kalerkantho


কোনো উদ্যোগ থেকেই সাফল্য আসে না

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শত চেষ্টার পরও সড়কে নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনতে পারছে না সরকার। সড়ক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছে, পরিবহন আইন ও নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর একচেটিয়া প্রাধান্যের কারণেই এই খাতে শৃঙ্খলা আসছে না। সরকারের মহলবিশেষ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন একাকার হয়ে গেছে। ফলে সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। আইন আছে, কিন্তু এর প্রয়োগ করতে গেলেই বাধা আসে। মন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনি দৌড়ঝাঁপ করে যাচ্ছেন। কখনো বাসে উঠে চালকদের শাসিয়েছেন, কখনো সড়কে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়ক ভূমিকায় দেখা গেছে তাঁকে। পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনার সরাসরি দায়িত্ব সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)। এই সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যানও তিন বছর ধরে দায়িত্বে আছেন। বিআরটিএর পরিচালকদের কেউ কেউ ছয় বছর ধরে একই দায়িত্বে আছেন।

অর্থাৎ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন যাঁদের দায়িত্ব, তাঁরা লম্বা সময়ই পেয়েছেন। তার পরও সফলতা কই!

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কঠোর আইনের দাবি করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরেই; সরকার উদ্যোগও নিয়েছে। কিন্তু সড়ক পরিবহন ও চলাচল আইনের খসড়া তৈরি করতেই বছরের পর বছর চলে গেছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গত বছর ১ আগস্ট থেকে ২২টি মহাসড়কে ধীরগতির যান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। গত বছর একই সময় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় মহাসড়কে বাসের গতিসীমা সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এটি বাস্তবায়নেও কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের কারো নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তর নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রতিরোধ ছাড়া সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না।

 

এস এম রওনক রহমান আনন্দ

স্কুলপাড়া, বিমানবন্দর সড়ক, ঈশ্বরদী, পাবনা।


মন্তব্য