kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চামড়াশিল্পে কারসাজি বন্ধ করতে হবে

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চামড়াশিল্পে কারসাজি বন্ধ করতে হবে

চামড়াশিল্পে সিন্ডিকেট তৎপর। তারা ইচ্ছামতো কলকাঠি নাড়িয়ে এতিম-মিসকিনদের হক কেড়ে নেয়।

এ খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এবার লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এই সুযোগও চামড়া ব্যবসায়ীরা নিয়েছেন। দেশের অন্যতম রপ্তানিপণ্য চামড়া নিয়ে প্রতিবছরই বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়া দুঃখজনক। দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোন ও ই-মেইলে এমন মন্তব্য করেছেন

 

► এবারের চামড়া নিয়ে কারসাজির সন্দেহ শুরু থেকেই ছিল। কোরবানির দিনও দেখা গেল, গরুর দাম সোয়া লাখ টাকা হলেও চামড়ার দাম ক্রেতা ৭০০ টাকা দিতে চাইছেন। আগেরবার গরুর চামড়ার জন্য আগে থেকেই ক্রেতার অপেক্ষা ছিল। এবার জিম্মি করা হলো। এমন ভাব—আমাদের দিলে দেন, না দিলে ফেলে দেন। শেষ পর্যন্ত অনেকের ক্ষেত্রে হলোও তাই। এবার ওয়ারীর অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে পারেনি। পরে সন্ধ্যায় আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের গাড়ি আসে এবং পড়ে থাকা চামড়া তারা নিয়ে যায়।

ক্রেতারা এবার এমন অবস্থা তৈরি করে যে কম টাকায় বিক্রি না করে উপায় ছিল না। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সন্দেহজনক। আমার কাজিনরা থাকে যাত্রাবাড়ী, বন্ধুরা দোলাইরপাড়—সবখানেই একই অবস্থা হয়েছে বলে আমি ফোন দিয়ে জানতে পারি।

তরিকুল দেওয়ান তন্ময়

লারমিনি স্ট্রিট, ওয়ারী, ঢাকা।

 

► এই প্রথম চামড়ার দর এত কম দেখলাম দেশে। এতে চামড়া বিক্রেতা থেকে মধ্যস্বত্বভোগী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লাভবান হবে চামড়াশিল্পের লোকজন। বিশ্ববাজারে চামড়ার দর যখন ভালো আমাদের দেশে তখন কেন এই পরিস্থিতি হবে? আমার আশঙ্কা, এ নিয়ে বড় সিন্ডিকেট হয়েছে। শিল্পমন্ত্রীকে বলব, এ বিষয়ে নজর দিন। তা না হলে চামড়া পাচারও ঠেকানো যাবে না। এর মধ্যেই পাচার শুরু হয়েছে। দেশে ব্যবসা মানেই সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়া। এ থেকে কি আমাদের উত্তরণ নেই?

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► চামড়াশিল্পের কারণে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটে। আর এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের যদি বারবার লোকসানে পড়তে হয়, তাহলে পুরো চামড়াশিল্পের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে—এটাই স্বাভাবিক। লবণের দাম এবার বেশি হওয়ায় চামড়া প্রক্রিয়াকরণের খরচ নিয়ে আশঙ্কা ছিল। তাই চামড়া কেনাবেচার প্রক্রিয়া ছিল অসন্তোষজনক। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চামড়াশিল্পের উন্নয়নে আরো আন্তরিক ও কঠোর হতে হবে।

মো. আবদুর রাজ্জাক নাছিম

নির্বাহী পরিচালক, স্বাধীন জীবন, সিরাজগঞ্জ।

 

► এবার পবিত্র ঈদুল আজহা দেশবাসী উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদ্‌যাপন করলেও জবাই করা পশুর চামড়ার দর ছিল অসন্তোজনক। এতে সমাজের গরিব, দুস্থ, অসহায় মানুষের মধ্যে কম অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হন সামর্থ্যবানরা। তবে কোরবানির পশুর হাটে ব্যাপক হারে দেশি গরু-ছাগল বিক্রি হওয়ায় এবং দাম ভালো পাওয়ায় গরু পালনকারী ও খামারিরা অনেক খুশি। চামড়ার বাজারদর ধরে রাখতে সরকারের যথেষ্ট  সহযোগিতা ও নজরদারি প্রয়োজন ছিল বলে মনে করি।  

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► এবারের কোরবানির পশুর চামড়ার দর ও বেচাকেনার প্রক্রিয়া একেবারেই সন্তোষজনক ছিল না। সারা বছর দেশে ৫০ লাখেরও বেশি চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই আসে কোরবানির ঈদে। গুটিকয়েক ট্যানারি মালিক আর দু-চার শ আড়তদার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে চামড়াশিল্পকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন। চামড়াশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হাজার হাজার বেসরকারি এতিমখানার ভাগ্য। বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম কমার যে অজুহাত ট্যানারি মালিকরা দিচ্ছেন বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম এতটা পড়েনি, যতটা বাংলাদেশের বাজারে পড়েছে। ঈদের আগে হঠাৎ করে লবণের দাম বাড়ানো এবং সেই অজুুহাতে চামড়ার দাম কমানো ট্যানারি মালিকদের সুস্পষ্ট পরিকল্পিত নোংরামি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের ভয়ে না পারছেন চামড়া বিক্রি করতে, না পারছেন সংরক্ষণ করতে। দেশীয় বাজারের বেহালের কারণে চামড়ার বিরাট একটা অংশ পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরে। এটা দেশের চামড়াশিল্পের জন্য বড় ধরনের হুমকি। সরকারের উচিত হাতে গোনা কয়েকজন ট্যানারি মালিকের অপকৌশল থেকে চামড়াশিল্পকে রক্ষা করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া।

 

শাহনূর ইসলাম শাহীন

চরজালালপুর, গোসাইরহাট, শরীয়তপুর।

 

► এক এক করে সব কিছুই দখল করছে সিন্ডিকেট। বাংলাদেশের চামড়া ব্যবসায়ীরা ঈদুল আজহার সময় চামড়া সংগ্রহ করেন। সেই চামড়া দিয়ে চামড়াজাতীয় দ্রব্যসামগ্রী তৈরি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেন। বছরজুড়ে যে চামড়া সংগ্রহ হয় তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সংগ্রহ হয় ঈদুল আজহার সময়। ঢাকা থেকে চামড়াজাত ট্যানারিগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেকবার সময় নির্ধারণ করার পরও সফল হতে পারেনি সরকার। অনেক ট্যানারি মালিক অভিযোগও করেছেন অনেকের বিরুদ্ধে। ঈদকে কেন্দ্র করে তাঁরা নতুন জায়গায় ট্যানারি সরিয়ে ভালোভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু ঈদুল আজহায় চামড়ার মূল্য অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি কুড়িগ্রাম জেলায় ঈদ করি। দেখা গেছে, আগের তুলনায় চামড়ার দাম অর্ধেকে বিক্রি হয়েছে। যে গরুর চামড়া আড়াই হাজার টাকা ধরে রাখা হয়েছে, তা বিক্রি হয়েছে মাত্র এক হাজার ২০০ টাকায়। আর খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫০, ৬০ ও ৭০ টাকায়। চামড়া পাচার হয়ে যাওয়ার খবর পেলাম টিভি নিউজসহ অন্যদের মুখে। এর ফলে দেশি চামড়া ব্যবসায়ীদের অনেক লোকসান গুনতে হবে। ভালো ভালো ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ব্যাঘাত ঘটবে। সরকার তাদের পর্যবেক্ষণে ঠিকভাবে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন ছিল। সামনের দিকে এমন যেন না হয় তা লক্ষ রাখতে হবে।

রহিমা আক্তার মৌ

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

► কোরবানির পশুর চামড়া এতিম ও গরিব মানুষের হক। এই হকও ধনীরা কেড়ে নিচ্ছে।

নজরুল ইসলাম খান

নতুন জুরাইন, ঢাকা।

 

► যৌথভাবে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানাচ্ছি। দর কম হলেও নির্ধারিত দাম চামড়া বিক্রেতারা পেয়েছেন। তবে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণ না পাওয়ায় এবং স্থানান্তরের অজুহাতে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে গত বছরের বকেয়া টাকা না পাওয়ায় লোকজন বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে চামড়া কেনেননি। ফলে ফাঁকা মাঠে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ন্যায্য দামও পাননি তাঁরা। ব্যবসায়ীদের লগ্নি করা পুঁজিতে টান পড়েছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি গুণে পথে বসেছেন অনেকে। এতে দিন দিন চামড়া ব্যবসায়ীদের স্থায়ীভাবে হারাতে বসেছি আমরা। লবণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চামড়া সংরক্ষণেও জটিলতা দেখা দিয়েছে। অনেকে চামড়া কেনা বন্ধও রেখেছেন। চট্টগ্রামে অনেক ট্যানারি আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। এটি চামড়া ব্যবসার জন্য দুঃসংবাদ ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।

আলমগীর ইমন

লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

 

► এবার পশুর চামড়ার যে দর সরকার বেঁধে দিয়েছিল তা ব্যবসায়ীরা মানেননি। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে খুচরা বিক্রেতা ও মৌসুমি বিক্রেতাদের। দেখা গেছে, যে চামড়ার দাম এক হাজার টাকা, সেটা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কিছু কমে কিনলেও নিজেরা আবার সেই দামে বিক্রি করতে পারেননি। ফলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঢাকার বাইরে অনেক স্থানে ক্ষতির আশঙ্কায় অনেকে চামড়া কেনেননি। চামড়া ব্যবসায়ীরা নিজেদের বেঁধে দেওয়া দরে চামড়া কিনতে না পারার পেছনে লবণের দামকে দায়ী করেছেন। কিন্তু তাঁদের এসব কথার কোনো যুক্তি নেই। তাঁরা কোনোভাবেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দরিদ্র মানুষের হক কেড়ে নিতে পারেন না। তাই এখনই চামড়ার পচন রোধে পর্যাপ্ত লবণ দেওয়া এবং পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় চেকপোস্ট বসানো জরুরি। কিছু ব্যবসায়ীর ষড়যন্ত্রে এই বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা মোটেও কাম্য হতে পারে না।    

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► গত বছরের তুলনায় চামড়া সংগ্রহের খরচ বেড়েছে অনেক। লবণের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। সরকারের পক্ষ থেকে চামড়ার ন্যায্য মূল্য প্রদান করে চামড়া ব্যবসায়ীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া উচিত। আশা করি সরকার ব্যবস্থা নেবে।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।

 

► বরাবরের মতো এবারও কোরবানির আগেই পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার এবং ট্যানারি মালিক সমিতি। কিন্তু দেখা গেছে, দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও সেই দামে চামড়া কেনাবেচা হয়নি। ট্যানারি মালিক সমিতি নিজেরা দাম নির্ধারণ করলেও তারাই আবার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের চামড়া কিনতে বলে। ফলে সব মিলিয়ে একটি অরাজক এবং হতাশা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই আমার মতামত হলো, আগে থেকে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা ঠিক নয়। কারণ এবার যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তা জেনেই ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়েছেন। ফলে যদি আগে থেকে দাম নির্ধারণ করা না হতো, তাহলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

মোকাদ্দেস হোসাইন

গ্রামপাঙ্গাসী, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

 

► কোরবানির চামড়া নিয়ে খেলা চলছে। বিভিন্ন অজুহাতে চলছে চামড়ার দাম কম দেওয়ার পাঁয়তারা। ঈদের আগে ট্যানারি মালিকরা সাংবাদিকদের মাধ্যম করে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রে প্রচারণা চালান। তাঁরা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কমে গেছে। পরে দেখা যায়, সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে তাঁরা এই চামড়া কিনছেন। ফলে খুচরা বাজারে মৌসুমি পাইকার খুঁজে পেতেই দুষ্কর হয় কোরবানিদাতাদের।

এতে পানির দামে বিক্রি করতে হয়েছে চামড়া। মিডিয়ায় প্রচারিত না হলে হয়তো এ অবস্থা চামড়ার বাজারের হতো না।

তানজিদ হাসান

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► গত বছর আমাদের দেশের চামড়াশিল্পে ধস নামে। এবারও সেই পতন থেকে আমরা উত্তরণ ঘটাতে পারিনি, বরং পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। চামড়া ক্রেতাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রতিবছর কোরবানির গরুর চামড়া দুই হাজার, আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হতো। এ বছর ৬০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছিল না। অনেকে চামড়া এমনিতেই বিলিয়ে দিয়েছেন। ফলে গরিবদের হকের সুরক্ষা দিতে আমরা ব্যর্থ হই।

মোহাম্মদ জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেই এবার চামড়ার দরে ধস নামে চরমভাবে। এতে ট্যানারি মালিকদের পোয়াবারো হয়। চামড়ার টাকায় হক গরিব, এতিম-মিসকিনদের। দুস্থ মানুষের অধিকার নিয়ে এ ধরনের সিন্ডিকেট ন্যক্কারজনক হলো। মূল্য কম ধরে গরিবদের ঠকানোর কাজটি ব্যবসায়ীরা ভালো করেননি। বেশি কিছু বলব না। চামড়ার দর নিয়ে যা হলো এতে অসন্তোষ প্রকাশ করছি।  

মো. বজলুর রহমান

সেকারা, বহরপুর, রাজবাড়ী।

 

► বাড়তি কিছু আয়ের আশায় অনেকেই কোরবানির চামড়া কিনে পরে বিক্রি করে থাকেন। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কিনে থাকেন। এবার দর কম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এটা ছিল একটা ভুল সিদ্ধান্ত। গত বছরও বৃষ্টির দরুন অনেক চামড়া নষ্ট হয়েছিল। এবারও অনেকে চামড়া বিক্রি না করে পরে দান করে দেন। বিষয়টি ভালো হলো না।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

 

► চামড়ার দর নির্ধারণই ঠিক হয়নি। পাশের দেশ ভারতের থেকেও অনেক কম দর এবার বাংলাদেশে ঠিক হয়। এর ফলে পাচারের আশঙ্কা করছি আমরা।

মোজাম্মেল হক

বটতলা, সিলেট।

 

► অনেক ব্যবসায়ীকে এবার লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করতে হয়েছে। পর পর দুই বছর ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরাও সুবিধা করতে পারছেন না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া কিনে অনেক ব্যবসায়ীকে লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে হয়। কম পুঁজির স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই যে ক্ষতির শিকার হলেন, বড় ব্যবসায়ীরা ঠিকই এর সুবিধা নেবেন। তাঁরা তো ক্ষতিগ্রস্ত হলেন না। চামড়াশিল্পের জন্য এ পরিস্থিতি ভালো নয়।  

এ কে এম ফয়সাল

নুহা সিএনজি, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।

 

► আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দরপতন এবং গত বছরের চামড়া মজুদ থাকা—ওই বিষয়গুলো চামড়ার দাম নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করেছে।

আবদুল মোতালেব

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

► ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীদের লাভ হওয়া দূরের কথা, মূলধনে টান পড়ছে এবার। অসাধু চামড়া ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে গ্রাম এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন।

চামড়ার দর কম ধরায় ভারতে পাচার হওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।

মোমিন হৃদয়

নাটুয়ারপাড়া, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

► চামড়াব্যবস্থায় সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হয় না। মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও ট্যানারি মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির

দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, চট্টগ্রাম।

 

► প্রতিবারই টাকা চলে যায় নির্দিষ্ট কিছু মানুষের পকেটে। এটা বারবার কেন হচ্ছে? দেশে ও বাইরে চামড়ার যে চাহিদা রয়েছে, তাতে চামড়ার এত কম দাম গ্রহণযোগ্য নয়।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► প্রতিবছর ঈদুল আজহায় যে পরিমাণ পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়, তা সারা বছরেও সম্ভব নয়। তাই ঈদের চামড়া নিয়ে একটি বিশাল সিন্ডিকেট কাজ করে থাকে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রতিবছর ট্যানারির মালিকরা একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নেন চামড়ার দর কত হবে। এ বছর চামড়ার দর শুরুতেই কম করে ধরা হয়েছিল লবণের অস্থির বাজারের অজুহাতে এবং আর্থিক সংকটের কথা বলে। এতে শুরু থেকেই চামড়ার বাজার নিম্নমুখী হতে থাকে। আর সন্ধ্যা নাগাদ একেবারেই নাজুক পরিস্থিতিতে পড়ে যায় চামড়ার দর। ফলে দারুণ বিপাকে পড়ে যান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

আসলে চামড়ার দর নির্ধারণ করার প্রক্রিয়া মোটেও সন্তোষজনক নয়। কারণ যাঁরা চামড়া কিনবেন শুধু তাঁদের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে তা নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। তাঁরা চামড়া কেনার জন্য সরকার থেকে ঋণ নেবেন, বিক্রেতাদের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করবেন না, আবার তাঁদের সুবিধামতো চামড়ার দর নির্ধারণ করবেন—তা ঠিক হয় না। এ ক্ষেত্রে সরকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরো কাউকে অন্তর্ভুক্ত করে দর নির্ধারণ করার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে এভাবেই প্রতিবছর চামড়া নিয়ে কারসাজি হতে থাকবে।

এবার আসা যাক কেনাবেচার প্রক্রিয়ার সমস্যা নিয়ে। মাঠপর্যায় থেকে দুই ধরনের গ্রুপ চামড়া সংগ্রহ করে থাকে। মাদ্রাসার ছাত্র ও মাদ্রাসা কমিটি নিয়োজিত একটি গ্রুপ কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করে থাকে। গ্রুপটি বেশির ভাগ চামড়া বিনা মূল্যে সংগ্রহ করে থাকে বিধায় তাদের চামড়ার দরের কমা-বাড়ার ওপর খুব একটা বেশি প্রভাব পড়ে না। দ্বিতীয়ত, যে গ্রুপটি চামড়া সংগ্রহ করে থাকে তারা মৌসুমি ব্যবসায়ী। মধ্যস্বত্বভোগী কিছু ব্যবসায়ীর প্ররোচনায় তাঁরা কোরবানিদাতাদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন। যেহেতু সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেই চামড়া সংগ্রহ করতে হয়, সেহেতু চামড়ার দর কমবেশির প্রভাব তাঁদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ে থাকে।   চামড়া চেনা ও দর নির্ধারণে অনভিজ্ঞ হওয়ার ফলে তাঁরা আরো বেশি ধরাশায়ী হয়ে পড়েন। সরকারের উচিত চামড়া সংগ্রহের জন্য একটি নির্ধারিত গ্রুপকে দায়িত্ব দেওয়া। তাহলে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না।

চামড়া ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দরের থেকেও কম দরে বাধ্য করেন চামড়া বেচতে। অনেক ক্ষেত্রে পাওনা পরিশোধেও গড়িমসি করে থাকেন তাঁরা। মাদ্রাসাগুলোকে এক বছরের টাকা দু-তিন বছরেও পরিশোধ করেন না তাঁরা। তথাপি একমাত্র মাদ্রাসাগুলোকেই দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় থাকেন তাঁরা। এবার চামড়ার কেনাবেচা এতটাই নাজুক ছিল যে কিছু কিছু জায়গায় চামড়া মাটিতে পুঁতে রাখতে হয়েছে, কিছু কিছু জায়গায় চামড়া ফেলে দিতে হয়েছে, আবার অনেকে অধিক লসে তাঁদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এমনও দেখা গেছে যে কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাদ্রাসাগুলোতে চামড়া স্বল্প লাভে বিক্রি করার চেষ্টা করেছেন। রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায় কোরবানি দিয়ে থাকি, আর ব্যবসায়ীরা সেটাকে পুঁজি করে জুলুম ও কারসাজির মাধ্যমে অধিক মুনাফার পথকে প্রশস্ত করে গরিব ও এতিমদের হক নষ্ট করার ব্যবস্থা করে থাকেন। তাঁদের কারসাজি থেকে রেহাই চাই।

হাবিবুল ইসলাম রুবেল

খিলগাঁও, ঢাকা।

 

► বাজারদর দেখেই বোঝা যায়, এবারের কোরবানির পশুর চামড়ার দর ও কেনাবেচা সন্তোষজনক ছিল না।

রাকিবুল প্রিয়

রূপসা, সিরাজগঞ্জ।


মন্তব্য