kalerkantho


বেপরোয়া গাড়ি চালানোর শাস্তি নিশ্চিত করুন

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বেপরোয়া গাড়ি চালানোর শাস্তি নিশ্চিত করুন

বেশির ভাগ সড়ক দুর্ঘটনার জন্যই চালক দায়ী। বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে প্রাণহানি ঘটালেও শাস্তির নজির কম।

ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বিআরটিএতে সততার চর্চা বাড়াতে হবে। সড়কের প্রস্থ বৃদ্ধি ও সংস্কার, ট্রাফিক পুলিশের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন, নেশা করে কিংবা ফোনে কথা বলার সময় গাড়ি না চালানো—এ বিষয়গুলোও নিশ্চিত করতে হবে। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোনে ও ই-মেইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন

 

► প্রাণীর ছবি চিনতে পারলেই একজন ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে যায়—এ সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে দক্ষ ড্রাইভার তৈরির ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া দরকার।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রথমে ড্রাইভারদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে। আমাদের উত্তরা এলাকায় দেখা যায় অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর গাড়ি চালায়। পুলিশ তাদের কিছুই বলে না। তাই সড়কের শৃঙ্খলার জন্য প্রথমে ড্রাইভারদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।

জুয়েল

উত্তরা, ঢাকা।

 

► বেশির ভাগ বাস-ট্রাকের কাঠামোই অবৈধ, ঝুঁকিপূর্ণ। চালকের অযোগ্যতা ও অদক্ষতা হয় যদি সড়ক দুর্ঘটনার ব্যক্তিক কারণ, তবে এই অবকাঠামোগত ত্রুটি হলো নৈর্ব্যক্তিক বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কারণ। মোটরযান তৈরির সময়ই এর জন্য উপযোগী আকারের নির্দেশনা দেওয়া থাকে। মোটরযান আইন অনুযায়ী মূল কাঠামো বা আকার-আকৃতির পরিবর্তন অবৈধ। কিন্তু অনেক বাস-ট্রাকের মালিকই এ নির্দেশনা মানে না। ট্রাকের সামনে-পেছনে সংযোজন করা হয় অতিরিক্ত বাম্পার, যা অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ট্রাকগুলোর পেছনটায় লাগানো হয়েছে ত্রিভুজ আকারের লোহার পাত। আবার কাভার্ড ভ্যানের চালকের কেবিনের চেয়ে মালামাল পরিবহনের অংশ চওড়া করে বহনক্ষমতা তিন গুণ পর্যন্ত করা হয়। একই পরিবর্তন করা হয়ে থাকে বাসের কাঠামোতেও। আসনসংখ্যা এভাবে আকৃতি বদল ও ধারণক্ষমতার অধিক বড় করার কারণেও মহাসড়কের বাহনগুলো ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ডেকে আনছে প্রতিনিয়ত।

মাওলানা আবদুল্লাহ আল হাদী সোহাগ

ব্যাংক কলোনি, সাভার, ঢাকা।

 

► দেশব্যাপী সড়কে আইল্যান্ড দিতে হবে। যেসব বাঁকে আইল্যান্ড নেই সেখানে সিভিল পোশাকে প্রশাসন থাকবে। যে গাড়ি বেপরোয়া, অন্য গাড়িকে ওভারটেক করে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে, সেসব গাড়ির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দক্ষ ব্যক্তিকে লাইসেন্স দিতে হবে। সিএনজি ও মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

মো. হুমায়ুন কবির বাবু

দক্ষিণ বানিয়াগাতি, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

 

► সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ অদক্ষ চালক। সেই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন গাড়ি। হাইওয়ে পুলিশ থাকলেও অদক্ষ চালকরা অর্থের বিনিময়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। ভুয়া লাইসেন্সধারী, ফিটনেসবিহীন গাড়িকে আটক করতে হবে। কোনো চালক যদি একবার দুর্ঘটনা ঘটায় সে যেন আর কোনোভাবেই রাস্তায় গাড়ি নিয়ে নামতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► চুলচেরা পর্যবেক্ষণ করেই ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। ওভারটেকিং মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে চালকদের।

এস আর শানু খান

শালিখা, মাগুরা।

 

► আগে ঢাকাকে বলা হতো রিকশার শহর। এখন হয়েছে গাড়ির শহর। ব্যক্তিগত কার ও গাড়ির বহরে ঢাকা এখন ছেয়ে গেছে। গাড়ি কমাতে হবে। অলিগলিতে লেগুনা সার্ভিসও বন্ধ করা প্রয়োজন। রাস্তা বড় এবং বাঁক কমাতে হবে। ব্যক্তি মালিকানার গাড়িকে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার অধীনে এনে রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা নিতে হবে।

জালাল উদ্দিন আহমেদ

তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে নিজের, শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে রাষ্ট্রের নিয়োজিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের।

হাবিবুল ইসলাম রুবেল

খিলগাঁও, ঢাকা।

 

► সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে চার লেন প্রকল্প অত্যন্ত উপকারী। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণা দল গঠন করতে হবে। যারা দুর্ঘটনাগুলোর কারণ অনুসন্ধান করবে, সরকারকে বিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ দেবে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারিভাবে সেমিনার আয়োজন করে দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আর আইনের প্রয়োগ তো আছেই। কেবল সরকার, কর্তাব্যক্তি ও জনগণ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সড়কের মৃত্যুর মিছিল রোধ করা সম্ভব।   

মো. আজমির হোসেন শুভ

সোনাগাজী, ফেনী।

 

► বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই প্রায় ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও সড়কের বেহাল, চালকের মোবাইল ফোনে কথা বলা, খেয়ালিপনা, ফাঁকা রাস্তা পেয়ে প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, ফুটপাত দখল, ওভারটেকিং, রাস্তার নির্মাণ ত্রুটি, গাড়ির ত্রুটি, যাত্রীদের অসতর্কতা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জেব্রাক্রসিং না থাকা ও না মানা, নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য করা, ধারণক্ষমতার চেয়ে ঈদের সময়ে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা ও রাস্তায় ওভারটেক করার তীব্র মানসিকতা প্রভৃতিই সড়ক দুর্ঘটনার কারণ।

আলমগীর ইমন

লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

 

► নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ও মোবাইলে কথা বলার সময় গাড়ি চালানো যাবে না। দায়ী চালককে শাস্তি দিলে তার জন্য পরিবহন নেতাদের অযৌক্তিক আন্দোলনে সরকারের নতি স্বীকার করা চলবে না।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

► হকাররাও যানজটের কারণ হচ্ছে। অবৈধ বাজার, অবৈধ স্থাপনা যানচলাচলে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে বলব, এসব দিকে নজর দিন।

মোহাম্মদ জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, বাসাবো, ঢাকা।

 

► পরিবহন খাতে সরকার, মালিক ও শ্রমিক সংগঠন সব একাকার হয়ে গেছে। নীতি ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। কিছু কিছু সিদ্ধান্ত জনগণের পক্ষে গেলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারে না সরকার। বিআরটিএর তথ্য অনুসারে, সারা দেশে নিবন্ধিত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ডেলিভারি ভ্যান রয়েছে দেড় লাখের কিছু বেশি। এর প্রায় সবই মূল কাঠামো পরিবর্তন করে পাশে, পেছনে ও ওপরের দিকে বড় করা হয়েছে। বেশি বেশি মালামাল পরিবহনের লক্ষ্যেই এভাবে আকৃতি পরিবর্তন করা হয়েছে। ট্রাকের বডিতে লোহার অ্যাঙ্গেল দেওয়া হয়েছে বেআইনিভাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাক ও বাসের মধ্যে দুর্ঘটনায় বেশির ভাগ মানুষ মারা যায় ওই অ্যাঙ্গেলের ধাক্কায়। দুই বছর ধরে বিআরটিএ, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক চলছে। নকশা অনুযায়ী যানবাহন যেমন হওয়ার কথা, সেই জায়গায় নিতে পারছে না বিআরটিএ।

সোলায়মান শিপন

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।

 

► দেশের বেশির ভাগ রাজনীতিবিদই ব্যবসায়ী। তারা আলাদা না হলে দেশের উন্নয়ন দুরূহ। কিছুদিন আগে ঢাকা শহর থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চিহ্নিত করে সড়ক থেকে তুলে দেওয়ার অনুমতি দেন যোগাযোগমন্ত্রী। আদেশক্রমে তাই করা হয়। বিপাকে পড়ে সাধারণ জনগণ। যে গাড়িগুলোর ফিটনেস ভালো ছিল সেগুলো থেকেও অনেক গাড়ি তুলে নিয়েছে গাড়ির মালিকরা। তাদের কথা, সামান্য ত্রুটি দেখিয়েই গাড়িকে ফিটনেস নয় বলা হচ্ছে, তাহলে আমাদের শ্রমিকরা যাবে কই, তাদের বেতন দেব কী করে। সরকার যখনই ছাড় দিল, তখনই গাড়ির মালিকরা তাদের ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলোয় রং লাগিয়ে আবার রাস্তায় ছেড়ে দিল। যেই রাস্তার কাজ শেষ হয়, তখনই শুরু হয় ওয়াসার কাজ, গ্যাসের কাজ, আরো কত কী? নিয়ম থাকবে, যারা রাস্তা খুঁড়বে তারাই মেরামত করে দেবে। এখানেও ব্যবসায়ীদের কারসাজি। বর্ষার সময় কেন সড়কের কাজ ধরা হয়?

রহিমা আক্তার মৌ

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

► যখন বাড়ি থেকে বের হব, তখন খুব সাবধানে চলাচল করব। রাস্তা ভালোভাবে দেখে পার হব। ছোট শিশুরা স্কুলে যাওয়ার জন্য বড়রা তাদের পৌঁছে দেবে। যারা গাড়ি চালায়, তাদের আরো সচেতন হতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বলা যাবে না, কোনো কিছু খাওয়া যাবে না। হেডফোনে গান শোনা যাবে না। জ্যামের ভেতরে জোরে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করা যাবে ন। রাস্তার নিয়ম মানতে হবে।

ফারজানা ফাইজা কানিস

সীমাবাড়ি এস আর উচ্চ বিদ্যালয়, চান্দাইকোনা, বগুড়া।

 

► সড়কে সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে। যান নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তত্পরতা অব্যাহত রাখতে হবে। অদক্ষ বা আধাদক্ষ চালক দ্বারা গাড়ি চালালে মালিকদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার যেকোনো ত্রুটির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে ছোট গাড়ি কমাতে হবে। প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদিতে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করতে হবে। কেবল পাবলিক বাস গ্যাসে চালানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তায় অবৈধ পার্কিং বন্ধ করতে হবে। পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। গাড়ি চালকদের বৈধ কাগজপত্র দিতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি রাস্তা থেকে তুলে দিতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়াতে হবে। যদি সরকার সদিচ্ছায় এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে, তাহলে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব।  

মো. আনোয়ার হোসেন

দরিয়াদৌলত, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

 

► হকারদের উচ্ছেদ করে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। ব্যাটারিচালিত রিকশা বড় বড় সড়কে এসে শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। এসব যানবাহন উচ্ছেদ করতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ি নামানোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।

আবদুল মোতালেব ভূঁইয়া

ছয়ানী টবগা, চাটখিল, নোয়াখালী।

 

► সড়কে প্রশাসনের ভূমিকা জোরদার করতে হবে। হকারদের অতি দ্রুত পুনর্বাসন করতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি ছাড়া বা যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করা যাবে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়া যাবে না। একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। এ জন্য ব্যক্তি মানুষের সচেতনতাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সড়কের আর কোনো কান্না দেখতে চাই না।

হৃদয় মো. ওমর ফারুক বাবর

ঢাকা জজ কোর্ট, ঢাকা।

 

► ওভারটেকিং খুবই বিপজ্জনক। বিকট শব্দে গাড়ির হর্ন বাজানো থেকেও বিরত থাকতে হবে। সবচেয়ে জরুরি চালকদের মদ্যপান থেকে দূরে থাকা।

জোবায়ের রাজু

আমিশাপাড়া, নোয়াখালী।

 

► সেদিন মোটরবাইক ঠিক করাতে গিয়ে বসেছিলাম গ্যারেজে। পাশেই কাজ করতে দেখলাম একটি ভাঙা দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া সিএনজির। সেই সিএনজিটিও দুর্ঘটনার স্বীকার। কারণ জিজ্ঞাসা করলাম, কিন্তু চালক সামনে থাকায় মেকানিক বিষয়টি এড়িয়ে গেল। চালক চলে যাওয়ার পর সে জানাল, চালক ‘বাবা’ (ইয়াবা) খায়। নেশাগ্রস্ত হয়ে গাড়ি চালানো যদি আমরা অনুমোদন করতেই থাকি, তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► পুরনো গাড়ির ব্যবহার বন্ধ করে প্রশিক্ষিত, দক্ষ চালক নিয়োগ দিতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলতে চালকদের বাধ্য করতে হবে। পরিবহন মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আইন প্রয়োগে বিভিন্নভাবে বাধার সৃষ্টি করে। ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কোনো আপস নয়। প্রশাসনকে দ্রুত আইন প্রয়োগে কঠোর হতে হবে। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।

মো. আবদুর রাজ্জাক নাছিম

পরিবেশকর্মী, কালিয়াকৈর, শেরপুর, বগুড়া।

 

► ব্যবহারিক পরীক্ষায় পাস করলেই সনদ মিলবে। এই নিয়ম নিশ্চিত করতে হবে।

ইয়াছিন খন্দকার লোভা

হুরা, মানামা, বাহরাইন।

 

► সড়ক দুর্ঘটনা দেশে অনেক বেড়ে গেছে। হাইওয়ে পুলিশ ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করে না কেন? পুলিশ-ট্রাফিক পুলিশের যত ব্যস্ততা মোবাইল কোর্ট নিয়ে, যাতে কিছু উপরি আয় হয়। সড়ক দুর্ঘটনা ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের শাস্তি ও জরিমানা বাড়ান। তখন চালক ও মালিক দুই পক্ষই সাবধান হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে—এই কঠোর আইনের প্রয়োগও দেখতে চাই। শ্রমিকরা কিছু হলেই যান ধর্মঘটে নামে। তাদের কেউ অপরাধ করলে কি শাস্তি দেওয়া যাবে না?

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, অভিজ্ঞ চালকদের ছাড়া আর কাউকে গাড়ি চালাতে দেওয়া যাবে না। সড়ক-মহাসড়কের বাঁকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসান। মহাসড়কগুলো চার লেন করাও জরুরি। রাস্তার দুই ধারে অবৈধ হাট-বাজার বসতে দেবেন না। চালকদের উচিত গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা বন্ধ রাখা।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

► দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। কেবল ড্রাইভারদের বেপরোয়া চালানোর জন্য দুর্ঘটনা ঘটছে। কঠোর আইনের প্রয়োগেই কেবল তা রোধ করা সম্ভব। অনেক চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালায়। যদি দক্ষ চালক গাড়ি চালায় তাহলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।

শেখ মোহাম্মদ আলী

তালতলা বাজার, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ।

 

► গাড়িতে অতিরিক্ত মানুষ উঠব না। ড্রাইভারকে গাড়ি চালানো অবস্থায় ফোনে কথা বলতে দেব না।

জহিরউদ্দিন

ঢাকা।

 

► সড়কে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এই সুযোগেও অনেক চালক বেপরোয়া আচরণ করে থাকে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে যারা থাকবে তারা যদি দেখেও না দেখার ভান করে, পরিস্থিতি বদলাবে কী করে? তাদের অবহেলার জন্যও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এ জন্য গোয়েন্দা সংস্থার সেবা নেওয়া যেতে পারে।

শিবুপ্রসাদ মজুমদার

লেকসার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

 

► সড়ক তো নয়, মৃত্যুকূপ, নিমর্মতার ভয়াল রূপ। গাড়িগুলো হিংস্র দানব, প্রতিনিয়ত পিষ্ট মানব। স্বজনহারার আর্তনাদ, সড়ক তো নয় মরণ ফাঁদ। জীবন যেন তুচ্ছ অতি, থামিয়ে দেয় প্রাণের গতি। সুখস্বপ্ন নিচ্ছে কেড়ে, দুর্ঘটনা যাচ্ছে বেড়ে। হয় না কেন রোধ? নেই কি কারো বোধ? বিষয়টা অদ্ভুত, সড়কপথে চেপে আছে সিন্দাবাদের ভূত।

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান

আশুলিয়া, ঢাকা।

 

► পরিমাণমতো সড়ক, প্রয়োজনীয় যানবাহন, চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধসহ যাত্রীদের চেতনা বাড়ানো গেলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► অনেক চালকই মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালায়। তাই তাত্ক্ষণিকভাবে চালকদের মূত্র ও নমুনা পরীক্ষা করে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

মো. ফখরুল ইসলাম টিপু

সেনবাগ, নোয়াখালী।

 

► দুর্ঘটনার জন্য নাগরিক অসচেতনতাও কম দায়ী নয়। চালক অদক্ষ, গাড়ির ফিটনেস থাকে না, ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করে না—এই অবস্থা থেকেও আমাদের বের হতে হবে। বড় রাস্তায় নসিমন, করিমন চলাচল আইন করেও বন্ধ করা যাচ্ছে না। এই ব্যর্থতার দায় ট্রাফিক পুলিশ এড়াতে পারে না। দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনার দায় সরকারের। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী রাজনীতি করছেন, সড়ক নিয়েও কাজ করছেন। সড়কে শৃঙ্খলা আনার কাজে তাঁর কাছ থেকে দৃঢ় পদপেক্ষ আমরা আশা করছি। তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীর নিহত হওয়ার ঘটনায় চালকের যাবজ্জীবন হওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। এটা কিছুতেই প্রত্যাশিত হতে পারে না। আইনের গতিতে আইন চলবে। আমি নিজে একজন পরিবহন শ্রমিক। আমার একজন সহকর্মী আইন লঙ্ঘন করলেও কি আমি তার পক্ষে দাঁড়াব?

কুমারেশ চন্দ্র,

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

 

► হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ ও ‘রোড সেফটি-বিষয়ক টাস্কফোর্স’ গঠন করতে হবে।

এস এম সাইদুর রহমান উলু

এয়ারপোর্ট রোড, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

► নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সচেতনতামূলক বাণীগুলো লেখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। আমি ওয়ালটনের প্রশংসা করি, তারা এ কাজ এরই মধ্যে করে যাচ্ছে।

অনিত্য চৌধুরী

চকবাজার, চট্টগ্রাম।

 

► সড়ক দুর্ঘটনায় কিছু বিশিষ্ট মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হলে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা কিছুটা উচ্চবাচ্য করেন, যদিও কিছুদিন পর আবার তা আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাই দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধের জন্য বিআরটিএতে একটি বিশেষ শাখা খোলা প্রয়োজন, যারা সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করবে ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া ট্রাফিক আইনের শক্তিশালী প্রণয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে চালকদের মধ্যে আইনের ভীতি ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি যারা দুর্ঘটনার শিকার হয় তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।

এম এ শক্কুর আলম

জিঞ্জিরা, ঢাকা।

 

► দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ভাঙাচোরা সড়ক।   এগুলো অতি দ্রুত মেরামত করতে হবে।  

মো. মহসীন সরকার

নয়নপুর, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।


মন্তব্য