kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নেতাদের লোভে উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশ। গরিব থাকাটা বড় লজ্জার ও অসম্মানের।

আমরা এখন গরিব নই—সেই সার্টিফিকেট এরই মধ্যে পেয়ে গেছি। তার পরও অসংখ্য মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। এসব ভাগ্যহত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। কিন্তু সরকারের এই মহৎ উদ্যোগের সুফল অতিদরিদ্ররা কতটুকু পাবে? ব্যবস্থাটা সাময়িক হলেও বঙ্গবন্ধুর দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে প্রণয়ন করতে হবে মহাপরিকল্পনা। সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে কত দিন চলে? আমাদের দরকার ব্যাপক কর্মসংস্থান। অন্যথায় দারিদ্র্য নির্মূল সম্ভব নয়।

এ জন্য অতিদরিদ্র অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে কলকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি অনেক খাসজমি প্রভাবশালীদের দখলে। অথচ এসব জমি ভূমিহীনদের পাওয়ার কথা। সমাজের প্রভাবশালী টাউট-বাটপাড়রা ওপর মহলের সঙ্গে ভালো যোগাযোগের সুবাদে লিজ নিয়ে বাগানবাড়ি করছে।

সময় এসেছে স্বল্প সুদে বিনা জামানতে ব্যাংকঋণেরও ব্যবস্থা করার। সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও দক্ষ জনবল গড়ে তোলায় সহায়ক হবে। আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে। দক্ষ জনবলের চাহিদা শুধু দেশে নয়, বিদেশেও। কাজেই কারিগরি শিক্ষার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কোনো একটি বিষয়ে কারিগরি দক্ষতা অর্জন বাধ্যতামূলক করতে হবে। তখন চাকরি শেষে একজন শিক্ষার্থী সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পাশাপাশি শিল্পপতিদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আমার জানামতে, বসুন্ধরা গ্রুপ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপক হারে কাজ করছে। অন্যান্য শিল্প গ্রুপ এ নজির স্থাপন করুক। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, রাজনীতি ভোগের নয়, ত্যাগের। তবে দুঃখজনক হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলে প্রধানমন্ত্রীর এই মানসিকতা ধারণ করে এমন নেতাকর্মীর সংখ্যা হাতে গোনা। নেতাকর্মীরা লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠতে না পারলে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির মতো মহৎ উদ্যোগও ভেস্তে যেতে পারে।

মো. নুরুজ্জামান

আশুলিয়া, ঢাকা।


মন্তব্য