kalerkantho


শক্তিশালী ইসির চেয়েও বেশি দরকার ঐক্যের রাজনীতি

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পুরো রাজনীতি ও রাজধানী এখন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে মহাব্যস্ত। এর আগে বাংলাদেশেই নয়, কোনো দেশেই নির্বাচন কমিশন গঠন করতে এত বিশাল আয়োজন দেখা যায়নি।

আমাদের রাজনীতিবিদ, সুধীসমাজ, আমলা, গণমাধ্যমসহ সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কবে, কখন সেই শুভ দিনটি আসবে, যেদিন মহামান্য রাষ্ট্রপতি বহু প্রতীক্ষিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের নাম ঘোষণা করবেন। এই বিশাল আয়োজন ও রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যস্ততা দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন মনের মতো হলে আর চিন্তা নেই। সব দলের, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সব আশাই পূরণ হয়ে যাবে এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে। আমাদের রাজনীতি যে কত জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, তা এই তৎপরতা থেকেই অনুমান করা যায়। কারণ জনগণের ওপর কোনো দলের আস্থা আছে বলে মনে হয় না। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ও সামরিক সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হয়েছিল সেখানে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিল, কারণ বঙ্গবন্ধু জনগণের পাশে ছিলেন, আর জনগণও বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিল। বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে জনগণ ভোট না দিলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো সম্ভব নয়। সেই আশি বা নব্বইয়ের দশকে অবৈধ সামরিক সরকারের পক্ষে যা সম্ভব ছিল, আজ তা অসম্ভব। ক্ষমতায় যেতে হলে বা থাকতে হলে অবশ্যই জনগণের পাশে থাকতে হবে, জনগণের সমস্যাগুলো জানতে হবে এবং সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। দেশে ব্যাপক দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব, সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতাসহ জাতীয় জীবনে অনেক সমস্যাই রয়েছে। এ ছাড়াও দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আজ প্রায় ধ্বংসের পথে। সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের ফলে সামাজিক অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোররা চুরি, ছিনতাই, ইভ টিজিং এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়ংকর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।   কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই জনগণের সমস্যা নিয়ে কোনো আন্দোলন, সংগ্রামের কর্মসূচি নেই। বর্তমানে রাজনীতির সঙ্গে অর্থের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে অর্থ উপার্জন আর ক্ষমতায় থাকা অথবা যাওয়া। তাই সমস্যা নির্বাচন বা নির্বাচন কমিশনে নয়, সমস্যা আমাদের রাজনীতিতেই। যত নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনই গঠন করা হোক না কেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হবে না, যদি আমাদের রাজনীতিকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রভাবমুক্ত করা না যায়। আমাদের রাজনীতিকে জনকল্যাণমুখী ও ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান হতে পারে।

 

বিপ্লব

ফরিদপুর।   

 


মন্তব্য