kalerkantho


শাস্তির অনুপস্থিতি সড়কে নৈরাজ্য বাড়াবে

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



► শ্রমিকরা পুলিশ বক্স পোড়াল, পুলিশের ওপর হামলা চালাল, ব্যক্তিগত গাড়িও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে।

বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। ৩৫ হাজার আহত হয়, তাদের অনেকেই পুঙ্গত্ব বরণ করে। দুর্ঘটনার পর চালক পলিয়ে যায়। যদি তাকে আইনি ব্যবস্থায় না আনা যায়, তাহলে জনগণের মধ্যে আইন হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি কি চালু হবে না? তখন সড়কপথে অরাজকতা বৃদ্ধি পাবে। মানিকগঞ্জের মামলার রায়ে চালকের যাবজ্জীবন জেল দেওয়াকে ইস্যু করে ১০ জেলায় ধর্মঘট চলছিল। সাভারের তেঁতুলজোড়ায় এক নারীকে তাঁর বসতবাড়ির সামনে ট্রাকচাপা দিয়ে খুন করা হলো। ওই নারী তাঁর স্বামীসহ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাকে করে মাটি বহনে বাধা দিয়েছিলেন। এ ঘটনার মামলার রায়ে বিচারক মৃত্যুদণ্ড দিয়ে বলেছেন, এটা দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ওই দিন রাতেই বাস মালিক ও শ্রমিকরা সিদ্ধান্ত নিল, সারা দেশে পরিবহন চালানো বন্ধ করে দাও। সরকারের প্রভাবশালী লোকজনই ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের নেতৃত্বে, তারা ধর্মঘটের পক্ষে কথা বলেছে, অবস্থানও নিয়েছে। পরিবহন খাতের অপকর্মের পেছনে বিআরটিএ খানিকটা দায়ী। অযোগ্য, অথর্ব অনেক চালককে তারা লাইসেন্স দিয়েছে গাড়ি দুর্ঘটনায় মানুষ হত্যার জন্য। তা ছাড়া পুলিশ তল্লাশির নামে চাঁদাবাজি তো আছেই! নিয়ন্ত্রণ সংস্থার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হবে, জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে। জেলা পর্যায়ে পরিবহন শ্রমিকদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে জাতিসংঘ ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নিরাপদ সড়ক অবকাঠামোর একটি ঘোষণা তৈরি করেছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ কি আদৌ কোনো পরিকল্পনা নিয়েছে? সরকারকে এ ব্যাপারে জাতিসংঘের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে অর্থ ও জনবল শক্তি বাড়াতে হবে।

 

মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।


মন্তব্য