kalerkantho


চামড়ার ক্রয়মূল্য বনাম আন্তর্জাতিক বাজার

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আসলে আমরা মধ্যযুগীয় সামন্ত প্রথার দিকে এগোচ্ছি। গুটিকয়েক সুবিধাভোগী মানুষ নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণে জোটবদ্ধ হয়ে আজ সমাজকে বেঁধে ফেলতে চাইছে।

ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে যেদিকেই তাকান না কেন, সবখানে তাদের করপোরেট দৌরাত্ম্য। চিনি, লবণ, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য—সবখানেই তাদের মাতব্বরি। নামকাওয়াস্তে সরকারের কিছু ঘোষণা থাকে, যা কাজে দেয় না।

আমরা জানি, লবণ চামড়া সংরক্ষণের একটি অতিপ্রয়োজনীয় কেমিক্যাল। সেই লবণ এক লাফে ৬০০ টাকার বস্তা (এক বস্তায় ৭৪ কেজি লবণ থাকে) এক হাজার ২০০ টাকা হয় কেমন করে? আবার তিন বছর আগেও যেখানে কাঁচা চামড়া ৯০ থেকে ১০০ টাকা ফুট হিসাবে মূল্য ধার্য করা হয়, তা কেমন করে আজ ৪০ টাকায় নেমে আসে? অথচ সেই ৯০ টাকার সময়ে বাংলাদেশের চামড়া বিক্রি হয়েছে দেড়-দুই ডলারে।

আর আজকের দিনে সেই চামড়া বাংলাদেশ থেকে বিক্রি হচ্ছে তিন ডলারের বেশি দামে। তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম বাড়ল, নাকি কমল? কোরবানির চামড়ার মূল্য বেশির ভাগ ব্যয় হয় গরিব-এতিম মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের জন্য। এ দেশে এটা তাদের হক বলে গণ্য করা হয়। তা ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির আঙিনায় কোরবানির চামড়া কেনাবেচা ও সংরক্ষণে বিশাল এক কর্মযজ্ঞের সম্পৃক্ততা জড়িয়ে রয়েছে।

তাই বলব, এভাবে সমিতির নাম দিয়ে প্রেস কনফারেন্স করে গরিব মানুষের রিজিক নিয়ে ছেলেখেলা করা সমীচীন নয়। ২০ ফুট হিসাবে ধরলে একটা পাকা চামড়ার বিক্রয়মূল্য হয় কমপক্ষে তিন হাজার টাকা। তার পরও ওই চামড়া প্রক্রিয়াকরণের মূল্য আরো এক হাজার টাকা যোগ করলে তার মূল্য দাঁড়ায় চার হাজার টাকা। এ ছাড়া মূল্য সংযোজনে ওই চামড়া দিয়ে জুতা ইত্যাদি বানালে তার মূল্য হয় ১০ হাজার টাকা। এখন বাংলাদেশ যেখানে ৫০ শতাংশের ওপর মূল্য সংযোজনে চলে গেছে, সেখানে আন্তর্জাতিক বাজার মন্দা বলে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার মানেটা কী? আশা করছি, চামড়াশিল্পের এই অব্যবস্থাপনার দিকটা ঠিক করে অচিরেই আমরা এর সুন্দর একটি গন্তব্যে পৌঁছতে পারব।

জালাল উদ্দিন আহমেদ

তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।


মন্তব্য