kalerkantho


ঘৃণা দিবস হিসেবে পালনই হবে যথার্থ

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঘৃণা দিবস হিসেবে ২৫ মার্চকে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে ওই নৃশংসতার নায়ক পাকিস্তান আজকে তাদের দায় বাঙালির কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। নিজের অপরাধ স্বীকার করার সাহস তাদের নেই। তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নয়, আমাদের ত্যাগের কথা প্রতিষ্ঠা করার জন্যই ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস কিংবা পাকিস্তান ঘৃণা দিবস হিসেবে জাতীয়ভাবে পালন করা অতি জরুরি বলে মনে করি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ও মানবিকতাকে লালন করার বড় শিক্ষাও এই ২৫ মার্চ। নতুন প্রজন্মকে দেশাত্মবোধ ও মানবিকতা শিক্ষায় এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কিছু হতে পারে না। এই মুহূর্তে যদি ঘৃণা দিবস হিসেবে ২৫ মার্চ উদ্যাপনে আপত্তি থাকে, তাহলে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। বিশ্বে বড় বড় গণহত্যাগুলো যেসব দেশে সংঘটিত হয়েছে প্রায় প্রতিটি দেশেই গণহত্যা দিবস পালনের প্রমাণ আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে নৃশংসতম ঘটনাকে স্মরণ করে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের ঘটনাকে প্রজন্মান্তরে জানানোর জন্য এ বছর থেকেই ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করি। এরই মধ্যে আমাদের জাতীয় দিবসগুলো পালনের ক্ষেত্রে কিছুটা নতুন ধারার সংযোজন করেছে বর্তমান সরকার। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, জাতীয় শোক দিবসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দিবসগুলো পালন করে।

নতুন সংযোজন প্রশংসনীয়। প্রস্তাবিত গণহত্যা দিবস পালনের জন্যও তেমনি নতুন বিষয় যুক্ত হতে পারে। একাত্তরে নির্যাতিত আহত কিংবা নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করেছেন এমন কাউকে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত করে তাঁর মুখ থেকে একাত্তরের কথা শোনানোর ব্যবস্থা করতে পারলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি নৃশংসতার কথা জানতে পারবে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ হিসেবে ভুক্তভোগী কিংবা প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণিত নৃশংসতাকে শিক্ষার্থীরা অনুভূতিসহ নিজের ভাষায় প্রকাশের ব্যবস্থা করবে। এমন সুযোগটি নষ্ট করা ঠিক হবে বলে মনে হয় না। আর এ বছর থেকেই গণহত্যা দিবস হিসেবে ২৫ মার্চকে স্মরণ করা শুরু হোক। এর জন্য সরকারি ছুটির প্রয়োজন নেই। সব কার্যক্রম সচল রেখেই ব্যাপক আকারে দিবসটিকে পালন করা সম্ভব। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা থাকতে পারে।

 

এস এম সাইদুর রহমান উলু

বাবুপাড়া, এয়ারপোর্ট রোড, ঈশ্বরদী, পাবনা।


মন্তব্য