kalerkantho


চালকসহ সবাই আইন মানতে বাধ্য

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চালকসহ সবাই আইন মানতে বাধ্য

অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দুই চালককে শাস্তি দেন নিম্ন আদালত। রায়ে অসন্তুষ্ট হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ ছিল। এর বদলে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অনেক চালক নেশা করে গাড়ি চালান। মালিকরাও চালকদের বেশি ট্রিপে বাধ্য করেন। ফলে দুর্ঘটনা এড়ানো যায় না। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোনে ও ই-মেইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। একজন চালকও ফোনে বলেছেন, স্বেচ্ছায় কেউ কুকুরও চাপা দেয় না। তাঁর কথা—খারাপ সড়কের জন্যও অনেক দুর্ঘটনা ঘটে, তাই দায়টা সবার

 

► সরকারেরই দায়িত্বশীল কিছু মানুষ সাপ হয়ে দংশন করছে, ওঝা হয়ে ছাড়ছে, এটা কি হয়? ধর্মঘট ডাকলেই মানুষকে মেনে নিতে হবে—তা হয় না। আইনের প্রয়োগ না করা গেলে চালক-শ্রমিকরা আরো বেপরোয়া হয়ে যাবে। আদালত শাস্তিযোগ্য অপরাধ পেয়েই দুই চালকের শাস্তি দিয়েছেন।

এর মধ্যে এক চালক তো ঝগড়ার সময় ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এক দম্পতির ওপর গাড়ি চালিয়ে দিয়েছিলেন। তা অগ্রাহ্য করাও কি অপরাধ নয়? মাদক গ্রহণ করে কিংবা মোবাইলে কথা বলতে গিয়ে আপনি মানুষ মারবেন, তার শাস্তি হবে না?

মোহাম্মদ আলী

বোরহানপুর, হাজারীবাগ রোড, ঢাকা।

 

► পরিবহন বিভাগ আগে থেকেই অরাজক অবস্থায় আছে। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল দুই পক্ষের লোকজনই মিলেমিশে যাত্রীসাধারণকে জিম্মি করে রাখে। এক চালকের যাবজ্জীবন, আরেকজনের মৃত্যুদণ্ডের পর রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে, কিংবা আপিল করার দিকে না গিয়ে এই যে নৈরাজ্য চালানো হলো তারও শাস্তি হতে হবে। শক্ত হাতে সার্বিক ব্যাপারটি সামাল দিতে হবে। আমি আরো ভুগতে রাজি আছি, কিন্তু এই অরাজকতা মানব না। সবাইকে খুঁজে বের করে শাস্তি দিন। ইন্ধনদাতাদেরও তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনুন। পরিবর্তন আসতে হবে। জিম্মি করার সংস্কৃতি থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► সড়কে নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপ অপ্রতুল। গত ১০ বছরে যে পরিমাণ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ও আহত হয়েছে, এর জন্য পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরাই দায়ী। অথচ তাদের বিরুদ্ধে আশানুরূপ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। জনৈক মন্ত্রীর বাসায় বৈঠক করে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারেই ধর্মঘট হয়েছিল, এ জাতীয় খবর আমাদের উদ্বিগ্ন করে। সমস্যা এত গভীরেই যদি থাকে, সমাধান আর হবে কী করে। বরং ভাড়া বৃদ্ধির কৌশল হিসেবেই এসব হলো কি না, তা জানার জন্য এবং আরো বেশি দুর্ভোগের জন্য যাত্রীসাধারণকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

হরেন্দ্রকুমার নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► যে যে পেশায় থাকুক না কেন, তাকে জবাবদিহি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য কিছু মানুষ রাজনীতির নামে জনগণকে জিম্মি করবে এবং নজিরবিহীন তাণ্ডব চালাবে—এটি কখনোই কেউ সমর্থন করে না। আমরা দেখলাম ২৭, ২৮ ফেব্রুয়ারি পরিবহন শ্রমিকদের একচেটিয়া মনোভাব। তারা কোনো আলোচনা এবং আইনের প্রতি কোনো রকম শ্রদ্ধা দেখায়নি। যে মানুষটি সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়ে গেছে তার পরিপ্রেক্ষিতেই চালকের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। সেই রায় যদি চালক অথবা তার সংগঠন মেনে নিতে না চায়, তাহলে ঊর্ধ্বতন বিচারব্যবস্থা আছে। সেখানে আপিলের সুযোগ আছে। আরো যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ আছে। কিন্তু তারা সেটা না করে একটি রায়কে কেন্দ্র করে সমগ্র দেশের মানুষকে জিম্মি করল। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া, অ্যাম্বুল্যান্সের চালককে মারধর এবং প্রাইভেট কারের যাত্রী ও চালককে হুমকি—এসব আমাদের দারুণ আহত করেছে। আন্দোলনের নামে যারা আইনকে নিজেদের ইচ্ছেমতো চায়, সরকার তাদের কাছে হেরে যাবে, এটাও কোনোভাবে কাম্য নয়। আমরা দেখেছি গাবতলীতে পুলিশের গাড়ি জ্বলছে এবং অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে কোনো পুলিশ ছিল না। তারা নিরাপদ দূরত্বে দায়িত্বে থেকে পরিবহন শ্রমিকদের তাণ্ডব দেখেই ক্ষান্ত থেকেছে। এ অবস্থা উত্তরণের জন্য অবশ্যই সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিজেদের ও যাত্রীদের স্বার্থ সংরক্ষণে এক হয়ে কাজ করতে হবে। যেসব সড়কে ও যতগুলো পয়েন্টে শ্রমিকরা তাণ্ডব করেছে, সেসব জায়গায় পুরনো পুলিশ অপসারণ করে নতুন পুলিশ নিয়োগ করা যেতে পারে। এ বিষয়টিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ওয়াহিদ মুরাদ

স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর।  

 

► অপরাধীদের শাস্তি প্রয়োগের কারণে আইন উপেক্ষা করে সারা দেশের শ্রমিক পরিবহন ধর্মঘট বড় অমানবিক। এতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়েছে গণমানুষ। এই অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক না কেন কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।

মো. আব্দুর রাজ্জাক নাছিম

পরিবেশকর্মী, শেরপুর, বগুড়া।

 

► মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও সুশাসন চায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবহন নেতারা কথা বললে তাত্ক্ষণিক সমাধান হয়ে যেত। কয়েক কোটি মানুষকে কয়েক দিন দুর্বিষহ ভোগান্তিতে পড়তে হতো না। যানচলাচল বন্ধ থাকায় নিত্যপণ্যের দরও বেড়ে যায়। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য তথা অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। আদালতে রায়ের রিরুদ্ধে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি আমরা কতটা সহ্য করব, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

► সমস্যার গোড়ায় যেতে হবে আগে। ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে অরাজকতার একটি ঘটনা জানাতে চাই। আমার এক কাজিনের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তাঁর গাড়ি চালানোর দক্ষতা আছে। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার সময় যখন সনদের প্রয়োজন পড়ল বিআরটিএর লোকজন গড়িমসি শুরু করে দিল। আমার কাজিন এখনো সনদ পাননি। অথচ অনেকে লেখাপড়া ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে বলব, অনেক হয়েছে। নড়েচড়ে বসুন। জনগণের স্বার্থ দেখুন। পত্রিকা খুললেই এত মৃত্যুর খবর। আগামীকাল আমিও মারা যাব কি না কে জানে! যিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন, তাঁর সেই মানসিক যোগ্যতা আছে কি না। রাষ্ট্র আমাদের অভিভাবক, তাদের থেকে সদুত্তর আসতে হবে, তারা আমাদের সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে কি পারবে না। বড় নেতাদের কেউ মারা গেলেই হৈ-হুল্লোড় পড়ে যায়। কিন্তু এত প্রাণহানির পরও আমরা উচ্চবাচ্য করি না।

মোহাম্মদ নাজিম আদি

সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।

 

► ধর্মঘট না ডেকেও পরিবহনের লোকজন তাদের দাবিটি জানাতে পারত। তারা সড়ক, মহাসড়কে মানুষের প্রাণহানি ঘটাবে, আর তাদের বিচার হবে না—এটা কি কোনো দেশে আছে? থাকতে পারে? তারা মৃত্যুফাঁদ পেতে আমাদের মারবে, বিচার করতে গেলে ধর্মঘট ডেকে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলবে—এ কেমন কথা? তারা ভুয়া লাইলেন্সে গাড়ি চালায়, অসতর্কভাবে বা ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি খাদে ফেলে, এর শাস্তি তাদের পেতে হবে না?

ফিটনেসবিহীন গাড়ি নামিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর দায় কি তাদের নয়? চালকদের শিক্ষিত হতে হবে। আইন মেনে গাড়ি চালাতে হবে। মালিকদেরও সচেতন হতে হবে। মালিক-চালক কেউই যাত্রীদের কিংবা আইনি ব্যবস্থাকে জিম্মি করতে পারবে না। সরকারকে পরিবহন আইন পুরোপুরি কার্যকর করতে হবে। নৈরাজ্য যারাই করুক, ছাড় দেওয়া যাবে না।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► কথায় কথায় ধর্মঘট আহ্বান করা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রামক ব্যাধির মতো। সরকারও অনেক ক্ষেত্রে অসহায়। দোষী চালকের শাস্তি হয়েছে। অসন্তুষ্ট হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার অবকাশ রয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী সংগঠনগুলো আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজপথে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। পেশি শক্তিবলে সব কিছু অর্জন করতে চাওয়া—এই নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। যারা আদালত মানে না তারা দেশদ্রোহী। দেশদ্রোহী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সরকার কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেবে না, জনগণ বুঝতে পারছে না। এবার এই ধর্মঘটের কারণে তিন হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। যানবাহন মালিকরা কি এই ক্ষতিপূরণ দেবে? সরকার ও প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে এজাতীয় বিষয়ে। প্রধানমন্ত্রী অন্যায়ের কাছে মাথানত করেন না বলেই দুই দিনের মাথায় ধর্মঘটকারীদের বাধ্য করেছেন গাড়ি চালাতে।  

মো. নুরুজ্জামান

আশুলিয়া, ঢাকা।

 

► কথায় কথায় পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট দেওয়া খুবই অযৌক্তিক। তাদের ধর্মঘটের কারণে মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এবারের ধর্মঘট তারা ডেকেছিল একেবারে অযৌক্তিক কারণে। এর দ্বারা পরিবহন শ্রমিকরা প্রমাণ করার চেষ্টা করল, তারা দেশের আইন মানে না। দেশের বিচারব্যবস্থাও তারা মানবে না। কিন্তু এটা তারা একবারও ভাবে না যে তাদের একটি দুর্ঘটনার কারণে শত শত লোক মারা যায়। একজন মানুষের সঙ্গে একটি পরিবার পথে বসে। ফলে একজন মারা গেলে তার সঙ্গে পুরো পরিবারটিই ধ্বংস হয়ে যায়। এবার এত বড় অবরোধের পেছনে হয়তো কোনো একজন ইন্ধনদাতা আছে। তাকে খুঁজে বের করতে হবে। এর জন্য সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। চালকরা যে অদক্ষ, তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই—এটা পুলিশকে বলতে গেলেই তারা উল্টো ঝামেলা বাধায়। তাই পুলিশকেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। আইনের চোখে সবাই সমান। রাস্তায় চালকরা প্রায়ই প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালায়। এই প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। যারা এবার ধর্মঘট দিয়ে জনগণকে সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলল, তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

মোহাম্মদ আলী

সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ।  

 

► চালকের অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণেই পরিবহন দুর্ঘটনা ঘটে। এর পরও বিচার হতে হবে। তাদের থেকে ক্ষতিপূরণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতাহত পরিবারকে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশোধিত আইন প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি।

মোহাম্মদ জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো দাবি-দাওয়া আদায় কিংবা প্রতিবাদের একমাত্র পথ হয়ে গেছে অবরোধ ও ধর্মঘট, পরিবহন ধর্মঘটও এর ব্যতিক্রম নয়। সাম্প্রতিক সময়ে আদালতের এক রায়ের বিরুদ্ধে সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট ডেকে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেন পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এই ধরনের ধর্মঘট সত্যিই অনাকাঙ্ক্ষিত। যেহেতু মহামান্য আদালতের রায় নিয়ে এই ধর্মঘট, তাই দেশের জনগণকে বিপদে না ফেলে আইনিভাবে লড়াই করা উচিত ফেডারেশনের।

এস এম রওনক রহমান আনন্দ

বিমানবন্দর সড়ক, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

► পরিবহন ধর্মঘটের নামে অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা এবং সর্বোপরি রায়ের বিরুদ্ধে সারা দেশে অচলাবস্থার সৃষ্টি করা আদালত অবমাননার শামিল। ধর্মঘটের নামে হম্বিতম্বি না করে সঠিক উপায়ে আদালতে আইনিভাবে লড়ুন। সরকারকেও এই বিষয়ে কঠোর আইন পাস করতে হবে, যাতে করে ভবিষ্যতে এই কাজ করার সাহস না হয় পরিবহন শ্রমিকদের।

এস এম সাইদুর রহমান উলু

এয়ারপোর্ট রোড, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

► যদি কোনো চালক ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মানুষ হত্যা করে, সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অন্য দিকে কোনো অনভিজ্ঞ বা ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই কোনো চালক যদি গাড়ি চালাতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটায় বা দেশের প্রচলিত ট্রাফিক আইন অমান্য করে গাড়ি চালায়, সে ক্ষেত্রেও তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। চালকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, হতাহতের ঘটনাও ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রে চালকের শাস্তি কী হবে তা বিজ্ঞ আদালতেই নির্ধারিত হবে। আমাদের দেশের সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালককে দায়ী করা যাবে না, কারণ এর পেছনে আরো অনেক পক্ষেরই গাফিলতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলা থাকে। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে অনেক সময়ই অনভিজ্ঞ ও অযোগ্য চালকরাও ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে যায়। একজন চালক অভিজ্ঞ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত কি না তা দেখার দায়িত্ব অনেকাংশেই মালিকপক্ষের ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এ ব্যাপারে মালিকপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও যথেষ্ট গাফিলতি রয়েছে। দেশে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ সড়ক রয়েছে। যেগুলোর সংস্কার ও মেরামতের দায়িত্ব সড়ক বিভাগের। এ ব্যাপারেও অনেক গাফিলতি লক্ষ করা যায়। সুতরাং সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালককে দায়ী করা হলে বা কঠোর শাস্তি দিলে এই সমস্যার কোনো সমাধান হবে না। সব পক্ষকেই বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিপ্লব

ফরিদপুর।  

 

► দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করা আবশ্যক।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।

 

► ইচ্ছা করে কেউ কখনো দুর্ঘটনা ঘটায় না। উভয় পক্ষে সমঝোতার মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের শাস্তি কিছুটা কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

রাকিবুল প্রিয়

রূপসা, সিরাজগঞ্জ।

 

► সর্বশেষ পরিবহন ধর্মঘট প্রকারান্তরে আইন ও রাষ্ট্রকে অবজ্ঞারই নামান্তর। পরিবহন ধর্মঘটের নামে যারা বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা তৈরি করেছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা উচিত। পরিশেষে আদালতের রায়ের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করছি।

মো. ফখরুল ইসলাম (টিপু)

সেনবাগ, নোয়াখালী।

 

► পরিবহন ধর্মঘটে দেশের কোটি কোটি মানুষ চরম ভোগান্তির স্বীকার হয়। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

► দেশের পরিবহন খাত সত্যিকার অর্থেই আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। পঞ্চাশের দশকের লক্কড়ঝক্কড় মার্কা সেই বেডফোর্ড ট্রাক এখনো দেশব্যাপী চষে বেড়াচ্ছে। মুড়ির টিন মার্কা বাস-মিনিবাস এখনো ঢাকার বুকে সদর্পে চলাচল করছে। রাজনীতির মোল্লা-শেখদের জংধরা ফিটনেসবিহীন গাড়িতে হাত লাগানোর ক্ষমতা কি কারো আছে? তা ছাড়া চেয়ারে তো বড়দা বসেই আছেন।

জালাল উদ্দিন আহমেদ

তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

 

► পরিবহন খাতের মতো স্পর্শকাতর সেবা খাতে ধর্মঘট চলবে না। দুর্ঘটনা ঘটাবে, তারপর বাড়াবাড়ি করবে—এ হয় না। সবাইকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।

এম এ মতিন

বেগুনবাড়ি, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► রঙে ভরা বঙ্গ দেশে রঙেরই মেলা। অন্যায়ের উপযুক্ত বিচারের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকার অর্থ দেশে কোনো প্রশাসনেরই অস্তিত্ব নেই! আসুন জনগণের শাসন কায়েম করতে সবাই তৎপর হই।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► পরিবহন ধর্মঘটে যে ক্ষতি হয়েছে তা সামগ্রিক মানবতার। পরিবহন মালিক কারা? যাদের আমরা ভোট দিয়ে নির্বাচন করি, অনেক সময় তারাই। তবে কি এ ভোগান্তির দায় তাদের ওপর পড়ে না?  অনেক চালকই রয়েছে, যারা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালা এবং তারা যদি দুর্ঘটনা ঘটায় তবে কি তাদের শাস্তি প্রাপ্য নয়? সবাই মিলেই আমরা দেশের জনগণ। যদি আইনের সঠিক প্রয়োগ সম্ভব হয় তবে দুর্ঘটনা কমে যাবে অনেক।  

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► সড়কের শৃঙ্খলার জন্য বেশি বেশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করুন। যারা যাত্রী ভোগান্তির জন্য দায়ী, তারা নিজেদের যাত্রীর পর্যায়ে রেখে চিন্তা করলে বুঝতে পারবে কতটা অমানবিক কাজ তাদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► গুটি কয়েক চালকের সাজার জন্য আদালত অবমাননাকর পরিবহন ধমর্ঘট হতে পারে না কোনোভাবেই। পরিবহন শ্রমিকরা সাজার বিপরীতে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারত।

মো. আতিকুল্লাহ

পশু হাসপাতাল রোড, গফরগাঁও।

 

► পরিবহন শ্রমিকরা যে হারে অনিয়ম করে থাকে তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার এখন মোক্ষম সুযোগ।

সোলায়মান শিপন

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।

 

► আদালত তাঁর আইন নিজস্ব নিয়মে বহাল রাখার জন্যই তাঁর কাজ সম্পন্ন করেছেন। এতে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়ানো এবং ধর্মঘট ডাকা অবান্তর। দুই চালক শাস্তি পেয়েছে, এতে পরিবহন সেক্টর শ্রমিক কিসের ভিত্তিতে আন্দোলনে নামল, তা বোধগম্য নয়। তার মানে কি কেউ অন্যায় করলে শাস্তি পাবে না?

সাহিদা সাম্য লীনা

ফেনী।

 

► মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হওয়ার ভয়েও অন্য সব পরিবহন ড্রাইভার সতর্ক হয়ে যাবে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এ জাতীয় শাস্তির বিকল্প নেই।

ইয়াছিন খন্দকার লোভা

সিলোনিয়া বাজার, উত্তর জায়লস্কর, ফেনী।

 

► আনিকার বাসা সাভারে, ও সিএ পড়ে, ঢাকার এক সিএ ফার্মে। ২৮ ফেব্রুয়ারি বাসা থেকে আসে অফিসে, কাজ শেষে ছুটি হয় রাত ৯টায়। কিন্তু ও বাসায় যাবে কি করে। তার থাকার ব্যবস্থা আমি করি নিজের বাসায়। ১ মার্চ ফার্মগেট থেকে মতিঝিল যায় অনেক কষ্টে ভেঙে ভেঙে রিকশায়। অফিস ছুটির পর এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে সাভারের বাসের জন্য। না পেয়ে কল করে আমাকে। আমি বাসায় আসতে বলি। আবারও রিকশায় রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ফার্মগেট আসে। ওই দিন ওর ভাড়া বাবদ খরচ হয় ৫০০ টাকার মতো। ২ মার্চ অফিসে যাবে, তিন দিন পরা পোশাকে কিভাবে। বাধ্য হয়ে আমার মেয়ের পোশাক দিই, ও পরে যায়। যদি আনিকাকে আমি আমার বাসায় থাকার ব্যবস্থা না করতাম, তাহলে ও এই দুটি রাত কোথায় থাকত?

রহিমা আক্তার মৌ

চাটখিল, নোয়াখালী।


মন্তব্য