kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভুল বোঝাবুঝি ও সন্দেহ নিরসনে সহায়ক হবে

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করলেন। তিনি বাংলাদেশকে আন্তরিকভাবে জানারও চেষ্টা করেছেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন কয়েক ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশ সফরে এসে কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তার অজুহাতে সাভার স্মৃতিসৌধে যাননি। আমাদের মনে রাখতে হবে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের দেশের লাখ লাখ নিরীহ, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছিল তখন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি, বরং অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে পাকিস্তানকেই সাহায্য করেছিল। ৪৫ বছর পরও বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির খুব বেশি একটা পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের তারা এখনো আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকরের বিরোধিতা করেছে। অথচ তাদের দেশেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। জন কেরির ঢাকা সফরের দুটি দিক রয়েছে। একটি হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ—যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যটি হলো ঢাকার কেনেডি সেন্টারে তাঁর দেওয়া ভাষণ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নীতির চেয়েও তাঁর নিজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের জন্য নানা রকম পরামর্শ রয়েছে। বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি নিঃসন্দেহে একজন অত্যন্ত জ্ঞানী ও সজ্জন ব্যক্তি। বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে তিনি মুগ্ধ। অতি অল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে অবস্থান করেও তিনি সরকার ও জনগণের আন্তরিকতায় সন্তুষ্ট। বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক সহযোগিতার হলেও দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে একটি সন্দেহ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল। আমরা আশা করছি, জন কেরির সাম্প্রতিক সময়ের সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝি ও সন্দেহ দূর করতে অনেকটাই সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে তাঁর বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতেও বাংলাদেশের ব্যাপারে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করা যায়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তুলনায় জন কেরি বাংলাদেশকে একটু বেশি সহানুভূতির চোখেই দেখবেন বলে মনে হয়। তবে সব কিছু নির্ভর করছে সেখানকার আগামী নির্বাচন, সরকার এবং জন কেরি আবারও এই পদে আসতে পারবেন কি না তার ওপর।

বিপ্লব

ফরিদপুর।


মন্তব্য