kalerkantho


‘ধিক্কার’ দিবস হোক

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সম্প্রতি সংসদে ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ পালনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলম্বে হলেও প্রস্তাবটি যুক্তিসংগত ও গ্রহণযোগ্য।

এটি দেশবাসীও সমর্থন করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী দীর্ঘ ৯ মাস আমাদের দেশে যে গণহত্যা, নারী নির্যাতন ও নারী ধর্ষণের মতো জঘন্য অপকর্ম চালিয়েছিল, তা ইতিহাসের সব বর্বরতাকে হার মানিয়েছিল এবং গিনেস বুকে পঞ্চম গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির সমর্থকরা ক্ষমতায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে চরমভাবে বিকৃত করে। এর ফলে আমাদের তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ এবং বিদেশিদের মধ্যে অনেকেই এখনো রাজাকার, আলবদর ও পাকিস্তানি বাহিনীর মানবতাবিরোধী ভয়ংকর অপরাধ ও নৃশংসতা সম্পর্কে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। পাকিস্তানিরাও অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের দেশের জনগণকে তাদের দ্বারা সংঘটিত জঘন্য অপরাধের বিষয়ে কিছু জানতে দেয়নি। তারাও নানাভাবে দেশ-বিদেশে অপপ্রচার চালিয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এখন পাকিস্তানকে ধিক্কার জানানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তারা ১৯৭১ সালে যে জঘন্য অপরাধ করেছিল তার কোনো ক্ষমা নেই। প্রতিবছর ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশের দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এবং বিশ্বের যেখানেই বাঙালি আছে সেখান থেকেই পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা ও ধিক্কার জানাতে হবে। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের পরিচয়সহ বর্বরতার সচিত্র বর্ণনা বিশ্ববাসীকে জানাতে হবে।

 

বিপ্লব

ফরিদপুর।


মন্তব্য