kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ চাই

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কেন এই সড়ক দুর্ঘটনা? কেন এই অকাল অপমৃত্যু? যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএসহ যোগাযোগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কি সদুত্তর দিতে পারবেন? এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় লেখা থাকে ‘দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা’, ‘ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক বা সেতু’, ‘ওভারটেকিং নিষেধ’সহ বিভিন্ন নির্দেশনা। তবু দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তেই থাকে।

বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালনার কারণেই প্রায় ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ ছাড়া অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও সড়কের বেহাল, চালকের মোবাইল ফোনে কথা বলা, খেয়ালিপনা, ফাঁকা রাস্তা পেয়ে প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালনা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, ফুটপাত দখল, ওভারটেকিং, রাস্তার নির্মাণ ত্রুটি, গাড়ির ত্রুটি, যাত্রীদের অসতর্কতা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জেব্রাক্রসিং না থাকা ও না মানা, নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য করা, ধারণক্ষমতার চেয়ে ঈদের সময়ে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা ও রাস্তায় ওভারটেক করার তীব্র মানসিকতা প্রভৃতিই সড়ক দুর্ঘটনার কারণ। এসব দুর্ঘটনায় কারো শাস্তি হয় না, বেশির ভাগ দুর্ঘটনার পর মামলা হয় না। আর মামলা হলেও এর কোনো বিচার হয় না, হয় না সুরাহা। বিচারহীনতার কোনো সংস্কৃতি যদি এ দেশে পাকাপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, তবে তা পরিবহন খাতে। এ কারণে মহামারির মতো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গাড়িচালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, সৎ ও দক্ষ ট্রাফিক বাহিনী তৈরি, লাইসেন্সবিহীন চালক নিষিদ্ধকরণ, দ্রুতগতিতে (সীমাতিরিক্ত) গাড়ি চালালে তাদের জরিমানার ব্যবস্থা, ফুটপাত মুক্তকরণসহ রাস্তা প্রশস্তকরণ, পুরনো ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিষিদ্ধকরণ এবং মামলাব্যবস্থা ত্বরান্বিত করতে হবে। সড়কপথের বিকল্প হিসেবে রেলপথ ও নৌপথের প্রচলন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।

কারণ একটি নির্দিষ্ট পথে যখন যাত্রীচাপ বেশি হবে তখন স্বাভাবিকভাবেই অসুবিধা বাড়বে। রেল যোগাযোগ সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারলে সড়কপথের ওপর থেকে চাপ কমবে। তাতে হয়তো দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও কমবে। বিশেষ করে সরকারের প্রতি পরামর্শ থাকবে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের ব্যবস্থাকরণের।

আলমগীর ইমন

লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।


মন্তব্য