kalerkantho


থানায় যা দেখলাম

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন আগের তুলনায় ভালো এটি স্বীকার করতেই হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে কারা যোগ দিচ্ছেন, সত্যিকার অর্থে তাঁরা কতটা যোগ্য, এ বিষয়টি নিয়ে আছে ব্যাপক সমালোচনা। কিছু কিছু বাস্তবচিত্রও আমি দেখেছি। মাসেক দুই আগের একটি ঘটনা শেয়ার না করলেই নয়। ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলাম। ব্যস, আমাকে মেরে ফেলার হুমকি চতুর্থবারের মতো দেওয়া হলো। ভাবলাম এবারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাব না। তবে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শ ও জোরাজুরিতে অবশেষে থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করতে বাধ্য হলাম। থানাওয়ালারা আমার ডায়েরিটি গ্রহণ করল ঠিকই, কিন্তু কিছু নতুন অভিজ্ঞতাও আমার হলো। আমি যতক্ষণ থানায় উপস্থিত ছিলাম ঠিক ততক্ষণ ডিউটিরত পুলিশ কর্মকর্তাটি মোবাইলে ভিডিও গেমস খেলছিলেন। অফিসারটি আমার সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বললেন, আমরা নাকি ওনাদের শত্রু।

শত্রুর কাছে সাহায্য চাইতে গেলে যে রকম আচরণটা পাওয়ার কথা তার চেয়ে খারাপ আচরণ ভাগ্যে জুটল। পরে আরেকজন অফিসার এলেন, তাঁর সঙ্গেও কথা বললাম। তিনি আমার স্ট্যাটাস পড়ে বললেন, আমি উসকানিমূলক কিছু লিখিনি। তিনি আমাকে স্পর্শকাতর বিষয়ে পোস্ট করা থেকে বিরত থাকতেও বললেন। প্রথমজন তখনো মোবাইলে ভিডিও গেম খেলছিলেন। তাঁর কথাবার্তা শুনে  বিস্ময় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি একরাশ ঘৃণা নিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে এলাম। সঙ্গে সঙ্গে আমাকে আবার ভেতরে ডাকা হলো। গেলাম। জানতে পারলাম জিডির ফি না দিয়েই আমরা থানা থেকে বেরিয়ে চলে এসেছি। পরে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হলাম, এখন জিডি করতে কোনো ফি লাগে না। ওটা তাঁরা অবৈধভাবে নিয়েছেন।

এ হচ্ছে থানার ভেতরের অবস্থা। আর বাইরের অবস্থা না হয় না-ই বললাম। তবুও মিথ্যে কোনো মামলায় জড়াতে চাই না বলেই বলতে হচ্ছে ‘আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত। ’

 

 সোলায়মান শিপন

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।

 


মন্তব্য