kalerkantho


সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ায় দেশের তরুণ সমাজ এখন তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করেই মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। তাদের  পারিবারিক ও মানবিক মূল্যবোধ, স্নেহ, মায়া, মমতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদি গুণাবলি লোপ পাচ্ছে। দিন দিন তরুণরা হিংস্র ও নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। সম্প্রতি সিলেটে প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজ ছাত্রী খাদিজার ওপর নৃশংস হামলা, ফরিদপুরে ছেলের দেওয়া আগুনে পুড়ে পিতার মৃত্যু, চট্টগ্রামে ছেলের হাতে মায়ের মৃত্যু ইত্যাদি অসংখ্য অস্বাভাবিক ঘটনা সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের ফলেই হচ্ছে। এক দিন বা দুদিনেই এই কিশোর ও তরুণরা নৃশংস বা ভয়ংকর হয়ে হয়ে ওঠেনি। অপসংস্কৃতির কবলে পড়েই ধীরে ধীরে তারা উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠছে এবং পরিবার ও সমাজে অস্বাভাবিক আচরণ করছে। দেশের শিশু-কিশোর ও তরুণদের এই সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে এ থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় সমাজ সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে।   মা-বাবা তাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানকে দামি মোবাইল কিনে দিচ্ছে, যার মাধ্যমে বিপজ্জনক কনটেন্টও তারা দেখার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখন পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই নেই। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণ বা জ্ঞানার্জনের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীরা পরিবার, সমাজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদর্শবান কাউকে খুঁজে পায় না, যাকে তারা নিজেদের জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবে।

অর্থাৎ সমাজে আদর্শবান, চরিত্রবান ও দেশপ্রেমিক মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। যেকোনো মূল্যে সমাজে, পরিবারে ও কর্মস্থলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষক ও পরিবারের সবাইকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। এখনো যে শিশুরা মোবাইল বা ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে দূরে আছে, অন্তত তাদের তথ্যপ্রযুক্তির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হবে।

বিপ্লব

ফরিদপুর।


মন্তব্য