kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সন্ত্রাস নিয়ে সার্ক এগোতে পারবে না

‘অনেক সম্ভাবনা থাকার পরও সার্ক সাফল্যের মুখ দেখেনি। এবার সার্কের পাকিস্তান সম্মেলনও ভণ্ডুল হয়ে গেছে। বাংলাদেশসহ চারটি দেশের সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা যথার্থ হয়েছে। কারণ পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে নিরাপদ নয়। এ ছাড়া দেশটি যেভাবে জঙ্গিবাদের লালনক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, তাদের সঙ্গে কোনো আপস চলে না। তবে সার্কের অস্তিত্বের স্বার্থে নতুন কোনো দেশে সম্মেলন করা যেতে পারে। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোন ও ই-মেইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সন্ত্রাস নিয়ে সার্ক এগোতে পারবে না

♦ কোনো নেতিবাচক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠান গড়া হলে তা বেশি দিন টেকে না। ১৯৭৫ সালের পর বঙ্গবন্ধুর নামনিশানা মুছে দেওয়া এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে মুছে দেওয়ার জন্য বহু কৌশল করা হয়েছে।

এ জন্য একটি ব্যক্তির নাম প্রথম দিকেই থাকে। সাবেক এই রাষ্ট্রপতির হাত ধরেই সার্ক গঠিত হয়েছিল। আমি মনে করি, এই সার্ক গঠনের পেছনেও তাঁর সৎ উদ্দেশ্য ছিল না। এর কিছু লক্ষণই এখন আমাদের সামনে হাজির। বিগত সার্ক সম্মেলনগুলোতে আমরা দেখেছি, বড় ধরনের পিকনিক ছাড়া কিছুই অর্জন হয় না। সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ড বলতে কিছু আমরা পাইনি। সার্ক একদিন হারিয়ে যাবে, কাজের কাজ কিছুই হবে না। সার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়াই ভালো। পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে ভিন্ন নামে নতুন সংস্থা গড়তে হবে।

নাসিম আফজাল

বাবুরাইল, নারায়ণগঞ্জ।

 

♦ আগামী সার্ক সম্মেলন পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এটি স্থগিত, পেছনে যে কয়টি কারণ বিদ্যমান তা অত্যন্ত যৌক্তিক। বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে পাকিস্তান বরাবরই যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কাশ্মীরে যুদ্ধ করার মতো ঘৃণ্য চক্রান্তে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাকিস্তান এমনিতেই অস্থিতিশীল রাষ্ট্র। নিজের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারের কারণে আজ তারা বিশ্বে ঘৃণিত। তাই বলতে হয়, নিজের ঘর সামাল দিয়ে অপরের নামে গালি দিয়ো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সার্ক সম্মেলনে যে চারটি দেশ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করছি।

ওয়াহিদ মুরাদ

নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।  

 

♦   সম্মেলন স্থগিত করা বুদ্ধিমানের কাজ। যেহেতু বর্তমানে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে, সেহেতু এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে প্রথমে শান্তিপূর্ণ আলোচনা প্রয়োজন। আলোচনা ফলপ্রসূ হলেই সার্ক সম্মেলন আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

মো. রতন

সদরঘাট, ঢাকা।

 

♦ এবারের সার্ক সম্মেলন স্থগিত করাটা ভালো হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে, অতিদ্রুত এটাকে সামাল দিতে হবে। কারণ এর ফলে পাকিস্তানের ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তানে আগে থেকেই জঙ্গি তত্পরতা রয়েছে। এখন নতুন এই সুযোগকে ব্যবহার করে জঙ্গিরা আরো বেশি ফায়দা লুটবে। আমাদেরও খেয়াল রাখতে হবে, যেন আমাদের দেশের সীমান্তে তারা প্রবেশ না করে।  

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

♦ সম্মেলন এখন কিছু দেশের কারণে ব্যর্থ হতে চলছে। সার্কের বর্তমান অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত আঞ্চলিক সাহায্যের ক্ষেত্র প্রসারিত হোক।

আবদুর রাজ্জাক নাছিম

চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।  

 

♦ পাকিস্তান কেন একটি স্বাধীন দেশের বিরুদ্ধে বারবার নাক গলাচ্ছে? পাকিস্তান নিজেই তাদের দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ফলে তারা সার্কভুক্ত দেশের প্রতিনিধিদের কিভাবে নিরাপত্তা দেবে? পাকিস্তান শুধু বাংলাদেশ নয়, তারা ভারতের সঙ্গেও এমন আচরণ করছে। সার্কভুক্ত দেশগুলো পাকিস্তানের সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ না দিলে বাংলাদেশ কোনো সমস্যায় পড়বে বলে আমার মনে হয় না, বরং এটা অনেক দিক থেকেই প্রতিবাদ হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

♦ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। এটা পাকিস্তানের জন্য হুমকিস্বরূপ। এর পরে যদি অন্য কোনো দেশে এমন সার্ক স্থগিত হয়, সেটার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করা হবে।  

মোকাদ্দেস হুসাইন

গ্রাম : পাঙ্গাসী, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

 

♦ এখন পাকিস্তানের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে এ সম্মেলন আয়োজন করা হলে আমি বলব, সার্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। কারণ পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে অন্য দেশে সার্ক সম্মেলন হওয়া দেশটি তা নাও মেনে নিতে পারে। বেধে যেতে পারে দ্বন্দ্বযুদ্ধ।

রাকিবুল প্রিয়

রূপসা, সিরাজগঞ্জ।

 

♦ শুরুতে যেমন পাক-ভারত সম্পর্কের কারণে অচল হয়ে পড়েছিল সংস্থাটি। বর্তমানেও সে পথেই হাঁটছে। এমতাবস্থায় সংস্থাটি টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হবে। দ্বিপক্ষীয় যেকোনো সমস্যা দুই পক্ষের কূটনৈতিক আলোচনায় সমাধান করা যেতে পারে।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।

 

♦ ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের সক্রিয় দূতিয়ালিতে (কথিত আছে বিশ্ব পরাশক্তির ইন্ধনে তাদেরই স্বার্থ রক্ষার্থে আমাদের দেশের বংশানুক্রমিক অবৈধ জান্তা সরকারের সক্রিয় দূতিয়ালিতে) জন্ম নেওয়া সার্ক গত তিন দশকেও বিশ্ববাসীর কাছে মর্যাদাসম্পন্ন ফোরামে উন্নীত হতে পারেনি। সার্কের সফলতা কামনা করছি।

ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

♦ প্রায় ২০০ কোটি মানুষের আর্থ-সামাজিক ও যোগাযোগের উন্নয়নের জন্য গঠিত সার্ক সমিতি আজ মৃত বা আইসিইউতে আছে। গত তিন দশকে সার্ক নামক সমিতি চা-নাশতা-বিরিয়ানি খাওয়া ছাড়া ২০০ কোটি জনগণের ভাগ্য বা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। এর পুনর্গঠন জরুরি।

নজরুল ইসলাম খান

নতুন জুরাইন, ঢাকা।

 

♦ এ রকম উদ্দেশ্যচ্যুত হয়ে বিপথে হাঁটলে, নিজেকে না শুধরে নিলে শিগগিরই সার্ক বিলীন হতে বসবে।

এস আর শানু খান

মনোখালী, শালিখা, মাগুরা।

 

♦ যে দেশ আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে না, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার মানে না, তাদের সঙ্গে আর যা-ই হোক সহযোগিতা হতে পারে না। অন্য দেশগুলোর সিদ্ধান্ত কী হবে সেটা তাদের ব্যাপার। আমাদের চলতে হবে ভারত নয়, পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশ বরাবর। পাকিস্তান যদি ওপরে ওপরে সহযোগিতার কথা বলে আর নিচে নিচে অন্য দেশের অনিষ্ট করতে চায়, তাহলে তো তা অন্য দেশগুলো মেনে নেবে না। কেবল বাংলাদেশই নয়, সমগ্র বিশ্বই জানে পাকিস্তানের স্বরূপ। লাখ লাখ ডলার সহায়তা নেয় আমেরিকার কাছ থেকে সন্ত্রাস দমনের জন্য। সেই অর্থে লাদেন লালন চলে।

বিশ্বজিৎ গোলদার

আমগ্রাম, রাজৈর, মাদারীপুর ।

 

♦ ইসলামাবাদের অনুষ্ঠান বাতিল হতে পারে; কিন্তু সম্মেলন বাতিল হতে পারে না। আর পাকিস্তানের এমন আচরণ নতুন নয়। ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের বিদ্যুৎ, সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি শেষ মুহূর্তে এসেও করা যায়নি মূলত পাকিস্তানের বিরোধিতার কারণে। তিন দশকে সার্ক তেমন কোনো কার্যকর উন্নয়ন, উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারেনি। তবু আশার আলো দেখে যাচ্ছে সার্ক অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো। সার্ককে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। ১৯তম সার্ক সম্মেলনের জন্য নতুন স্থান ঠিক করাই হবে সভাপতির উত্তম কাজ।

রহিমা আক্তার মৌ

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

♦ সার্ক সম্মেলন দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। এবার সমস্যা দেখা দিয়েছে ভালো কথা, সমাধান বের করতে হবে। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতেই হবে। অন্য দেশে হোক, তাতেও আমাদের আপত্তি নেই।

আনসার আলী মণ্ডল

কাশিনাথপুর, পাবনা।

 

♦ এক কাঠি অনায়াসে ভাঙা যায়, ১০ কাঠি এক হলে তা ভাঙা যায় না। তাই বলি, নিরাপত্তা রয়েছে এক হওয়ার মাঝেই।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আরজতপাড়া, ঢাকা।

 

♦ এখন বিকল্প ভেন্যুতে সম্মেলন করা যেতে পারে। আবার উপযোগী পরিবেশ তৈরি না করলে এ সংস্থা ভেঙেও যেতে পারে। তখন আঞ্চলিক সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যাবে। এক দেশ অন্য দেশের শত্রুতে পরিণত হতে পারে।

আবদুল মোতালেব

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

♦ পাকিস্তানই আজ এ উপমহাদেশের সন্ত্রাসবাদের লালন ক্ষেত্র! তাই বাংলাদেশের পাকিস্তানে আয়োজিত সার্ক সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক। এখন সম্মেলনটি নয়া দিল্লিতে হতে পারে। পাকিস্তানকে এখানে আমন্ত্রণ না জানিয়ে বরং সার্ক থেকে বহিষ্কার ও বয়কট করা উচিত। নতুন সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসকে বিবেচনা করা যেতে পারে।

হুমায়ুন কবির

হাজারীবাগ, ঢাকা।

 

♦ উদ্ভূত সংকট যত দ্রুত কাটবে ততই মঙ্গলজনক। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সার্ককে শক্তিশালী করবে।

আলমগীর ইমন

লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

 

♦ এ পরিস্থিতিতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলন স্থগিত করাটাই যুক্তিযুক্ত। তা না হলে ভারতসহ অন্য দেশও ক্ষোভে সার্ক থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করতে পারত। তাই পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলন স্থগিত করায় সার্কের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও ভিত্তি ঠিক থাকবে।

মেহেদী হাসান হিমেল

সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, মুন্সীগঞ্জ।

 

♦ কোনো সন্ত্রাসী দল একটি মাত্র দেশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে না, পুরো একটি অঞ্চলকে লক্ষ্য করে এগোয়। তাই সম্মেলন ভেস্তে যাওয়ায় সন্ত্রাসীরা নতুন করে উৎসাহিত হবে। তারা বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিতে চাইবে।

আবদুল্লাহ আল-হাদী সোহাগ

ব্যাংক কলোনি, সাভার।

 

♦ এর আগে কখনো সার্কের চারটি দেশ এভাবে একত্রে সম্মেলনে যোগদানে অস্বীকৃতি জানায়নি। নিয়ম অনুযায়ী সার্ক সম্মেলনে সার্কভুক্ত সব দেশকেই উপস্থিত থাকতে হয়। কোনো একটি দেশের অনুপস্থিতিতে তাদের মতামত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। কাজেই আপাতদৃষ্টিতে সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে সার্কের সব দেশ যদি ঐকমত্যে পৌঁছে সম্মেলনে যোগদান করে, তখনই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আপাতত সার্কের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলেই মনে হয়।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

♦ সমস্যার দ্রুত সমাধান না এলে ভবিষ্যতে সার্ক নামে কোনো সংগঠন থাকবে না। সার্কভুক্ত দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মাসুমা রুমা

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

♦ প্রবাদ আছে, পাটা-পুতার ঘষাঘষি মরিচের প্রাণ শেষ। কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের বৈরী মনোভাব সার্কের আকাশ কালো করেছে। মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলে দেওয়া যাবে না, বরং ব্যথা উপশমের ব্যবস্থা করতে হবে। সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধান খুঁজতে হবে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রধান কারণ কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

শাহনূর ইসলাম শাহীন

সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

 

♦ কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সম্মেলনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তকরিমুল মোস্তফা

সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম।

 

♦ সম্মেলন শুধু স্থগিতই হয়নি, সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্মেলন বাদ দেওয়া যাবে না।

মো. বজলুর রহমান

সেকারা, বহরপুর, রাজবাড়ী।

 

♦ বাংলাদেশ যখন যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে, পাকিস্তান এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। অনেকেই বলে, দুটি বাজে জিনিস রপ্তানি করেছে পাকিস্তান। একটি হলো সন্ত্রাস, আরেকটি হলো নষ্ট বৈদ্যুতিক পাখা! ভারতে যে তারা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন উল্টো তারা ভারতকে সন্ত্রাসী বলে। এ রকম একটি বিতর্কিত রাষ্ট্র সার্কে না থাকলেই ভালো। এদের সঙ্গে নিয়ে সার্ক বেশি দূর এগোতে পারবে না। পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সার্ক এগোবে—এটাই প্রত্যাশা।

মিস নেকাব

মিরপুর, ঢাকা।

 

♦ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হোক কিংবা সহিংস সম্পর্ক থাকুক, আমরা কিছুতেই প্রত্যাশা করি না। সার্ক সম্মেলন সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হোক।

নিকেশ বৈদ্য

জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

 

♦ আঞ্চলিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিকল্প নেই। সার্কের সদস্য দেশগুলোকে খুব দ্রুত ক্ষত সারিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

♦ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক বিরোধ নিয়ে সার্ক অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সম্মেলনে যারা যাবে না বলেছে, তাদের আচরণ দায়িত্বহীন হয়েছে।

মোহাম্মদ জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

♦ পাকিস্তানসহ অত্রাঞ্চলের জনসাধারণ সহজ-সরল ধর্মপ্রাণ ও শান্তিপ্রিয়। তাই সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি এখনো আশাবাদী। মেরেছে কলসির কানা, তাই বলে কি প্রেম দেব না? সার্কভুক্ত দেশগুলোর সব রাষ্ট্রনায়ককে এই মনোভাব ধারণ করতে হবে। সমস্যা আসবেই। সমাধান বের করতে হবে।

হরেন্দ্র কুমার নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

♦ পাকিস্তান পৃথিবীর বুকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছে। আল-কায়েদার সৃষ্টি তাদের হাত ধরেই। ওসামা বিন লাদেনেরও ঘাঁটি ছিল সে দেশে। পাকিস্তান থেকেই সারা পৃথিবীতে সন্ত্রাসের বীজ ছড়িয়েছে। এখন গাছ জন্মে ডালপালা মেলছে। এই যে আত্মঘাতী হামলায় মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে, এর দায় পাকিস্তান কি এড়াতে পারে? ভারতের ১৮ জন সেনা সদস্যকে হত্যার দায় অবশ্যই ওদের মাথা পেতে নিতে হবে। এরপর বিশ্বনেতারা যে পাকিস্তানকে অনিরাপদ দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছেন তা যথার্থ হয়েছে। পাকিস্তানের উচিত অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসা। তাতে পাকিস্তানের লাভ, এ অঞ্চলের মানুষও হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

 

♦ পাকিস্তানের কারণেই সার্ক আজ বিতর্কিত। তাই তাদের বের করে দিয়েই সার্কের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে। তাই বাংলাদেশসহ যেসব দেশ সার্কের সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সবার সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে। পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সার্ক যদি চলে ভালো, না হলে নতুন কোনো ফোরাম গঠন করতে হবে।

এস এম সেলিম রেজা

মমতা ফার্মেসি, ঝিনাইদহ।

 

♦ চার দেশের আপত্তিতে সার্ক সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এবার অন্য কোনো ভেন্যুতে সম্মেলন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হলেই পাকিস্তান উচিত জবাব পাবে। সার্কের সম্ভাবনা উজ্জ্বল; কিন্তু আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। সন্ত্রাসবাদ সমূলে ধ্বংস করার কর্মকাণ্ডেও সার্ক কাজে লাগতে পারে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

♦ সন্ত্রাসে মদদদাতা দেশ হিসেবে পাকিস্তানকে বাদ দিয়েই সার্ককে এগিয়ে নিতে হবে।

এস এম রওনাক রহমান

ঈশ্বরদী, পাবনা।

 

♦ পাকিস্তানে সম্মেলন হচ্ছে না, ভালোই হলো। সার্ক সম্মেলন এখন ভারতে অনুষ্ঠিত হোক। সার্কের সভাপতি দেশ এমন সিদ্ধান্ত দিলে সবাই সাধুবাদ জানাবে।

সুমন শেখ

গাজীপুর।

 

♦ পাকিস্তান একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। এর সর্বশেষ প্রমাণ ভারতের সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ১৮ সেনাকে হত্যা। পাকিস্তানকে বর্জন করতে হবে। সন্ত্রাসের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থেই পাকিস্তানকে একঘরে করতে হবে।

বিজয় জোয়ার্দার

হৃদয়পুর, হাজীপুর, মাগুরা।

 

♦ সার্কে ফাটল আগেও ধরেছে, এবার তা আকারে বড় হলো। কেন এমন হলো—আয়োজকদের এ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। আমরা অস্ত্রের ঝনঝনানি নয়, শান্তি চাই। সার্ক সম্মেলন হতেই হবে। পাকিস্তানের বদলে অন্য কোনো দেশে সার্ক সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা চাই।

মোমিন হৃদয়

নাটুয়ারপাড়া, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ।

 


মন্তব্য