kalerkantho


অপরাধ সংঘটনে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অপরাধ সংঘটনে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সাম্প্রতিক অতীতের তুলনায় এখন অনেক ভালো হলেও সন্তোষজনক নয়। রাজনৈতিক সহিংসতা কমে এলেও অন্যান্য অপরাধ থেমে নেই, পুলিশ-প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের যোগসাজশ কিংবা আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অনেক অপরাধ সংঘটিত হয়। অর্থ-গয়নার লোভে শিশুদেরও হত্যা করা হচ্ছে। সরকার পরিচালনা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে জড়িত সবাইকেই জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিষ্ঠা করতে হবে আইনের শাসন। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোনে ও ই-মেইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন

 

► দেশে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিকই আছে। অতীতে পরিস্থিতি এতই খারাপ ছিল যে সে তুলনায় বর্তমান সময়কে অনেক ভালো বলা যায়। আগে তো মানুষ ঘুমাতেই পারত না।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► রাজনৈতিক সহিংসতা যদিও এখন নেই, অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। খুনখারাবি, টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, অপহরণ ও মুক্তিপণের জন্য হত্যা চলছে।

তবে দেশে জঙ্গিবাদ নেই। পশ্চিমা শক্তি তাদের স্বার্থে এখানে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

 মো. নাজিম আদি

 সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।

 

► রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণেও খুনখারাবি-সহিংসতা হচ্ছে। মাদকাসক্তি থেকেও অনেকে অপরাধ অপকর্ম করছে। পুলিশের উচিত অপরাধী যে দলেরই হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। রাজনীতিবিদদেরও উচিত হাইব্রিড নেতা কিংবা অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকা।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► পুলিশও অনেক সময় অপরাধে জড়াচ্ছে। আটক বা গ্রেপ্তার বাণিজ্য করছে। হত্যা মামলার বিচার দ্রুত করুন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। হত্যাকাণ্ড কমে আসবে।

হুমায়ুন কবির বাবু

 দক্ষিণ বানিয়াগাতী, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

 

► সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন। সন্ত্রাস নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে সমাজ চলতে পারে না।

এম এ মতিন

বেগুনবাড়ী, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► আমার এলাকা সালদা নদীর ওপারেই ভারত সীমান্ত। ভারত থেকে মাদক ঢুকে পড়ে তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। রাতে ট্রেন থামিয়ে তোলা হয় ভারতীয় মাদক। তারপর সেই মাদক ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। কথা ছিল পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু। সেই পুলিশ এতটা অদক্ষ যে কোনো অপরাধী ধরতে পারে না। যদি পারেও তারা প্রথমেই বাণিজ্য করার চেষ্টা করে। পুলিশ এখন আতঙ্কের আরেক নাম।

মো. মহসীন সরকার

 নয়নপুর, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

 

► আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে বলে তো মনে হয় না। এমনকি আইনের লোকজনও অনেক অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। তারা অনেক সময় অপরাধীদের বাঁচিয়ে দিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করছে টাকার বিনিময়ে। টাকাওয়ালারা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। এই যে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে—আমরা কী করতে পেরেছি? নতুন করে কৌশল বের করে অপরাধীরা অপরাধ করে, আর আমরা তাদের কাছে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করি। আইন প্রণেতারা, আইন প্রয়োগকারীরা আইন ভঙ্গ করে, আমরা কোথায় যাব? আইনের শাসন থাকলে এমন অবস্থা হতো না। নীতিনির্ধারকরা কঠোর অবস্থান নিলে আইন লঙ্ঘনের এমন বেপরোয়া পরিস্থিতি তৈরি হতো না। গোড়ায় গলদ থাকলে সমাধান হবে কী করে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► শিক্ষিত, মেধাবী তরুণদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে প্রবেশের সুযোগ করে দিন। বাহিনীগুলোর সুযোগ-সুবিধা বাড়ান। সরকারদলীয় অনেক দুর্নীতিবাজের ব্যাপারেও প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে—বিষয়টি প্রশংসনীয়। তবে গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হওয়া ঘটনার ক্ষেত্রেই আমরা এমনটি দেখি। বেশির ভাগ অপরাধের ঘটনায় মানুষ সুবিচার পায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক ইচ্ছা আছে আইনশৃৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের। কিন্তু সব মহল থেকে সহযোগিতা তো পেতে হবে। গুটিকয়েক পুলিশ সদস্যের জন্য পুরো বাহিনীর দুর্নাম হচ্ছে। তাই অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়ারও সুযোগ নেই।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

 

► আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার সঙ্গে অনেক সময় বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রও থাকে। তাই এ বিষয়েও সাবধান থাকতে হবে।

আজহারুল ইসলাম সরকার

আহ্বায়ক, শিক্ষা ঐক্য, নরসিংদী।

 

► প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ প্রতিটি বিভাগেই হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। মানুষ বিপদে পড়লেও পুলিশের সহায়তা নিতে ভয় পায়। তবে আমার বিশ্বাস, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যদি আরো কিছুকাল ক্ষমতায় থাকেন একদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবেই।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► কোনো কোনো জায়গা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। প্রশাসন যদি সৎ, নিরপেক্ষ, আন্তরিকতা, আপসহীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে তাহলে দেশের ভাবমূর্তি আরো বৃদ্ধি পাবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

► বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে একটু ভালো। অনেক ক্ষেত্রে আবার খুবই খারাপ। কোনো কোনো ব্যক্তির কারণে এই খারাপ পরিস্থিতি বিরাজ করে।

মো. মোকাদ্দেস হোসাইন সোহান

গ্রামপাঙ্গাসী, রায়গঞ্জ, চানপাড়া, সিরাজগঞ্জ।  

 

► রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় সময়ই সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিও এখানের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। তবে সাম্প্রতিককালে নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এর যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। জঙ্গি দমনে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

ফারজানা মনি

ঢাকা।

 

► আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতটা চোখে পড়ে বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ। পুলিশ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনের লঙ্ঘন করছে। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে অনেক অপরাধ ঘটছে। এর পরও ঊর্ধ্বতন মহল নির্বিকার। আমরা সাধারণ মানুষ অনেক সময়ই স্বাভাবিক চলাফেরায় নিরাপদ বোধ করি না। সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পতি খুন হলো। এত বছরও আমরা বিচারকাজ শুরু করতে পারলাম না। সাংবাদিক যেখানে নিরাপদ নয়, যেখানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের স্ত্রীরা প্রকাশ্যে খুন হন, সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপত্তা পাবে? প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, অন্তত পুলিশি নির্যাতন, রাজনৈতিক অপরাধের মতো ঘটনাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করুন।

মোহাম্মদ আলী

বোরহানপুর, হাজারীবাগ রোড, ঢাকা।

 

► আমরা সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। দেশের উন্নতির জন্য সর্বাগ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যত ভালো থাকবে, দেশের জনগণ তত ভালো থাকবে। বর্তমানে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও রেহাই পাচ্ছেন না। তাঁদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হচ্ছে। এটাও একটা শুভ লক্ষণ। বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে মধ্যম আয়ের দেশের পর্যায়ে পা দিচ্ছে—এটা আমাদের গর্বের বিষয়। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরো সমৃদ্ধতর দেশ হবে—এ জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নতি ঘটবে, এটাই ঐকান্তিক প্রত্যাশা।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

► একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্ভর করে মূলত পুলিশ বাহিনীর ওপর। পুলিশ বাহিনীর উন্নতির জন্য তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে, রাজনৈতিকভাবে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা যাবে না, তাদের মূল বেতন, বিভিন্ন পারিতোষিক অন্যান্য পেশার চেয়ে বেশি হতে হবে। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে তাদের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। সর্বোপরি জনসংখ্যা অনুপাতে পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে এবং সম্ভব হলে থানাকেন্দ্রিক পাড়া-গ্রাম-এলাকা-মহল্লাভিত্তিক পুলিশ ক্যাম্প বা ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যাতে পুলিশকে সব সময় কাছে পায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

হুমায়ুন কবির

হাজারীবাগ, ঢাকা।

 

► বর্তমানে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্যান্য অনেক দেশের চেয়ে ভালো। এ জন্য আমাদের দেশের প্রশাসনকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হবে। বর্তমানে জঙ্গি দমন এবং জঙ্গি দমনের ধারাবাহিক কাজটিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো কারণে জঙ্গি দমনে অমনোযোগিতার সৃষ্টি হয়, তবে তা দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। সার্বিক আইনশৃঙ্খলাকে আরো ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য অবশ্যই নেশার বিস্তার রোধে কাজ করতে হবে। বিচারিক কার্যক্রম আরো দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করতে হবে। এসব করা গেলে অবশ্যই ভালো ফল আশা করা যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► নতুন করে বলতে হবে না যে পুলিশ জনগণের বন্ধু। যদিও মাঝেমধ্যে পুলিশ বিভাগের কিছু সদস্য সাধারণ জনগণের সঙ্গে যেসব আচারণ করেন তা দেখে সত্যিই লজ্জায় পড়তে হয়। আইন সবার জন্য সমান হলেও পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কিছু সদস্য কেন মাঝেমধ্যে নিজেদের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়াবেন? তাঁদের জন্যও আইন থাকতে হবে। দেশের প্রতি এবং একে অন্যের প্রতি সব দিক থেকে আন্তরিক টান না থাকলে আমরা উন্নতি করতে পারব না। হোক সেটি সশস্ত্র বাহিনী কিংবা সাধারণ জনগণ। পুলিশ বিভাগে চাকরিরত বেপরোয়া সদস্য জনগণের বন্ধু হতে পারে না। আবার মাত্র কয়েকজন পুলিশের অন্যায় আচরণের কারণে পুরো বাহিনীকে দোষারোপ করা যায় না। এ জন্য এ বিভাগটির প্রতিও নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বেপরোয়া পুলিশদের সতর্ক ও চাকরিচ্যুত করতে পারবেন। এমন বা এ ধরনের কিছু আইন করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, দেশের মানুষের তাঁদের ওপর আস্থা অনেক। তাই তাঁরা যেন সর্বদা জনগণের বন্ধু থাকেন—এ চেষ্টা তাঁদের করতে হবে।

ইয়াছিন খন্দকার লোভা

আল হুরা, আল মানামা, কিংডম অব আল বাহরাইন।

 

► হত্যা, গুম, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, ভেজাল, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, মানবপাচার, মাদকাসক্ত, ধর্মের নামে জঙ্গি তৎপরতা, সড়ক দুর্ঘটনার আধুনিকায়নের প্রকৃতি ধ্বংসসহ বহুমুখী অন্যায়, অপরাধপ্রবণতা বেড়েই চলেছে। প্রকৃত অর্থে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়। আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিমূলক প্রয়োগ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুবই সহায়ক।   

মো. আবদুর রাজ্জাক নাসিম

পরিবেশকর্মী, চান্দাইকোনা, বগুড়া।

 

► মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, দেশে ২০১৫ সালে ১৫টি গুম-নিখোঁজ, একটি বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং হেফাজতে আটটি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা জানতে চাইব, এ জন্য কেউ কি কোথাও জবাবদিহি করেছে? আইন ও দিকনির্দেশনা থাকাও যা, না থাকাও তাই—এটাই কি হবে বাংলাদেশে স্বতঃসিদ্ধ বাস্তবতা? পুলিশের সংস্কার প্রস্তাব, যা আইনের খসড়া হয়ে পড়ে আছে, মনে হচ্ছে তা বাস্তবায়িত না হলে পুলিশ আরো উদ্ধত ও মারমুখী হয়ে পড়বে। তারা যে এখন শুধু প্রচলিত আইন ও সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে তা নয়, তা কার্যত জাতিসংঘ ও নিউ ইয়র্ক সনদের প্রতিও অশ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটাচ্ছে।

মাওলানা আবদুল্লাহ আল হাদী সোহাগ

ব্যাংক কলোনি, সাভার, ঢাকা।

 

► বাংলাদেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদী জঙ্গি তৎপরতা, রাজনৈতিক সহিংসতা, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সরকারি দলের সংগঠনের দুর্নীতিপরায়ণ কর্মীদের সন্ত্রাসী তৎপরতার জন্য খুন, জখম প্রভৃতি সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হত্যা, গুম, খুন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্রসফায়ারের ফলে সাধারণ মানুষের ভেতরে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। পুলিশ সাধারণ জনগণকে অকারণে ধরে নিয়ে যায়। এতে তাদের পরিবার হয়রানির স্বীকার হয়। সাংবাদিক হত্যার মতো জঘন্য কাজ করতে পারলে সাধারণ জনগণ তো নগণ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ করতে হবে। পুলিশ ঠিক থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ৮০ শতাংশ ঠিক হয়ে যাবে। এতে করে সাধারণ জনগণ ভালোভাবে দিন কাটাতে পারবে।

আবদুল মোতালেব ভূঁইয়া

ছয়ানী টবগা, চাটখিল, নোয়াখালী।

 

► বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো হলেও তাকে সন্তোষজনক বলা যায় না। আইনশৃঙ্খলা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও বিভিন্ন সময় সমালোচনায় পড়েন। রাজনৈতিক দলের ভেতরে কোন্দল দেখা দিচ্ছে, আর তার বলি নিজেরা যেমন হচ্ছে, সাধারণ জনগণও কম মূল্য দিচ্ছে না। এমনটা চলতে থাকলে সাধারণ নাগরিক তাদের নিরাপত্তার অভাবে ঘর থেকে বের হতে ভয় পাবে। আমার বসবাস রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায়। কিছু কিছু স্কুলের ছুটির সময় আইনশৃঙ্খলার দু-একজন লোক যেসব জায়গায় থাকার কথা তা থাকেন না। এতে শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। আশা করি যাঁর যাঁর দায়িত্বের জায়গা থেকে সবাই কাজ করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ধারাবাহিতা ধরে রাখতে হবে। এসব ব্যাপারে ঢিলেমি দেওয়ার কিচ্ছু নেই। যারা বদ লোক তারা কিন্তু সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।

রহিমা আক্তার মৌ

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

► বর্তমানে আমাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চলে গেছে দলীয় লোকজনের হাতে। তারাই এখন আইনের রক্ষকে পরিণত হয়েছে। ফলে অনেক সময় দলীয় প্রভাব বা ক্ষমতার কারণে পুলিশ অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না। আর এতেই সার্বিকভাবে সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করে। অনেক সময় পুলিশ খুব দ্রুত সাধারণ মানুষের ওপর মারমুখী হয়ে যায়। অথচ পুলিশের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকে, তারা আমাদের ক্ষতি করবে না। দলীয় লোকজনের প্রভাব কমিয়ে সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আইন সবার জন্য সমান—এই বোধ থেকে কাজ করলে সবার উন্নতি হবে। দেশও এগিয়ে যাবে।

শেখ মোহাম্মদ আলী

তালতলা বাজার, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ।

 

► আইন ক্ষমতার, শৃঙ্খলা জনতার। এই তো আমাদের আইনশৃঙ্খলা। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এর বেশি কিছু বলার আছে কি? চারটি দশক পেরিয়েও বাঙালির স্বাধীনতার পূর্ণ অর্থ মেলেনি। বাঙালি আজ ন্যূব্জদেহে স্মৃতির পাতা হাতড়ে ফেরে। ছাব্বিশের আহ্বানে নিচু স্বর, ষোলর বিজয়োৎসবে একপেশে দামামা। আর মৃত বীর পুরুষদের নিয়ে রাজনীতির তঞ্চকতা। এই তো আমাদের সমগ্র। সুতরাং সামগ্রিকতায় আমরা নিটোল। সে ক্ষেত্রে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ওই ব্র্যাকেটেই পড়ে।

জালাল উদ্দিন আহমেদ

তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।  

 

► দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশি ভালো নয়। বিভাগ, জেলা, উপজেলা, পৌর শহর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামপর্যায়ে সর্বদলীয় কমিটি করা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

মুহাম্মদ আতিকুল্লাহ

পশু হাসপাতাল রোড, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।

 

► আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত অবনতির দিকেই চলেছে। হত্যা, ধর্ষণ, জুলুম, নির্যাতন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জবরদখল, ছিনতাই, রাহাজানিসহ যাবতীয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেন প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। জোর যার, মুল্লুক তার নীতিই সর্বক্ষেত্রে আজ প্রতিষ্ঠিত। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দাপটে সাধারণ জনগণ তটস্থ। মাদকসেবীদের আগ্রাসন আইনশৃঙ্খলার অধোগতির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। তবে প্রশাসনের ঔদাসীন্য ও অবহেলা আইনশৃঙ্খলার বর্তমান অধোগতির জন্য সার্বিকভাবে দায়ী।         

 মো. ফখরুল ইসলাম (টিপু)

 সেনবাগ, নোয়াখালী।

 

► এতটাই অনিশ্চয়তা ও অনিরাপদে থাকি যে ঘুমাতে গেলে সুস্থভাবে সকালে উঠতে পারব কি না তা জানা থাকে না। জঙ্গি হামলার আতঙ্ক, সাজানো মামলা তথা গ্রেপ্তার বাণিজ্য যে হারে বেড়েছে, তাতে নিজেকে সব সময় আতঙ্কগ্রস্ত থাকতে হয়। আমরা নিরাপত্তা চাই, নিরাপদভাবে বাঁচতে চাই। আমরা সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকার চাই।

অনিত্য চৌধুরী

চকবাজার, চট্টগ্রাম।

 

► সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশি ভালো বলে আমি মনে করি না। নানা জায়গায় ছিনতাই, রাহাজানি, খুনখারাবি ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলব, রাজধানীর পান্থপথ থেকে শুরু করে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর পর্যন্ত এলাকায় টহল বাড়ান। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে ছিনতাই বেড়ে গেছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি। সেদিন আমি নিজে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছি। ছিনতাইকারী অনেক মানুষের উপস্থিতিতে আমার রিকশা থামিয়ে পিস্তল দেখায় এবং টাকা-পয়সা ও আংটি কেড়ে নেয়।

শিবুপ্রসাদ মজুমদার

লেকসার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।


মন্তব্য