kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাকিস্তানকে বহিষ্কার করে সার্ক পুনর্গঠন করুন

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বজায় রাখার স্বার্থে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সার্ক পুনর্গঠন করা এবং আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারকে সার্কের অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না তা ভেবে দেখতে হবে। কারণ দেশটিতে দীর্ঘদিন পর গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

যেহেতু প্রথমে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেই সার্ক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তাই এ সংস্থার পুনর্গঠনের উদ্যোগও বাংলাদেশকেই নিতে হবে। এই আঞ্চলিক সংস্থাকে আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করে এই সার্কের মাধ্যমে বিপজ্জনক সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে হবে। সেই সঙ্গে আমরা আশা করি, বিশ্বের কোনো সভ্য ও শান্তিকামী দেশ কোনো অবস্থায়ই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানকে সমর্থন করবে না। কারণ বিশ্বের অধিকাংশ দেশই বর্তমানে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

বর্তমানে বিশ্বায়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে সার্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সার্কের গুরুত্ব দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাবে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কাজেই শুধু পাকিস্তানের কারণে সার্কের কার্যক্রম বন্ধ রাখা যায় না। পাকিস্তান এরই মধ্যে এ অঞ্চলে একটি অনিরাপদ, অকার্যকর ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশটি পুরো দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্বশান্তির জন্য বিপজ্জনক। পাকিস্তান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীরা প্রতিবেশী দেশগুলোতে নানাভাবে হামলা চালাচ্ছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের বর্বর সেনাবাহিনী বাংলাদেশের ৩০ লাখ সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, লাখ লাখ মা-বোনের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে; কিন্তু তারা আজও তাদের এই জঘন্য অপকর্মের জন্য বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চায়নি, এমনকি দুঃখও প্রকাশ করেনি। তারা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করছে। এই কাণ্ডজ্ঞানহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন দেশটির হাতে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র, যা তারা যেকোনো সময় যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে অপব্যবহার করতে পারে। এর ফলে পুরো এশিয়া মহাদেশ, এমনকি বিশ্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র অকার্যকর করাও অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে নিজ নিজ দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

বিপ্লব, ফরিদপুর।


মন্তব্য