kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ষড়যন্ত্রের বলি!

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চামড়ার ব্যবসা ভালো যাচ্ছে বাংলাদেশে, ২০ বছর ধরে এমনটা শোনা যায়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা তেমন একটা না কমলেও চামড়ার ব্যবসা বাংলাদেশে ভালো যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরাই এর জন্য মূলত দায়ী। প্রায় প্রতিবছরই অসাধু ব্যবসায়ীরা কোনো এক হোটেলে বা নির্দিষ্ট জায়গায় বসে এ বিষয়ে পূর্বপরিকল্পনা করে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আর ব্যবসায়ীদের এই ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছে এবারের কোরবানির পশুর চামড়া। ষড়যন্ত্রের স্বার্থে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। ট্যানারি মালিকরা ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা বকেয়া ফেলে রাখবেন, তারও পরিকল্পনা আগে থেকেই করা ছিল। খুচরা চামড়া ব্যবসায়ীদের এবারও পানির দরে চামড়া কিনতে হয়েছে। যেখানে প্রতি বর্গফুট চামড়ার মূল্য হওয়া উচিত ছিল ৭০ টাকা, সেখানে ৪০-৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৯০ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। তবে চিন্তার বিষয় হচ্ছে, এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকার চামড়া এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় ক্রয় করতে হয়েছে। এর কারণে অনেকেই খরচ কমাতে চামড়ায় যে পরিমাণ লবণ দিতে হয় তা দেওয়া হয়নি। ফলে এ বছর বেশি পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সকাল থেকে কোথাও কোথাও প্রবল বৃষ্টির কারণেও অনেক চামড়া ভেজা থাকায় নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্যানারি ব্যবসায়ীদের অনেকে প্রতিবারের মতো এবারও আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমেছে বলে অজুহাত দেখাচ্ছেন। অনেকেই আবার এর জন্য স্পেন ও ফ্রান্সের বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়াকে অনেকাংশে দায়ী করেছেন। তবে বাস্তবতা অবশ্যই ভিন্ন। এসবের নেপথ্যে মূলত আছেন অসাধু ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিকারকরা।

সোলায়মান শিপন

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।


মন্তব্য