kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়েও ভাবুন

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে অনেক ইতিবাচক দিক থাকার পরও একটি বিষয়ে তিনি উল্লেখ করার মতো সফল হতে পারেননি। আওয়ামী লীগে অন্তর্কোন্দল বরাবরের মতোই আছে।

একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী নেতা দলীয় সিদ্ধান্তকে অমান্য করে কর্মীদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করছেন। একসময়ের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর দানবীয় কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের সব অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষও সম্মেলনের প্রতি তীক্ষ নজর রাখছে। সেনা ছাউনিতে নয়, তৃণমূল থেকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আওয়ামী লীগের জন্ম। কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে আরো কিছু বিষয় সামনে এসেছে। ২০০৯ সালে সংশোধিত জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো সর্বস্তরের কমিটিতে নারীদের ৩৩ শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। কিন্তু ৭৩ সদস্যের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতিসহ মাত্র ৯ জন নারী আছেন। আগামী কমিটির সদস্য সংখ্যা ৮১ হলে নারী সদস্য সংখ্যা ২৭ হওয়ার কথা। আশা করি নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি আওয়ামী লীগ নেতারা এই কাউন্সিলে গ্রহণ করবেন। সভাপতি পদে শেখ হাসিনা পুনর্নির্বাচিত হবেন এটা শতভাগ নিশ্চিত। ১৯৮১ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবে উত্তরাধিকার সূত্রে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার সভাপতি হওয়াটা কেবলই তাঁর যোগ্যতার মূল্যায়ন। অন্যান্য পদে কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে যাঁরা সৎ ও যোগ্য তাঁরা যেন কমিটিতে আসতে পারেন, সেটাই দেশবাসী কামনা করে। নচেৎ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্মেলনের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই গুরুত্ব পাবে। জঙ্গিবাদ দেশ ও মানবতার শত্রু। রাজনৈতিক দলসহ সব শ্রেণির মানুষকে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ‘কাউন্সিলের মাধ্যমে জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত আসছে। ’ দেশের মানুষ সে সিদ্ধান্তটি জানার জন্য সম্মেলন পর্যন্ত গভীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছে।

এস এম রওনক রহমান আনন্দ

স্কুলপাড়া, ঈশ্বরদী, পাবনা।


মন্তব্য