kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

মৃত ঘোড়া!

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ভারত ও পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের কারণে ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে সার্ক। এর জন্য কখনো পাকিস্তান আবার কখনো ভারত দায়ী।

গত ৩০ বছরে সার্কের আওতায় ২৬টি চুক্তি ও ১৮টি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সার্ক দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য সাপটা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরের বছর থেকে তা কার্যকর করার কথা থাকলেও স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকা নিয়ে দুই প্রভাবশালী সদস্য রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের অনমনীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণে চুক্তিটির বাস্তবায়ন আটকে আছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতের বেনিয়া ও সংরক্ষণনীতি। এ ছাড়া আছে স্পর্শকাতর পণ্যের তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলো পরস্পর পরস্পরকে ছাড় না দেওয়ার প্রবণতা। ফলে আন্তবাণিজ্য সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। ১৯৮৫ সালে সার্ক যখন যাত্রা শুরু করেছিল তখন এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের হার ছিল ৩.২ শতাংশ। ৩০ বছর পর এখন এই হার মাত্র ৫.৮ শতাংশ। পক্ষান্তরে আসিয়ানের ক্ষেত্রে আন্তবাণিজ্যের হার ২৫ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে তা ৬০ শতাংশের বেশি। সার্কের আওতায় প্রথমে সাপটা ও পরে সাফটা স্বাক্ষরের পরও আন্তবাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসেনি। অনেক সফলতাও এসেছিল সার্কের মাধ্যমে। সব থেকে বড় সফলতা ছিল প্রভাবশালী দুটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধ না হওয়া। এ ছাড়া ক্রীড়া, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও কারিগরি দিক থেকে ব্যাপক সফলতা এসেছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ না ছাড়লে সার্ক একটি মৃত ঘোড়া হয়ে থাকবে।

হাবিবুল ইসলাম রুবেল

খিলগাঁও, ঢাকা।


মন্তব্য