kalerkantho


আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সুশাসনের অভাব রয়েছে

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। বিশেষ করে ২০১৬ সাল ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ঘটনাবহুল একটি বছর। সারা দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের হামলা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গিয়েছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানে লেখক, প্রকাশক, শিক্ষক, পুরোহিত ও বিদেশিসহ ভিন্নমতাবলম্বীদের অত্যন্ত নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত জুলাইয়ের গুলশান হত্যাকাণ্ডে দেশবাসী অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। অনেক সীমাবদ্ধতা ও সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবন দিয়ে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই দেশবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। শত সমালোচনা থাকলেও আমাদের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সাহসী, দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল। গত কয়েক বছরে অনেক উচ্চশিক্ষিত, সাহসী ও দেশপ্রেমিক তরুণ-তরুণী যোগদান করায় এই বাহিনীর মান অনেক উন্নত হয়েছে। দেশবাসী আশা করে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যথাযথভাবে তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দেশে ব্যাপক দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাব জনজীবনকে নানাভাবে অতিষ্ঠ করে তুলছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে অনেক স্বাধীনতাবিরোধী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ নব্য নেতাকর্মীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে। দেশের বেশির ভাগ এলাকায় তারাই সরকারি দল আওয়ামী লীগকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই অপশক্তির প্রভাবে স্থানীয় প্রশাসনও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। ফলে ক্ষমতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে এই নব্য নেতারা ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে দ্রুত বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হচ্ছে। সময় ও সুযোগ পেলে এই অর্থ তারা দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধেই কাজে লাগাবে। কারণ মুখে যতই জয়বাংলা বলুক, আসলে তারা দেশ ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি। এ ছাড়া বর্তমানে সামাজিক অপরাধ বিশেষ করে কিশোর অপরাধও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

 

বিপ্লব

ফরিদপুর।   

 


মন্তব্য