঙ্গি দমনে চলমান কৌশল যথাযথ নয়। মুখোশধারী অনেক জঙ্গি লুকিয়ে আছে আমাদের চারপাশে। তারা অপেক্ষায় রয়েছে ঝোপ বুঝে কোপ মারার। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্কে ভুগছি। রাস্তায় বেরোতে আমাদের ভয় হয়। স্বাধীন বাংলায় আমরা পরাধীন।

বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে আমরা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করি। সেখানে জঙ্গি আতঙ্ক একটি ভয়াবহ ও লজ্জাজনক ব্যাপার। ধর্ম আমাদের শান্তির শিক্ষা দেয়, যা আমাদের মানবতাবোধে সহায়তা করে। সেই  ধর্মের দোহাই দিয়ে, ধর্মকে ফোকাস করে সাধারণ মানুষকে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে জঙ্গি মতামত। আমাদের স্বাধীন বাংলা ধর্ম নিয়ে হানাহানি আশা করে না। ধর্ম মানবতার জন্য, একে অপরের পাশাপাশি চলার জন্য, নীতিবোধের জন্য। প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবশ্যই এ দিকগুলো খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের দেশ হবে শান্তির। যেখানে সবাই স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারবে নির্ভয়ে। সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জঙ্গি দমনে শান্তিরক্ষা বাহিনী ও পুলিশকে আরো কঠোর ও বুদ্ধি দ্বারা কাজ করতে হবে। সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। অন্য কোনো দেশের রাজনীতি বা উসকানিমূলক চিন্তাভাবনা থেকে নিজেদের সাবধান থাকতে হবে।

ফারজানা মণি

গৌরীপুর, ময়মনসিংহ।

 

♦ উগ্র মতবাদে বিশ্বাসী মৌলবাদী জঙ্গিরা আবার বিভিন্ন কৌশলে অপতত্পরতা চালানোর চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে তত্পর হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে আসছে, তারা অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জনের জন্য রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান লুটেরও পরিকল্পনা করছে। এ জন্য তারা মূল দল থেকে আলাদা হয়ে নতুন নামে দল গঠন করে সারা দেশে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে। ছদ্মবেশে নাশকতার পরিকল্পনাও নাকি রয়েছে তাদের। তাই চলমান কৌশল বদলাতে হবে।

জসিম উদ্দিন

ছাগলনাইয়া, ফেনী।

 

♦ জঙ্গি দমনে বিশেষ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। জনগণ বিশেষ করে বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।

সাহিদা সাম্য লীনা

পশ্চিম উকিলপাড়া, ফেনী।

 

♦ গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকরী ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে জঙ্গিবাদের লাগাম অনেকটাই টেনে ধরা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। তাই যদি জঙ্গিবাদ দমনের দিকেই মনোযোগ দেওয়া হয়, তবে তা হবে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। জেএমবির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসি দেওয়া হলেও নব্য জেএমবি নামে তারা আবার সংগঠিত হয়ে নতুন করে অরাজকতার সৃষ্টি করছে। তাই জঙ্গিবাদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলার জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই।

 এম এ শাক্কুর আলম

 জিনজিরা, ঢাকা।

 

♦ জঙ্গি দমনে চলমান কৌশলের পাশাপাশি প্রশাসনিক ভিত্তি আরো মজবুত করতে হবে। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। জঙ্গিবাদ যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য তৃণমূল থেকে এর নিধন করতে হবে। শিল্প-সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। সর্বোপরি নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান হতে হবে।

শাহীন রেজা

এয়ারপোর্ট রোড, বিজয়নগর, চট্টগ্রাম।

 

♦ জঙ্গি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি এবং চলমান কৌশল প্রশংসা পেলেও বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে তা অপ্রতুল। ধর্মভিত্তিক, সামাজিক, রাজনৈতিক বিদ্যমান কৌশলের সঙ্গে গৃহীত কৌশলের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সমন্বিত কৌশল ছাড়া সফলতা আসবে না।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

♦ জঙ্গি দমনে প্রশাসনের সফলতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আরো শতভাগ সফলতা অর্জনে দেশের জনসাধারণের প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।  

মো. হুমায়ুন কবির বাবু

দক্ষিণ বানিয়াগাতি, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

 

♦ জঙ্গি দমনের নামে এখন অনেককেই ধরা হচ্ছে। কিন্তু আদৌ তারা জঙ্গি কি না বা সরকারকে দেখানোর জন্য এটা আইওয়াশ কি না তাও দেখা দরকার। যারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে প্রকৃত জড়িত তাদের যেন ধরা হয়। নিরীহ লোকজন যেন হয়রানির শিকার না হয়।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

♦ জঙ্গি দমনে প্রশাসনিক অবস্থান লক্ষ করার মতো। একইভাবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও লড়ার আশা করছি।

 মো. আজিনুর রহমান লিমন

আছানধনী মিয়াপাড়া, চাপানীহাট, ডিমলা, নীলফামারী।

 

♦ জঙ্গি নাটকের স্ক্রিপ্ট খুব দুর্বল! জঙ্গিবাদের নামে সরকার রীতিমতো নাটক করছে। গাজীপুরসহ দেশের অনেক স্থানে জঙ্গি নিধনের ঘটনায় দেখা গেছে, যাদের মারা হয়েছে তারা আগে থেকেই পুলিশ-র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার অবস্থায় ছিল। এরপর নাটকীয় কায়দায় তাদের জঙ্গি হামলার নামে হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের এই নাটকের স্ক্রিপ্টটি এতই দুর্বল যে জনগণকে ফাঁকি দেওয়া যাচ্ছে না। তারা এসব চালাকি বুঝে ফেলছে।

বিপুল হাসান

 বড়াইগ্রাম, নাটোর।

 

♦ কেবল অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের মূলোত্পাটন করা যাবে না। সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে জঙ্গিবাদের জীবাণু ধ্বংস করতে হলে সক্রিয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার। যেসব জঙ্গি মারা গেছে, তাদের বেশির ভাগই তরুণ। এই তরুণসমাজকে সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে রাখার দায়িত্ব পরিবারের।

আবদুল মোতালেব ভূঁইয়া

ছয়ানী টবগা, চাটখিল, নোয়াখালী।

 

♦ জঙ্গি দমনে বর্তমানে যে কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ যথাযথ বলে মনে হয় না। আরো শিকড়ের সন্ধানে যেতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

♦ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেষ্টায় জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও নির্মূল করা সম্ভব হবে না। এর জন্য ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিরও প্রয়োজন রয়েছে। যারা দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য রাজনীতি করেন, তাঁদের অবশ্যই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা উচিত। দলের সব নেতা, কর্মী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে, পাড়ায়-মহল্লায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের দেশের মানুষ অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ কিন্তু  ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় কুসংস্কারে বিশ্বাসী নয়। জনগণ বিচার করতে পারবে কারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করেন আর কারা শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেন।

বিপ্লব

ফরিদপুর।

 

♦ জঙ্গিদের কোনো ধর্ম হয় না। তারা সব ধর্মের, সব দেশের, সব জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ। জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারকে হার্ডলাইনে থাকতে হবে।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।

 

♦ বর্তমান কৌশল ঠিক। আরো কঠোর হতে হবে।

মোশাররফ হোসেন স্বাধীন

খুলনা।

 

♦ গত ৭ মার্চ কুমিল্লায় এবং ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানার কথা জানা যায়। তাহলে আমাদের গোয়েন্দারা করছেটা কী? জনগণের মাধ্যমে কেন খবর পেতে হবে?

আবদুল্লাহ আল ইসলাম

 সদর উপজেলা, বাগেরহাট।

 

♦ জঙ্গি দমনে চলমান কৌশল যথাযথ নয়। সরকারের এত গোয়েন্দা বিভাগ থাকার পরও জঙ্গি নির্মূলে তেমন সাফল্য নেই কেন? জঙ্গি সম্পর্কে তথ্য প্রদানকারীর গোপনীয়তা নিশ্চিত করা গেলেই দেখা যাবে সাধারণ মানুষ তথ্যদানে এগিয়ে আসছে। তথ্য প্রদানকারীর জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা যায়। প্রয়োজনে ইউপি মেম্বার-চেয়ারম্যানদের ব্যবহার করা যেতে পারে। জঙ্গিদের অর্থের উৎস খুঁজে বের করে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করাও দরকার।

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

♦ রাজশাহীর বাঘায় আমার বাড়ি। কিছুদিন আগে রাজশাহী এয়ারপোর্টের গেটে আমাদের বহনকারী পিকআপ থামিয়ে পুলিশ সাতজনের মধ্যে কাউকে কিছু না বলে আমাকে নামায়। সম্ভবত আমার মুখে দাড়ি আছে বলেই তাদের কিছু সন্দেহ হচ্ছিল। তারা মানিব্যাগ থেকে শুরু করে সারা শরীর তল্লাশি করে। আমি পুলিশকে প্রশ্ন করেছিলাম, আমার মুখে দাড়ি আছে বলেই কি আমাকে সন্দেহ করছেন? তারা কোনো উত্তর  দেয়নি এবং একপর্যায়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবে, কিন্তু মানুষকে যেন খামাখা হয়রানি না করা হয়।

ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশীদ

কমলপুর, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।

 

♦ এ কাজে কোনো ঢিলা দেওয়া চলবে না। অতীতে প্রশাসনিক শৈথিল্যের কারণে অনেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

♦ জঙ্গি দমনে আমাদের প্রশাসন যন্ত্রকে অবশ্যই আরো গতিশীল হতে হবে। সরকারের ভেতর দুর্বলতা থাকলে, অনৈক্য থাকলে জঙ্গিরা তারও সুযোগ নেবে। সর্বশেষ সীতাকুণ্ডে চার জঙ্গির আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা তাদের বেপরোয়া মনোভাবকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার বিভিন্ন জেলায় সফর শুরু হওয়ার পর কেউ ষড়যন্ত্রে নেমেছে কি না তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

কুমারেশ চন্দ্র

বাসশ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

 

♦ দল-মত নির্বিশেষ সবাইকেই জঙ্গিবাদ দমনে যার যার জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

রাজদীপ দাস

কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।

 

♦ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরো কঠোর নৈতিক অবস্থান থেকে জঙ্গি দমন কৌশল নিলে সাফল্য আসবেই।

আবদুর রাজ্জাক নাছিম

চান্দাইকোনা, শেরপুর, বগুড়া।

 

♦ জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতা ও সরকারি সহায়তা প্রশংসার যোগ্য। তবে গণতান্ত্রিকভাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সরকার ব্যবস্থা চালু থাকলে জঙ্গিবাদ এতটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠত না বলে মনে করি আমি।

মো. ফখরুল ইসলাম টিপু

সেনবাগ, নোয়াখালী।

 

♦ সেদিন আতঙ্কগ্রস্ত এক পরিবারকে দেখলাম। কথায় কথায় জানলাম, তাদের চার ছেলে-মেয়ে। দুজন কোরআনে হাফেজ।

পুরো পরিবার দ্বীনদার। গত বছরের জঙ্গি হামলার চক্রান্তের শিকার হয়ে সন্দেহজনকভাবে পুলিশ তাদের বড় ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। সে যে জঙ্গি না, তা প্রমাণ করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ঘটনাটি জেনে খুবই খারাপ লাগল। উপযুক্ত আইনের অভাবে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।

রাকিবুল প্রিয়

রূপসা, সিরাজগঞ্জ।


মন্তব্য