kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রতিরোধেই বন্ধ হবে নারী নির্যাতন

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



প্রতিরোধেই বন্ধ হবে নারী নির্যাতন

পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে নারী নির্যাতন বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের সন্তানরা আদর্শ শিক্ষা পাচ্ছে না।

রয়েছে মাদক ও পর্নোগ্রাফির হাতছানি। রাজনীতিও অনেককে উচ্ছৃঙ্খল করে তুলছে। আইনের যথার্থ প্রয়োগ নেই। এমনকি বিচারপ্রক্রিয়ায় চলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার। নারী নির্যাতন রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে কঠোরতম শাস্তি। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোনে ও ই-মেইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

 

►   পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জেন্ডার-সংবেদনশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে এবং নারী-পুরুষের প্রতি সমান শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। সর্বস্তরে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। জাতীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি, বেসরকারি, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। নারী ও মেয়েশিশু নির্যাতন ‘পারিবারিক ব্যাপার’ হিসেবে বিবেচনা করে আমরা অনেকেই এটি নিয়ে কথা বলতে বা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে উৎসাহী হই না। এখন সময় এসেছে নীরবতার সংস্কৃতি ভুলে গিয়ে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার।

এস এম রওনক রহমান আনন্দ

বিমানবন্দর সড়ক, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

►   দরকার দোষীদের অল্প সময়ের মধ্যেই বিচারের সম্মুখীন করা এবং ভয়ংকর শাস্তি নিশ্চিত করা। অভিযুক্তের পক্ষে যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় কাজ না করে এবং মোড়লরূপী হায়েনারা যেন তাদের পক্ষ হয়ে বিচারে বা সামাজিকভাবে প্রভাব বিস্তার না করতে পারে—এসবে খেয়াল রাখাটা খুবই জরুরি। আর তার চেয়ে বড় কাজ হবে শিকার হওয়া নারীকে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়তে সহায়তা করা। গণমাধ্যমকে সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে নারীদের যাতে কোনো অবস্থায় কোনো বৈষমের শিকার হতে না হয়। নারী নির্যাতন, নারী ধর্ষণকারী বা নারী হত্যাকারী নরপশুকে সামাজিকভাবেও বয়কট করতে হবে।

এস এম সাইদুর রহমান উলু

এয়ারপোর্ট রোড, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

►   ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে। মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। নারীদের প্রতি সহনশীল হওয়া, আচরণে ইতিবাচক চিন্তাধারা থাকা লাগবে। আইনগুলোকে প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

তকরিমুল মোস্তফা

সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম।

 

►   পারিবারিকভাবে আজ ছেলেমেয়েরা অসামাজিক হয়ে বড় হচ্ছে। ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে অরুচিসম্পন্ন বিষয়াবলিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা জোরালো হতে হবে।

হাবিবুল ইসলাম রুবেল

খিলগাঁও, ঢাকা।

 

►   একটি এফএম রেডিওতে ‘জীবনের গল্প’ নামে একটি অনুষ্ঠান হয়। এর অনেক পর্ব শোনার সৌভাগ্য হয়েছে। ৮০ শতাংশ মেয়ে নিজের ঘর, প্রতিষ্ঠান বা সমাজের কুরুচির স্বীকার। জানি না কতটুকু সত্য, কতটুকু মিথ্যা। তবে আমার বিশ্বাস কেউ তাদের নিজের দৈহিক নির্যাতনের কথা স্বীকার করতে গিয়ে মিথ্যা বলবে না। এই নারী নির্যাতন বন্ধ হতেই হবে।

তানজিদ হাসান

মাওনা, শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

►   বখাটেসহ সব সমাজবিরোধীর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অপরাধীদের শনাক্ত ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে হবে। দ্রুত সাজার ব্যবস্থা করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

►   শিক্ষাঙ্গনে যারা নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, তারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের সদস্য। এটি আমাদের চিন্তিত করে। এসব অপরাধীর বিচারপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব কেউ কউ ব্যবহার করতে পারে। পরিবারের ক্ষেত্রে অনেক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের যথাযথ উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। কাউকে দেখা যায় মেরে ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা হয় অথবা লাশ গুম করা হয়, যা দীর্ঘদিন পর পেয়ে সঠিকভাবে সুরতহাল বা ময়নাতদন্তই করা যায় না। সিলেটের খাদিজা এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আমাদের প্রার্থনা থাকবে, তিনি বেঁচে উঠুন আর বদরুল যেন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ায় এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা। দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ, যেখানে যেভাবে নারী নির্যাতন হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে সচেতন হোন। প্রতিবাদই কেবল নারী নির্যাতন বন্ধ করতে পারে।

ওয়াহিদ মুরাদ

স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর।

 

►   পরিবার থেকেই সব কিছুর সূত্রপাত। তাই পরিবারে ছেলেমেয়েদের বোঝাতে হবে, মেয়েরা মায়ের জাত। পবিত্র কোরআনেও নারীকে পুরুষের চেয়ে বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সরকার চাইলে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত নারীর মর্যাদা বিষয়ে একটি গল্প বা প্রবন্ধ সিলেবাসে রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় নারীর মর্যাদা বিষয়ে প্রচারণা চালাতে হবে।

তানভীর আহমেদ

গুলবাগ, ঢাকা।

 

►   সরকার অন্যায়কারীদের শাস্তি দিতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলছে। আইনের সঠিক প্রয়োগ করা গেলেই কেবল নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। আর এটি করতে না পারলে সরকার ব্যর্থ বলে গণ্য হবে। কারণ আমাদের দেশের মূল চালিকাশক্তি হলো নারী। তাই উন্নয়নে তাদের গুরুত্ব অপরিসীম।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►   সম্প্রতি নারী নির্যাতনের ওপর যে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে, তা দেখে আমি লজ্জিত। কেননা একজন নারীর প্রতি নির্যাতনের আগে আমাদের এ কথাটি একবার ভাবা উচিত—আমরাও কোনো না কোনো নারীর সন্তান। পাশাপাশি শিশুদের পরিবারের নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা দিতে হবে।

এম এম শাক্কুর আলম

জিঞ্জিরা, ঢাকা।

 

►   সিলেটে ঘটে যাওয়া খাদিজা বোনটির ঘটনা ভিডিওতে যতবার চোখের নজরে পড়েছে, ততবার চোখ ভেজাই জলে। জানোয়ারের চেয়েও জঘন্যতম এই কাণ্ড কী করে মানুষ করতে পারে? কিছু মানুষ কেন আজ মানুষে নাই, কেন তারা দিনে দিনে জানোয়ারের চেয়েও নিকৃষ্ট হচ্ছে? এদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

ইয়াছিন খন্দকার লোভা

কিংডম অব বাহরাইন।

 

►   আমাদের দেশে সাম্প্রতিক সময়ে যে হারে নারী নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে অচিরেই দেশের শিক্ষাসহ সার্বিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে, যা মাত্র দুদিন আগেই আমাদের মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন। এটি শতভাগ সমর্থনযোগ্য, সর্বজনীন এবং অত্যন্ত সময়োপযোগী দাবি। নারীর প্রতি অপরাধ ছোট-বড় বিবেচনায় না এনে বরং যেকোনো ধরনের নারী নিপীড়নের জন্যই কঠোর ও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান অবশ্যই রাখতে হবে। সাধারণ আদালতের মতো শম্বুকগতিতে নয় বরং অতি দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। দ্রুতবিচারের রায় কার্যকর করতে হবে। সর্বোপরি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট কেউই যাতে অপরাধীর পক্ষ নিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

হুমায়ুন কবির

 

হাজারীবাগ, ঢাকা।

►   দুর্বল আইনের শাসনই এর মূল কারণ। সমাজ ও পরিবারে নারীর অধস্তন অবস্থাও নারী নির্যাতনের জন্য দায়ী। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা বাড়াতে হবে, যাতে করে নারীর আত্মসম্মান বাড়ে এবং নিজের অধিকারটি বুঝতে পারে। তবে সবার আগে প্রয়োজন সমাজের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন জোরদার করতে হবে। সেই সঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লেখক, গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদদের সোচ্চার হতে হবে। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ সালে সংশোধন করা হলেও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়ে  গেছে। সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে আইনটিকে আরো যুগোপযোগী করতে হবে। কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধে আরো একটি আইন প্রণয়ন করতে হবে। মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষী ও ভুক্তভোগীকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

আলমগীর ইমন

লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

 

►  নারীরা আদিকাল থেকেই পুরুষের নির্যাতনের শিকার। পুরুষের খড়্গ যে বারবার তাদের ওপর নেমে আসে, তার কারণ বিচারের অভাব। ‘কোনো অপরাধী পার পাবে না’ বলে আমরা তাত্ক্ষণিক আশ্বাস দিই। পরে কাজের কাজ কিছু হয় না। তনু, রীতা, মিতু, খাদিজার মতো হাজারও নারী আমাদের নারী নিরাপত্তার দুর্বল জায়গাটিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। আর কত বিচার চাইব আমরা? খাদিজা কি নতুন জীবন পেয়ে ফিরে আসবে আমাদের মাঝে? আমরা জানি না। অভিযুক্ত বদরুলও কি ছাত্রত্ব ফেরত পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে না? এ দেশে সবই সম্ভব। নারীরা দিন দিন অসহায় থেকে অসহায়তর হচ্ছে। রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় থাকা বদরুলের মতো কুলাঙ্গারদের হাত থেকে সমাজ মুক্তি না পেলে নারীরাও নিরাপদ বোধ করবে না। বদরুলের মতো অপরাধীদের ট্রাইব্যুনালে বিচার হতে হবে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

►  পর্দার বিধানকে জোরালো করতে হবে। স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তক থেকে যেভাবে ইসলামের মৌলিক বিধিবিধানগুলো সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, পরস্পরের সম্মতিতে যৌন অনুভূতি প্রকাশ দোষের কিছু নয় বলে শিক্ষার্থীদের যেভাবে অবাধ ও অবৈধ যৌনতার দিকে উসকে দেওয়া হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে নারী নির্যাতন জ্যামিতিক হারে বাড়বে। নারী নির্যাতনকে ‘না’ বলুন—এসব সস্তা প্রচারণায় চার আনারও লাভ হবে না।

ডা. মো. মাকসুদ উল্যাহ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

 

►   করণীয় হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সৎ ও চরিত্রবান করে গড়ে তোলা এবং এ বিষয়ে প্রতি সপ্তাহে শ্রেণিভিত্তিক অথবা যৌথভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভার আয়োজন করা। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সৌজন্য ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে। সিলেটে বদরুল নামে সরকারি ছাত্র সংগঠনের নেতা হিসেবে খাদিজার ওপর যে আক্রমণ চালিয়েছে তা খুবই দুঃখজনক ও ন্যক্কারজনক। এতে বোঝা যায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষার্থীর চরিত্র কতটা নিচে নেমে গেছে। এদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে অবশ্যই অন্যরা সতর্ক হবে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা ও নিয়মনীতি পালনের ব্যাপারে সবাইকে কাজ করতে হবে। অভিভাবকদেরও নিজ নিজ সন্তানদের প্রতি আচরণ ঠিক রাখতে হবে।

মো. আবদুল হান্নান

মানপুর, লাখাই, হবিগঞ্জ।

 

►   সমাজে সবার মধ্যে প্রতিরোধ গড়ে ওঠা জরুরি। দেশে খারাপ মানুষের সংখ্যা খুব কম। তাই অল্প কিছু খারাপ মানুষ হটাতে ভালো মানুষগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

শেখ মোহাম্মদ আলী

তালতলা বাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

►   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারী হয়রানি প্রতিরোধে সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত খসড়াটি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত আইনে রূপান্তর করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে অপরাধীদের কঠোর বিচার।

নৌশিন নাওয়াল সুনম

বাবুপাড়া, ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

►   অপরাধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী হলেই প্রতিরোধ করতে মানুষ ভয় পাবে? বিচারের নামে আইওয়াশও আমরা দেখতে চাই না।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

►   সিলেটের কলেজ ছাত্রী খাদিজার ওপর যেভাবে হামলা হলো, তা সভ্য সমাজে চলতে পারে না। ছাত্রলীগে এ ধরনের কর্মী স্থান পায় কী করে? মা-বাবাই বা কিভাবে এমন সন্তান বড় করেছে? আগেও বদরুল উত্ত্যক্ত করেছিল খাদিজাকে। তখন এর বিচার হলে আজ খাদিজার এই পরিণতি হতো না। তাই সমাজ ও রাষ্ট্র এর দায় এড়াতে পারে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। স্পিকারও নারী। নারীর ক্ষমতায়নে আমরা যখন এগোচ্ছি, কিছু কিছু ঘটনায় লজ্জায় আমাদের মাথা হেঁট হয়ে যায়। মাদকের কারণেও নারী নির্যাতন বাড়ছে। ফিলিপাইনের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান ক্ষমতায় এসেই যেভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড দিতেও দ্বিধা করছেন না, আমাদের দেশেও এমন কঠোর পলিসি আমরা চাই।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

 

►   নারী নির্যাতন এ সময়ের জটিল ও স্পর্শকাতর এক সমস্যা। এর কৌশলও আজকাল বদলে গেছে। প্রযুুক্তির ব্যবহার করেও মেয়েদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে অভিভাবকদেরও সতর্ক হতে হবে। খেলাধুলা, সংস্কৃতির চর্চা—এসবের ওপর জোর দিতে হবে। সমস্যার সমাধান হয়তো রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে চেষ্টার ত্রুটি থাকা চলবে না। ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করাসহ আইনের শাসন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা নির্যাতনের লাগাম টেনে ধরতে পারব। সমাজ একবার সঠিক পথে যাত্রা করলে একসময় নারী ও শিশুসহ প্রত্যেক মানুষ নিরাপত্তা পাবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►   দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার না হওয়ার কারণে নারী নির্যাতন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোনো ভণ্ডামি নয়, সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থাই দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে পারে।

নজরুল ইসলাম খান

নতুন জুরাইন, ঢাকা।  

 

►   একজন প্রমাণিত দোষী, অন্তত যার খুনি হওয়ার ব্যাপারে কোনো ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে বহুল প্রচারিত হয়ে পড়ে, তার ব্যাপারে কিসের এত আইন-আদালত? এসব দোষীর দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে মানুষের মনে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার করতে হবে যেন নারী নির্যাতনকারীর কোনো রেহাই নেই।

আবদুল্লাহ আল-হাদী সোহাগ

ব্যাংক কলোনি, সাভার।

 

►  একরোখা আইন প্রণয়ন বন্ধ করতে হবে। ক্ষমতাসীনদের আইনের আওতায় এনে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন না করতে পারলে নারীদের সারা জীবন দাসত্ব করে যেতে হবে।

মেহেদী হাসান হিমেল

সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, মুন্সীগঞ্জ।

 

►   নারী নির্যাতনগুলো ঘটেই থাকে বিকৃত মানসিকতা থেকে। যারা নারী নির্যাতন করতে পারে, তারা হয়তো নারী নির্যাতন দেখে বড় হয়েছে বা তার পরিবার নারীদের শ্রদ্ধা করতে শেখায়নি। নৈতিকতার শিক্ষার হ্রাস, অপসংস্কৃতি ও শ্রদ্ধাবোধ কমে যাওয়ার কারণেই দিন দিন বাড়ছে নারী নির্যাতন। পরিবার হচ্ছে নৈতিক শিক্ষার আঁতুড়ঘর। নারী নির্যাতন বন্ধে নির্যাতনকারীর বিচার করার পাশাপাশি নারীদের জন্য বিদ্যালয়ে, কর্মস্থলে অবশ্যই ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে হবে। সবার আগে দরকার মানুষের সচেতনতা। সেদিন খাদিজাকে কোপানোর সময় মানুষ কেন দাঁড়িয়ে ছিল?  সবাই যদি রুখে দাঁড়াত, মেয়েটিকে এত কোপাতে পারত না। মানুষকে রুখে দাঁড়ানো শেখাতে হবে।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

►   নারীর প্রতি নির্যাতন বন্ধ করতে হলে প্রথমে যৌতুক বন্ধ করতে হবে। পুরুষদের মনে রাখতে হবে, নারী ভোগের পাত্র নয়—সে যেমন বোন, বধূ, তেমনি মা।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আরজতপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

 

►   গ্রাম বা কৃষিভিত্তিক বাঙালি সমাজব্যবস্থা থেকে সরে আসা, শিল্পনির্ভর জীবিকা, আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন, ভোগবাদী মানসিকতা ইত্যাদি কারণে আমাদের মূল্যবোধে পরিবর্তন ঘটছে। কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এমনই বদলে গেছে, তারা নারীকে মানুষ ভাবতে পারে না। তাই পারিবারিক মূল্যবোধ অটুট রাখতে হবে। সমাজ ও প্রশাসনকে নজরদারি বাড়াতে হবে। দাম্পত্যজীবনে ভুল-বোঝাবুঝি হলে দূরত্ব ঘোচানোর পরীক্ষিত কৌশলগুলো প্রয়োগ করতে হবে। নারীকে মা ও মেয়ে হিসেবে দেখতে হবে।

হরেন্দ্রকুমার নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

►   সামাজিক প্রতিরোধের সংস্কৃতি কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে? খাদিজার ওপর হামলার ভিডিও ধারণ যারা করেছে তারা কি পারত না এগিয়ে গিয়ে হামলাকারীকে প্রতিরোধ করতে? সবাই বলে থাকে অপরাধী যেই হোক, ছাড় পাবে না। তবে বাস্তবে আমরা এই আশ্বাসের প্রতিফলন দেখি না। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি না হলে সমাজ আরো অবনতির দিকে যাবে।

মোহাম্মদ আলী

বোরহানপুর, হাজারীবাগ রোড, ঢাকা।

 

►   অগ্রগতির সমান অংশীদার যে নারী, তারা আজ নিরাপদ নেই। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে নারী নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।

মোমিন হৃদয়

নাটোয়ারপাড়া, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

►   নারীরা মায়ের জাত। নারীর সমান অধিকার নিয়েও আমরা অনেক কথা বলি। অথচ নারীর নির্যাতনের শিকার হওয়া আমরা প্রতিরোধ করতে পারছি না। প্রকাশ্যে একজন ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা—এ কোন সময়ে আমরা বসবাস করছি? আর সভা-সেমিনার করে লাভ নেই। যেখানে যে অবস্থায় নারী নির্যাতিত হচ্ছে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। হামলাকারীকে ধরে তাত্ক্ষণিক পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।

মোহাম্মদ জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

►   নারীদেরই আজ সংঘবদ্ধ হয়ে নির্যাতন মোকাবিলা করতে হবে। জাতিসংঘ সনদসহ সব দেশেই নারীদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন আইনকানুন আছে। সেগুলোর বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।  

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

►   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে নারী নির্যাতনের শাস্তি ও খারাপ দিকের কথা জানানো যায়।

আবদুল মোতালেব

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

►   আইনের স্বচ্ছ ও কঠোর প্রয়োগ দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। মানুষকে বিবেকবান হতে হবে।

আবদুর রাজ্জাক নাছিম

রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।


মন্তব্য