kalerkantho


গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে ইসি গঠিত হয়েছে

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মোটামুটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়েই মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে সারা জাতি কৃতজ্ঞ।

কোনো কোনো মহল থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি লড়াই করেছেন এবং তিনি একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই পরিচিত। তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন। যাদের নিজেদের কোনো দক্ষতা নেই, অভিজ্ঞতা নেই, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নেই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়—একমাত্র তারাই বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের সবাই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের বর্তমান দায়িত্বও তাঁরা নিরপেক্ষভাবে, দক্ষতার সঙ্গেই পালন করবেন বলে দেশের মানুষ আশা করছে।  

বাংলাদেশের মতো এক জটিল ও নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিবেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা খুবই কঠিন কাজ। আমাদের মূলধারার রাজনীতিতে অরাজনৈতিক ব্যক্তি, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের প্রাধান্যই বেশি।

প্রকৃত রাজনীতিবিদদের কাছে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সহনশীলতার মতো গুণগুলো পাওয়া গেলেও বর্তমানের নব্য নেতাদের কাছে এগুলোর কোনো মূল্য নেই। এ ছাড়া অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো আমাদের দেশের রাজনীতিতে স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রভাব। একদিকে ব্যাপক দুর্নীতি আর অন্যদিকে সুশাসনের অভাব দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিনষ্ট করছে। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই আমাদের রাজনীতিকে এই অপশক্তি ও কালো টাকার প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে। আমরা অতীতে অনেক নির্বাচনেই দেখেছি বাড়ি বাড়ি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নিয়ে নির্বাচনের প্রচারণা চালানো হয়, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। নির্বাচনী আচরণবিধির ১১ এর ‘ক’ ও ‘খ’ ধারাকে আরো সংস্কার করে নির্বাচনে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক প্রচারণা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। সুতরাং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করি, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সব বাধা অতিক্রম করে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবে।

 

বিপ্লব

ফরিদপুর।


মন্তব্য