kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বেপরোয়া চালকদের শাস্তির আওতায় আনুন

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বেপরোয়া চালকদের শাস্তির আওতায় আনুন

ঈদের আগে-পরে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল বেপরোয়া গাড়ি চালনা। আমাদের ট্রাফিক আইন আছে; কিন্তু লঙ্ঘনের শাস্তি কতজন পায়? মামলা যদি হয়ও, বিচার কি শেষ হয়? প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে চালকরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া।

মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে তারা গাড়ি চালায়। চালকদের অনেকে মাদকাসক্তও। চালকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা না করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে না। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোন ও ই-মেইলে এমন মন্তব্য করেছেন

 

►  লাইসেন্সবিহীন চালকদের উচ্ছেদ করুন। কোনো চালক অতিরিক্ত স্পিডে গাড়ি চালালে আইনের আওতায় আনতে হবে। অর্থদণ্ড কিংবা কারাদণ্ড দিতে হবে। যাত্রী বহনের অনুপযুক্ত গাড়ি বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করতে হবে।

মাসুমা রুমা

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

► হাইওয়েগুলোতে গতি নির্ণয়ক যন্ত্র স্থাপনের পর বিভিন্ন পয়েন্টে গতিসীমা বেঁধে দিতে হবে। ওভারটেকিং বন্ধ করতে হবে। একই রাস্তায় দুই দিকে চলমান গাড়ির যাতায়াত বন্ধ করতে হবে। ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ করতে হবে।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► পরিবহন মালিক সমিতি ও গাড়ির মালিকদের সমন্বয়ে আঞ্চলিক কমিটি গঠন করে পর্যায়ক্রমে গাড়ির চালকদের নিয়ে মিটিং করতে হবে। মিটিংয়ে উল্লেখযোগ্য বক্তব্য থাকবে—১. দক্ষ চালক বেছে গাড়ি দিতে হবে। ২. চালককে অন্তত এসএসসি পাস হতে হবে। ৩. চালককে বলতে হবে গাড়ি তোমার, এ গাড়ি ও এর যাত্রীদের রক্ষার দায়িত্ব তোমার। ৪. অযথা গাড়ি ওভারটেকিং করা যাবে না। ৫. গাড়ি চালানোর আগে চালককে গাড়ির যাবতীয় বিষয় অবহিত হতে হবে। ৬. চালককে যাত্রীদের কাছে ওয়াদা করতে হবে যে আমরা সঠিকভাবে গাড়ি চালাব।

মো. রতন

যৌথ ফেব্রিকস, সদরঘাট, ঢাকা।

 

► চালকদের প্রতি অনুরোধ, পাল্লা দেবে না, রং সাইডে যাবে না, শেখার আগে ড্রাইভিং করবে না।

আবদুল মোতালেব

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

► আমি থাকি মাওনা চৌরাস্তায়। ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের সঙ্গেই বাসা হওয়ায় দেখতে পাই অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা। এ রুটে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার কারণ এনা গাড়ির বেপরোয়া গাড়ি চালানো।

তানজিদ হাসান

মাওনা, শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► প্রথমত, একটি সুস্থ পরিকল্পনা প্রয়োজন। চার  লেনের সড়ক ও সড়কের প্রশস্ততা বাড়াতে হবে। ছোট পরিবহনগুলোর জন্য আলাদা রাস্তার ব্যবস্থা করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে সতর্কতামূলক সংকেত ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজনীয় স্পিডব্রেকার ব্যবহার করতে হবে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ম ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষ চালকদের লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামাতে দেওয়া যাবে না।

তকরিমুল মোস্তফা

সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম।

 

► প্রথমে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত পরিকল্পনা। ১০০ বছর পর অবস্থা কী হবে উপলব্ধি করে পরিকল্পনা নিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে কী পরিমাণ মানুষ বাড়বে, কী পরিমাণ যানবাহন বাড়বে, কী ধরনের যানবাহন চলবে এবং এর জন্য কতটুকু রাস্তার প্রয়োজন হবে—এসব চিন্তাভাবনা মাথায় রেখে পরিকল্পনা নিতে হবে।

হাবিবুল ইসলাম রুবেল

খিলগাঁও, ঢাকা।

 

► গাড়ির চালক ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন থাকে না। অদক্ষ চালক গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে বসে। সড়কগুলো পরিকল্পিত নয়। জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, গাড়ি যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে সড়ক যোগাযোগের সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে না। তাই যুগোপযোগী ব্যবস্থা নিতে হবে।

ওয়াসিম রহমান সানী

ঢাকা।

 

► বেশির ভাগ চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালায় এবং অন্য গাড়িকে ওভারটেক করার জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সাধারণত এসব চালকের লাইসেন্স থাকে না, যাদের আছে তাদের অধিকাংশের ভুয়া লাইসেন্স। বিআরটিসিকে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

মেহেদী হাসান হিমেল

সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, মুন্সীগঞ্জ।

 

► বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা ইনস্টিটিউট সড়ক দুর্ঘটনার ১৭টি কারণ চিহ্নিত করেছে। এগুলোর মধ্যে রাস্তার ত্রুটি, অদক্ষ চালক, সড়কের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা বেশি, পথচারী ও যাত্রীদের অসাবধানতা, নেশাগ্রস্ত চালক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয় না কেন?

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।

 

► অদক্ষ চালক দ্বারা গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। অযোগ্য লোককে অবৈধভাবে লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। চালকদের ট্রেনিং দিতে হবে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালককে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শাস্তির বিধান আরো কঠোর করতে হবে। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য পত্রপত্রিকা ও প্রচারমাধ্যমগুলোর প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

► দিনে দিনে মোটর শ্রমিক বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো তাদের মধ্যে প্রশিক্ষিত, দক্ষ কয়জন? উপযুক্ত যোগ্যতা না থাকায় ঘুষ দিয়ে, নয়তো ক্ষমতা খাটিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়াটা সহজলভ্য হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনাও অনেক সহজভাবে চলে আসছে। এটি রোধ করতে পারলে অনেকাংশে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে।

 

এস আর শানু খান

মনোখালী, শালিখা, মাগুরা।

 

► দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত অদক্ষ চালকরাই দায়ী। হিসাব করলে দেখা যায়, লাইসেন্স ছাড়া ব্যক্তিরাই বেশি গাড়ি চালায়। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সচেতন হতে হবে।

হাসানুল করিম

কুমিরা, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।

 

► গাড়ি চালনার লাইসেন্সের ব্যবহারিক পরীক্ষা তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে। জিগজ্যাগ টেস্ট, র‍্যাম্প টেস্ট ও রোড টেস্ট। এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে কর্তৃপক্ষ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করবে। অথচ বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সাদৃশ্য নেই। চালক ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন থাকে না। কী করে অপরকে অতিক্রম করে নিজে এগিয়ে যাবে সে প্রবণতা প্রায় সব চালকের মধ্যে দেখা যায়। এই ওভারটেকিং প্রবণতার কারণে ঘটছে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা। অদক্ষ চালক গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে বসে। কম পয়সায় চালক নিযুক্ত হলে তার কাছ থেকে ভালো গাড়ি চালনা প্রত্যাশা করা যায় না। ফিটনেসবিহীন গাড়ি যান্ত্রিক গোলযোগ নিয়েও রাস্তায় আসে। রাস্তায় প্রয়োজনীয় সিগন্যাল থাকে না, থাকে না প্রয়োজনীয় ট্রাফিক পুলিশ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে গাড়ি চলতে দেওয়া যাবে না। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। বন্ধ করতে হবে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে রাখা।

সোলায়মান শিপন

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।

 

► রাস্তার লেন আলাদা করতে হবে। দুই বা চার লেনের মাঝে জায়গা রাখতে হবে। উৎসবের সময় যাত্রীর যেমন চাপ থাকে, যেনতেন গাড়ি নামানো হয়, হেলপার দিয়ে চালানো হয়। হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব এগুলো দেখা। কিন্তু টাকা খেয়ে তারা গাড়ি ছেড়ে দেয়। এসব তদারকি করতে হবে। ট্রেনিংপ্রাপ্ত চালকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বড় গাড়িতে দুজন করে চালক রাখার নিয়ম করতে হবে। ছোট ছোট ব্যক্তিমালিকানা গাড়ি যেমন—কার, মাইক্রোর জন্য লেন আলাদা করতে হবে। কোনোক্রমেই গাড়ির গতি আশির ওপরে উঠতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে প্রতিটি গাড়িতে গতিক্ষমতা কমিয়ে দিতে হবে। উৎসবগুলোয় ছুটি আগে-পিছে করে দিতে হবে। সব রাস্তায় লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে যায়, এর দায়িত্ব গাড়ির মালিককে নিতে হবে। রাজনীতিবিদরা এখন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদদের জন্যই আইনের ফাঁকগুলো সহজ হয়ে যাচ্ছে। এসব বন্ধ করতে হবে।

রহিমা আক্তার মৌ

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

► চালক গাড়ি চালানোর সময় যেন অন্যমনস্ক না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যানবাহন চালানোর সময় ধূমপান করা, মোবাইল ফোনে কারো সঙ্গে কথা বলা সম্পূর্ণভাবে বাদ দিতে হবে। নেশাজাতীয় বস্তু সেবন বন্ধ করতে হবে।

রাকিবুল প্রিয়

রূপসা, সিরাজগঞ্জ।

 

► বিশ্বে প্রতিবছর ১৩ লাখেরও বেশি মানুষ শুধু সড়ক দুর্ঘটনায়ই মারা যায়। আমাদের দেশেও সঠিক ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও তদারকি বাড়াতে পারলে ঈদ মৌসুমসহ সারা বছর সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিপ্লব

ফরিদপুর।  

 

► আমাদের যোগাযোগমন্ত্রী প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কিন্তু কী লাভ! মন্ত্রীকে বলব, আমরা যেকোনো মূল্যে নিরাপদ সড়ক চাই।

ইয়াছিন খন্দকার লোভা

কিংডম অব বাহরাইন।

 

► আমাদের সড়কপথ প্রয়োজনের তুলনায় যখন অনেক কম, হু হু করে বাড়ছে গাড়ির সংখ্যা। এদিকে তৈরি হচ্ছে না নতুন সড়কপথ। আবার সাধারণ মানুষ আইনকানুন নিয়ে ভাবে না, অনেকে জানেও না। পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশও দায়িত্বশীল নয়। মালিক অতিলোভী। লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি নামাতে তাঁদের বাধে না। চালক অযোগ্য। এ ছাড়া প্রশাসনে আছে ঘুষ-বাণিজ্য। এসব কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, মহেশপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

► প্রতি ঈদের আগে ও পরে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় মৃত্যুর মিছিল ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর আন্তরিকতা থাকার পরও পুলিশ প্রশাসনসহ অন্য দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়ে গেছে। ঈদের আগে সড়ক সংস্কার ঠিকমতো করা হলে দুর্ঘটনার হার কম থাকত। হাইওয়ে পুলিশ যথার্থভাবে দায়িত্ব পালন করলে চালকরা সাবধান থাকত।

আবদুশ শাকুর

জিনজিরা, ঢাকা।

 

► অনেক চালক মাদক সেবন করে, মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালায়। এসব বন্ধ করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

► আমার বাসা ও দোকান ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে। নিয়মিত দেখি কী বেপরোয়া গতিতে গাড়ি সড়কে চলাচল করে। অনেক স্থানে গতিসীমা দেওয়া আছে। কাউকেই মানতে দেখি না। আমার মনে হয়, চালক ভাইয়েরা আসলে চালক না। একেকজন পাইলট হয়ে গেছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ, চালকদের লাগাম টেনে ধরুন। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জন্য জরিমানা করুন।

মো. জামিল

দয়ামির বাজার, সিলেট।

 

► সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু আমরা মানতে পারছি না। কারণ প্রশাসন কঠোর হলে, আইনকানুন মানা হলে, শাস্তি হলে অপরাধীদের ঠেকানো যেত। তাই কর্তৃপক্ষকে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর দায় নিতেই হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► মালিকরা বেশি খারাপ। তাঁদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নিতে হবে। অদক্ষ চালকদেরও সড়ক থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। ট্রাফিক আইন আমাদের যথেষ্ট কঠোর। কিন্তু আইন তো কাজে লাগছে না। আইনের রক্ষকরাই ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। ঈদের সময় টহল পুলিশ বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

এস এম সেলিম রেজা

মমতা ফার্মেসি, ঝিনাইদহ।

 

► ফিটনেসবিহীন গাড়ি দূরপাল্লায় চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। চালকরা বেপরোয়া গাড়ি চালায়। তাদের অনেকের লাইসেন্সও থাকে না। তাই গতিসীমা মানতে তাদের বাধ্য করতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কাউকে গাড়ি নিয়ে নামতে দেওয়া যাবে না। চার লেন সড়ক বাড়াতে হবে। সবাই ট্রাফিক আইন মেনে চললে এত দুর্ঘটনা ঘটত না। সব শেষে বলব, গাড়ি চালনা শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করুন।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

 

► অদক্ষ চালকদের হাতে গাড়ি তুলে দিচ্ছি। চালকরা মাদকাসক্ত থাকে। উত্তরাঞ্চলের এক জেলায় রাতের বেলা গাড়ি তুলে দেওয়া হলো এক ঘরে। এরপর চালক পলাতক। এই খুনি চালকের বিচার কি কোনো দিন হবে? কয়টা দুর্ঘটনার বিচার হয়? মন্ত্রী বলেন, সড়ক ঠিক হচ্ছে। তাহলে যাত্রাবাড়ী সড়কের এ অবস্থা কেন?

তরিকুল দেওয়ান তন্ময়

লারমিনি স্ট্রিট, ওয়ারী, ঢাকা।

 

► দুর্নীতি সব খাতকে ধ্বংস করছে। এর প্রভাব পড়েছে সড়ক খাতেও। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেই। চালক, মালিক, বিআরটিএ সবাই বেপরোয়া। তাই দুর্নীতি আগে প্রতিরোধ করতে হবে।

মো. সাঈদ

সেনপাড়া, মিরপুর, ঢাকা।

 

► আমরা শুধু কোকিলের মতো সুর তুলি, বড় কথা বলি। ওদিকে চালকরা তাদের মতোই বেপরোয়া গাড়ি চালায় আর প্রাণ সংহার করে। কেউ কেউ মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালায়। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালানো তাদের স্বভাবে দাঁড়িয়ে গেছে। মহাসড়কগুলোতে আইল্যান্ড তৈরিও জরুরি।

মোমিন হৃদয়

নাটুয়ারপাড়া, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

► দক্ষ চালকের হাতে স্টিয়ারিং দেওয়া—এটিই হচ্ছে প্রধান সমাধান সূত্র। হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো আমরা কেন বন্ধ করতে পারছি না সে প্রশ্নের উত্তরও আমাদের জানতে হবে।

শিবুপ্রসাদ মজুমদার

লেকসার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

 

►সড়ক খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে মুক্তি মিলতে পারে।

ফকির আবদুল্লাহ আল ইসলাম

বাগেরহাট সদর।

 

► চালকদের স্টিয়ারিং হাতে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচার হয় না। হলেও দু-এক মাসের জেল হয়। শাস্তির ব্যবস্থা কঠোর করুন। সব ঠিক হয়ে যাবে।

নিকেশ বৈদ্য

জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

 

► চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বাদ দিতে হবে। তাদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিষয়ে আরোহী ও পথচারীদেরও সতর্ক থাকতে হবে।

সানজিদা আক্তার

কল্যাণপুর, ঢাকা।

 

► অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মানুষ বেশি বলে মারা গেলে কোনো সমস্যা নেই! ঈদে বাড়িতে গমন ও ফেরত আসা পর্যন্ত ২৬৭ জন মানুষ নিহত হলো। প্রশিক্ষিত চালকের কোনো বিকল্প নেই। এ ছাড়া আমরা পারি রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্কুল, কলেজ, হাসপাতালের সামনে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিতে, যেখানে গাড়ির গতিসীমা সীমিত রাখার কথা বলা হবে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের সনদ প্রত্যাহার করতে হবে।

ওয়াহিদ মুরাদ

নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।

 

► গাড়ির মালিকদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। শিক্ষিত ও দক্ষ চালক নিয়োগ দিতে হবে। বেপরোয়া চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

আবদুর রাজ্জাক নাছিম

নির্বাহী পরিচালক, স্বাধীন জীবন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

 

► চালকদের ন্যূনতম এসএসসি পাস হতে হবে। মানসম্পন্ন ট্রেনিং সেন্টার থেকে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ট্রাফিক আইনের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করতে হবে। দুর্ঘটনাভেদে চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

ফয়জুল ইসলাম

নওগাঁ।

 

► প্রতিটি দুর্ঘটনায় মালিকপক্ষকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান করতে হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► দুর্ঘটনা রোধে সরকার নানা সময় নানা পদক্ষেপ নিলেও কোনোটিই কার্যকর হচ্ছে না। তাই ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► সড়ক দুর্ঘটনা অপমৃত্যু নয়, হত্যা। আজ সর্বত্র অদক্ষ চালক। কেন তৈরি হলো এই অদক্ষ চালক? কারণ বিআরটিএ তাদের লাইসেন্স দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, দেশের অধিকাংশ রাস্তাই প্রশস্ত নয় এবং এক লেনবিশিষ্ট। অশিক্ষিত, অদক্ষ চালক গাড়ি নিয়ে নেমে নিজেদের রাজপথের রাজা ভাবে। তাদের ব্যাপারে কঠোর হতে হবে।

সাবিনা সিদ্দিকী সিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► ওভারটেকিং ও বেপরোয়া গতি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এটা রোধ করতে গতি নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার জরুরি।  

মোকাদ্দেস হোসাইন

গ্রাম : পাঙ্গাসী, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

 

►  জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার এবং লোকাল সড়কে ৪০ কিলোমিটার নির্ধারণ করেছে। কিন্তু চালকরা সে গতিসীমা মানে না। গাড়িগুলোয় স্পিড গভর্নর রাখাও বাধ্যতামূলক করতে হবে। যানবাহনের ফিটনেস সনদ ঠিক আছে কি না তা যাচাই করতে হবে। অধিক মুনাফার আশা গাড়ি মালিকদের ছাড়তে হবে।

ইয়াকুব আল মাহমুদ

সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী।


মন্তব্য