kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১০ টাকা কেজির চাল প্রকৃত দুস্থদের দিন

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



১০ টাকা কেজির চাল প্রকৃত দুস্থদের দিন

১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির উদ্যোগ প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী সত্যিকার অর্থেই গরিব মানুষের ভাগ্য বদলাতে চান। তবে এ কর্মসূচি নিয়ে স্বজনপ্রীতি যেন না হয়।

উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সবাইকে সৎ থাকতে হবে। এ ধরনের কর্মসূচি মানুষের দুর্দশা লাঘবে সহায়ক হবে। তবে তাদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কৃষিঋণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোন ও ই-মেইলে এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন

 

 

► দুস্থদের মধ্যে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে যদি দলীয়করণ করা হয়, তা যদি দলীয় কাউন্সিলর, মেয়রদের আস্থাভাজনদের দেওয়া হয়, তবে তা ভোটের রাজনীতিই হবে। গরিব বা দুস্থদের কোনো কাজে আসবে না। এখন দেখা যাচ্ছে, কিছু স্থানে মেম্বার, চেয়ারম্যানদের কাছে দুস্থ মানুষজন ভিড়ছে। এখন তাঁরা যদি টাকা-পয়সা নিয়ে চাল বিতরণ করেন অথবা সঠিকভাবে এই চাল বিতরণ না করেন, তবে প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে না। তাই প্রধানমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি মনিটরিং সেল গঠন করুন।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► দারিদ্র্য বিমোচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও অঙ্গীকার আমাদের কাছে আরো পরিষ্কার হলো। তবে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ মাত্র। পাশাপাশি যদি কৃষকের ন্যায্যমূল্যের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুনজর দেন, তবে প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক মানুষ উপকৃত হবে। এটি আমাদের কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে চালের পাশাপাশি চিনি, লবণ, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক দ্রব্যের দাম লাগামছাড়া। তাই এ পণ্যগুলোর দাম না কমানো হলে আমাদের দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী খুব একটা সুফল পাবে না।

আবদুশ শাকুর

জিনজিরা, ঢাকা।

 

► নজরদারি রাখতে হবে। গ্রামে এক ধরনের দলবাজ, লুটেরা আছে, যারা সরকারের সত্যিকার ভালো কর্মসূচিগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত করতে দেয় না। তারা নিজেদের আখের গোছায়। বিষয়টি দৃঢ় হস্তে দমন করা গেলে অবশ্যই সরকারের ১০ টাকায় চাল বিক্রি কর্মসূচি জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করবে। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে, কালোবাজারে এ চাল যেন বিক্রি না হয়।

ওয়াহিদ মুরাদ

স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর।

 

► সরকারের অনেক বড় ও মহতী উদ্যোগ। তবে এটা দীর্ঘ সময় থাকলে আরো ভালো হবে।

ডা. এস মোহন লাল দাস

কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।

 

► জনপ্রতিনিধিরা নিরপেক্ষ ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন—এটাই মানুষ দেখতে চায়। দেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এরই মধ্যে নারী, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নারীরা উপকৃত হতে শুরু করেছে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

► এভাবে ১০ টাকা দরে চাল না দিয়ে যদি প্রতিটি পরিবারের একজন কর্মক্ষম সদস্যকে স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে প্রতিটি পরিবারই মোটামুটি উপকৃত হবে। আমার মনে হয়, ১০ টাকা দরে চাল বিতরণ তেমন প্রভাব ফেলবে না বাজারে।

মো. মোকাদ্দেস হোসাইন

গ্রামপাঙ্গাশী, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

 

►এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এ চাল যেন কোনো অবস্থায়ই চোরাকারবারিদের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রি না হয় সে জন্য মাঝেমধ্যে বাজার মনিটরিং প্রয়োজন। আশা করি, কর্তৃপক্ষ সে ব্যবস্থা নেবে।

ইপা রানী পাল

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

 

► আমাদের দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ সরকার। আর এ জন্য বর্তমান সরকার চাল বিতরণের মতো কার্যক্রম শুরু করেছে। আমরা দেখেছি, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসনে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছিল। চাল কিনতে হয়েছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। বর্তমান সরকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। ৫০ লাখ মানুষের চাল নিয়ে কেউ যেন এই মহতী উদ্যোগ ভূলুণ্ঠিত করতে না পারে সে জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর তদারকি থাকা দরকার।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► অভাবের করাল গ্রাসে আর যেন কোনো মাকে তাঁর বুকের ধন বিক্রি করতে না হয়। দুস্থদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির উদ্যোগ একটি মানবিক সিদ্ধান্ত। এ কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্টদের শতভাগ সততা নিশ্চিত করতে হবে। দুস্থদের অধিকারে যেন প্রভাবশালীদের কালো হাত না পড়ে এ বিষয়ে আগেভাগেই সতর্ক থাকতে হবে। এ কর্মসূচি অস্থায়ীভাবে খাদ্যাভাব দূর হয়তো করবে, দারিদ্র্য বিমোচনে তেমন প্রভাব ফেলবে না। তাই স্থায়ী সমাধানের কথাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

আব্দুর রাজ্জাক নাসিম

কালিয়াকৈর, চান্দাইকোনা, শেরপুর, বগুড়া।

 

► উদ্যোগটি নিয়ে শেখ হাসিনা প্রমাণ করলেন তিনি সাধারণ মানুষের কাছে দায়বদ্ধ ও এ দায় পূরণে তিনি আন্তরিক। কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হলে হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা অবশ্যই কমে আসবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দিকে আমরা আরো অনেক এগিয়ে যাব। দরিদ্ররা অর্থাভাবে কর্মসংস্থান করতে পারে না। তাই তাদের জন্য কিছু করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সরকারের এ-জাতীয় উদ্যোগের ফলে আমরা অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারব বলে আশা করি।

আবদুল হান্নান

মানপুর, লাখাই, হবিগঞ্জ।

 

► বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশের বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র। তাদের অনেকের নেই কোনো শিক্ষার যোগ্যতা, নেই কোনো পরিপূর্ণ জ্ঞান। ফলে নিজেদের উন্নয়নের ভালো কোনো পন্থা তারা অবলম্বন করতে জানে না। কৃষক শ্রেণি ভালোভাবে ধান উৎপা দন করতে পারে না। কেননা তাদের পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নেই। এর ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপা দনের পরিমাণ অনেক কম হয়। এসব ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দিকে যেতে হবে।

রাকিবুল প্রিয়

রূপসা, সিরাজগঞ্জ।

 

►প্রাথমিক অবস্থায় এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। আশা করি, ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। এর জন্য সরকারকে বর্তমান অর্থবছরে প্রায় দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। সরকারের এ কর্মসূচির পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের দেশের পরিশ্রমী কৃষক ও বিদেশে কর্মরত শ্রমিকের।

একদিকে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও দেশের অর্থনীতির জন্য সন্তোষজনক। এ কারণে সরকারের পক্ষে একের পর এক দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন, দেশের কৃষক, শ্রমিকসহ

খেটে খাওয়া মানুষের মঙ্গলের জন্য সম্ভাব্য আরো কর্মসূচি নিন। দুঃখজনক হলেও সত্য, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় না।

বিপ্লব

ফরিদপুর।

 

► ১৯৫৯ সালে চালের মণ ছিল ৪২ টাকা। আজ আমরা চাল খাচ্ছি ৪৪ টাকা কেজি দরে। সেদিনের হিসাব করতে গেলে আজ চালের দাম বেড়ে গেছে ৪০ গুণ, আর মানুষের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে চার হাজার গুণ। তখন সারা পাকিস্তানে ধনবান পরিবার ছিল ২২টি। আজ এ রকম পরিবারের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। ষাটের দশকের আগে বাঙালিরা আন্দোলন করেছিল ২০ টাকা মণ দরে চাল কেনার জন্য। কিন্তু বাঙালির সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। তবু আজ এই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ফলে কিছুটা হলেও শান্তি ফিরে এসেছে গরিব মানুষগুলোর জন্য। এও কম কী? এ কর্মসূচি কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। দরিদ্র মানুষেরা সারা দিন যে টাকা আয় করত তার বেশির ভাগ চলে যেত চাল কিনতে। ফলে তিন বেলা ঠিকমতো খাবার জুটত না তাদের। তবে এ কর্মসূচির নামে কোনো মুনাফালোভী, স্বার্থপর মানুষ যেন ফায়দা লুটতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► ক্ষমতায় আসার সাত বছরের মাথায় প্রধানমন্ত্রী গরিব মেহনতি মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির ব্যবস্থা করলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার। সে পথেই হাঁটছেন তাঁর যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। আশা করি, এ-জাতীয় আরো প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী হাতে নেবেন। তবে কিছু অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। যারা প্রাপ্য শুধু তারাই যেন তালিকায় স্থান পায়। শেখ হাসিনা আমাদের দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর শেষ ভরসার স্থল।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

 

► উদ্যোগটি দারিদ্র্য বিমোচনে দারুণ ভূমিকা রাখবে। প্রতি জেলায় উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সারা দেশের মানুষ উপকৃত হবে। আমি মনে করি, বাজারে চালের যে দর রয়েছে, তাতেও এর প্রভাব পড়বে।

শিবুপ্রসাদ মজুমদার

লেক সার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

 

► আমার মতে, প্রতি উপজেলায় এ উদ্যোগ নেওয়া হলে দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হবে। আমরা খুব উপকৃত হব। তবে চাল বিক্রিতে যেন অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি না হয়।

নিকেশ বৈদ্য

জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

 

► অতিদরিদ্রদের জন্য এ উদ্যোগ খুব ভালো হবে। তাদের মধ্যে এবার ঈদের আনন্দটা অন্য রকম হয়ে ধরা দেবে।

মো. আলাউদ্দীন

ফেনী সদর উপজেলা।

 

► হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। দারিদ্র্য বিমোচনে এ কর্মসূচি ভালো উপকারে আসবে। এ উদ্যোগের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই।

মো. বজলুর রহমান

সেকারা, বহরপুর, রাজবাড়ী।

 

► বণ্টনে নিয়োজিত সবাইকে সৎ থাকতে হবে। কর্মসূচিটি সফল হবে যদি তালিকা ঠিকঠাক তৈরি হয় এবং রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি না চলে। অন্যথায় আরো অনেক ভালো উদ্যোগের মতো এ কর্মসূচি নিয়েও আমাদের হতাশ হতে হবে।

মমিন হৃদয়

নাটুয়ারপাড়া, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

► হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা দরে সরকারিভাবে চাল বিতরণ একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে প্রকৃত কোনো অভাবী যেন এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।

ফকির আব্দুল্লাহ আল ইসলাম

বাগেরহাট সদর।

 

► এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা শত্রুও গোপনে করবে বলে আমার ধারণা। এর ফলে চাল ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। তবে শুধু প্রকৃত দুস্থ ব্যক্তিরাই যেন তালিকায় স্থান পায়। আওয়ামী লীগের লোকজন দলীয় পরিচয়ের সুবাদে সুবিধাভোগী হবে না—এই নিশ্চয়তা চাই।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► আমার বাড়ি হৃদয়পুর, মাগুরা সদর। আমার এখানে অসহায় অনেক ব্যক্তি কার্ড পাচ্ছে না। এমন অনেকে কার্ড পেয়েছে, যাদের না হলেও চলত। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা আমাদের বলছেন, কার্ড পরেও দেওয়া যাবে। এ বিষয়ে সুষুম তদন্ত দাবি করছি।

বিজয় জোয়ারদার 

হৃদয়পুর, হাজীপুর, মাগুরা সদর।

 

► হতদরিদ্র মানুষকে আর অনাহারে থাকতে হবে না। তাদের জীবনযাত্রার মানও হয়তো কিছুটা উন্নত হবে। তবে কার্ড তৈরি ও চাল বিক্রির ক্ষেত্রে মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকলে উদ্যোগটি ভেস্তে যেতে পারে। প্রকৃত দরিদ্ররাই চাল পাচ্ছে, অন্যরা চাল হাতিয়ে নিচ্ছে না—এই নিশ্চয়তা সরকারকে দিতে হবে। কোনো ব্যবসায়ী এই চাল কিনে নিয়ে বাজারে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না—এই গ্যারান্টি কি সরকার আমাদের দিতে পারবে?

জুয়েল বৈদ্য

কুসুমবাগ, মৌলভীবাজার।

 

► ৯ সেপ্টেম্বরের পত্রিকা পড়ে অবগত হলাম খুলনায় এর কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। ৫০ টাকা কেজি দরে চাল কিনে খাওয়ার সামর্থ্য রাখে এমন অনেকেই পেয়েছে এই কার্ড! যেখানে টিসিবির খোলাবাজারের খাদ্যপণ্য নিয়েও হয়েছে জালিয়াতি এবং তা নিয়ে জেল-জরিমানাও হয়েছে। অতএব, ১০ টাকা কেজি চাল অবশ্যই হতদরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। মনিটর করতে হবে যাতে কার্ড বণ্টন সঠিক হয়।

মোশাররফ হোসেন স্বাধীন

দক্ষিণ বাংলা বেতার শ্রোতা ক্লাব, খুলনা।

 

► এভাবে কিছুদিনের জন্য হয়তো দরিদ্র কিছু লোককে খুশি করা যাবে। কিভাবে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব তা নিয়ে সবাইকে চিন্তা করতে হবে এবং নানা রকম উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে শিক্ষা, কৃষি, শিল্প উন্নত করার মাধ্যমে দেশকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে রক্ষা করতে হবে।

তকরিমুল মোস্তফা

সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম।

 

► সব সময় এ ধরনের ব্যবস্থা রাখলে ভালো। এ ছাড়া চোরাকারবারিরা যাতে চাল নিতে না পারে সে লক্ষ্যে প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। গরিবরা যেন ঠিকমতো চাল পায় প্রশাসনের খেয়াল রাখতে হবে।

আবদুল মোতালেব

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

► প্রথমেই বলব, বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশে এ রকম উদ্যোগ গ্রহণ সত্যি প্রশংসার দাবিদার। তবে উদ্যোগটি যদি স্বল্পকালীন হয়, তাহলে দারিদ্র্য বিমোচনে তা তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। সরকার যদি বিষয়টি চলমান রাখতে পারে এবং দরিদ্রদের মধ্যে সঠিকভাবে পণ্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে উদ্যোগটি দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখবে।

মাসুমা রুমা

ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

► উদ্যোগটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা উচ্চবিত্তদের বেশির ভাগ মানুষ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের শোষণ করে ভালোভাবেই বেঁচে থাকে। নিম্নবিত্তদের নিয়েও কেউ কেউ ভাবে। তবে মধ্যবিত্তদের দুর্দশা পরিবর্তন করার চেষ্টা কখনো করা হয় না। তাই মধ্যবিত্ত শ্রেণিদের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্না নিয়েও প্রধানমন্ত্রী ভাববেন বলে আশা প্রকাশ করছি।

সোলায়মান শিপন

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।

 

► সরকারি পণ্য বণ্টনে কেলেঙ্কারি আমাদের সমাজব্যবস্থায় নতুন না। রাজনৈতিক প্রতীকে গঠিত ইউনিয়ন পরিষদের করা তালিকায় সঠিক হতদরিদ্ররাই থাকবে তো? ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, এলাকার মাতব্বর ও রাজনৈতিক নেতারা নিজেরাই হতদরিদ্র হয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হন কি না তার তদারকি নির্ভেজালভাবে করা একান্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতি ৫০০ পরিবারের কার্ডের জন্য দেওয়া একজন নিয়োজিত ডিলার ৩০ কেজি চাল ঠিকমতো দিচ্ছেন কি না তার তদারকিও জরুরি।

তানজিদ হাসান

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► এই চাল নিয়ে চালবাজি, দলবাজি কিংবা মুনাফাবাজি চলতে পারে। প্রথমত, এ ধরনের পদক্ষেপে গরিবের সুবিধার থেকে সরকারি দলের লোকজনের সুবিধার পাল্লা ভারী হবে। সরকার গরিববান্ধব, দুস্থদের জন্য ১০ টাকা কেজি চাল খাইয়েছে—এ অজুহাত তুলে নির্বাচনেও ফায়দা তোলার চেষ্টা থাকবে। এ ছাড়া এক শ্রেণির সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী আরো অধিক মুনাফা করার পথ করে নেবে। এর মাধ্যমে দল ও দলের মধ্যেও শুরু হয়ে যাবে ব্যাপক রাজনীতি।

হাবিবুল ইসলাম রুবেল

সদস্য, পল্লীমা সংসদ, খিলগাঁও, ঢাকা।

 

► দুস্থদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রি দারিদ্র্য বিমোচনে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ দেশে এমন কোনো কাজ নেই, যা কারচুপি ছাড়া সম্পন্ন হয়! প্রভাবশালী মহলগুলোর নিকটাত্মীয়ের মধ্যে এ চাল ভাগ-বণ্টনের আশঙ্কা বেশি। এতে প্রকৃত দুস্থরা চাল পাবে না। অন্য খাতে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে এ ঘাটতি পুষিয়ে নেবে প্রশাসন। সুতরাং এ উদ্যোগে দারিদ্র্য বিমোচনের সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়।

 মেহেদী হাসান হিমেল

সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, মুন্সীগঞ্জ।

 

► দারিদ্র্য বিমোচনে এর প্রভাব যৎসামান্য হবে—অনেক বিশেষজ্ঞ এমনটিই মনে করছেন। আসলে অর্থনীতিতে বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার কোনো সুযোগ নেই। সুপরিকল্পিত উপায়ে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হয়। শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত-অশিক্ষিত বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের চরম অভাব। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে না করতেই গ্যাস সমস্যা প্রকট রূপ ধারণ করেছে। তাই স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► উদ্যোগের উদ্দেশ্য অবশ্যই মহৎ। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি বিভিন্ন সরকার দেশের বন্যা, মঙ্গা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এবারের উদ্যোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে নেওয়া। রাষ্ট্র এবং রাজনীতি যদি যূথবদ্ধভাবে নৈতিকতা ও সততা নিয়ে এগিয়ে যায়, তাহলে সফল হতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে সরকারি যন্ত্রের স্বচ্ছতা ও সততা সর্বাগ্রে প্রয়োজন।

জালাল উদ্দিন আহমেদ

তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।  

 

► চাল সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানোটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। চাল বিক্রি করে কেউ কোটিপতি হয়ে গেছে এমন সংবাদ শুনতে চাই না।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► আমাদের দেশে দরিদ্র মানুষের অভাব নেই। গ্রামের মানুষ, তবু কিছু ক্ষেত-খামারি করে বাঁচে—শহরে যারা গরিব, বস্তিতে বাস করে, তাদের কত কষ্টে দিন যায়। তাদের জন্য আজ পর্যন্ত সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আরজতপাড়া, ঢাকা।


মন্তব্য