kalerkantho


শক্তিশালী ইসির শর্ত

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



২০১০ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সময় থেকেই ক্ষমতাসীন দল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী ও সক্ষম করার কথা বলে আসছে। গত দুই বছরে নদীতে অনেক জল গড়িয়েছে, কিন্তু কমিশনকে শক্তিশালী করার কোনো উদ্যোগ কারো পক্ষ থেকেই নেওয়া হয়নি। শুধু কমিশন নিজেকে নিজে এবং সরকারও কমিশনকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কমিশনকে শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য চারটি সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, প্রয়োজন কমিশনের কাজের বৈধতা প্রদানের ও কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য একটি যথাযথ আইনি কাঠামো। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজন যোগ্য, স্বাধীনচেতা ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের কমিশনে নিয়োগ দান। তৃতীয়ত, প্রয়োজন সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দান। চতুর্থত, প্রয়োজন রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলের সদাচরণ।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) আমাদের মূল নির্বাচনী আইন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে আরপিওর ব্যাপক সংস্কার করা হয়। এসব সংস্কারের ফলে আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে ও প্রার্থীদের তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়।

কমিশনের অধীনে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আসে। কমিশনের সচিবালয়কে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও স্বাধীন করা হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের ‘দিনবদলের সনদ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারেও ‘নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন পদ্ধতির চলমান সংস্কার অব্যাহত’ রাখার অঙ্গীকার করা হলেও এর জন্য কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন উল্টো পথেই হেঁটেছেন।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের বিষয়ে আসা যাক। একটি অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁরা নিয়োগ পেলেও কমিটির কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে চরম দলপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কমিটি অন্য কাদের বিবেচনা করেছে এবং কী মানদণ্ডের ভিত্তিতে বর্তমান কমিশনারদের নাম সুপারিশ করেছে, তাও প্রকাশ করা হয়নি।

 

এস এম রওনক রহমান আনন্দ

স্কুলপাড়া, এয়ারপোর্ট রোড, ঈশ্বরদী, পাবনা।   


মন্তব্য