kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইতিবাচক বার্তা দিয়ে গেলেন জন কেরি

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ইতিবাচক বার্তা দিয়ে গেলেন জন কেরি

বাংলাদেশ আর কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুড়ি যে নয়—যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকৃতি দিয়ে গেলেন। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে জাতির জনকের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন আমাদের মুগ্ধ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরো উষ্ণ হলে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে সহায়ক হবে। এ ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর কোনো শর্তে মার্কিন সহযোগিতা নেওয়া যাবে না। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোন ও ই-মেইলে এমনই মন্তব্য করেছেন

 

► নিশ্চয় এখানে তাদের স্বার্থ আছে। কারণ যারাই ক্ষমতায় আসুক, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণনীতি একই থাকে, পররাষ্ট্রনীতি অভিন্ন থাকে। আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা সহযোগিতা করেনি। সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে সফর করে গেলেন। এর মানে হলো, নিশ্চয় এখানে তাদের স্বার্থ আছে। অর্থাৎ শতভাগ মার্কিনি স্বার্থ নিয়েই বাংলাদেশ সফরটা এবার হলো। আমার কথাটার যুক্তি হলো, স্বাধীনতার পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকার করেছে তাদের নিজেদের স্বার্থে। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের মতো স্বার্থবাদী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের দেশে এলেন, তাতে আমাদের খুব বেশি লাভ হবে না। আমাদের দেশের স্বার্থের জন্য তিনি আসেননি। জন কেরির সফর নিয়ে দেশের মিডিয়া ও রাজনৈতিক দলগুলো যে মাতামাতি করেছে, সে রকম খুশি হওয়ার মতো কিছু আদতে নেই।

মো. নাজিম আদি

সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।

 

► যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বাংলাদেশ সফর ও সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। আমাদের আর্থসামাজিক চমকপ্রদ অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত, কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদানসহ ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

► যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সফরের মাধ্যমে অবশ্যই ভালো কিছু হবে। বিশেষ করে রাজনীতিসহ আমাদের অন্যান্য সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে হচ্ছে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা আরো ক্লিয়ার হবে। অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যেও তারা আমাদের সহযোগিতা করবে। তাঁর সফরের মাধ্যমে তিনি অন্তত বহির্বিশ্বে এ কথাটা বলতে পারবেন যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো।

মো. তরিকুল দেওয়ান তন্ময়

লারমিনি স্ট্রিট, ওয়ারী, ঢাকা।

 

► যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সফরে সন্ত্রাসবাদকে বেশ প্রাধ্যান্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেমন করে এসব দমন করা যাবে তা অস্পষ্ট। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও খুশি রেখেছেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেও খুশি রেখেছেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এই দুই দলের দ্বন্দ্ব বিষয়ে তিনি কোনো সমাধানের কথা বলেননি। এর পরও বলব, দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর হোক।

শেখ আরা

বহরপুর, রাজবাড়ী।

 

► মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির স্বল্প সময়ের ঢাকা সফর নানা দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিশ্বাস, সংবাদ সম্মেলনে জন কেরি যা বলেছেন সেটাই সর্বশেষ নয়। এর অন্তর্নিহিত অনেক খবর পেছনে রয়ে গেছে। লক্ষ করার মতো বিষয়, দুটি দলকেই (ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি) খুশি করার মতো কথা বলেছেন। বাস্তবিক অর্থে সেটাই শেষ কথা নয় বলে আমার বিশ্বাস। বাংলাদেশে এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। পাশাপাশি নানাবিধ সমস্যা যেমন জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ আমাদের দগ্ধ করছে। ফলে এসব বিষয় জন কেরির আলোচনায় আসা বিচিত্র কিছু নয়। আমরা বিশ্বাস করি, বড় দেশের মোড়লিপনা আমাদের রাজনীতিকে প্রভাবিত করবে না। তবে দেশের জন্য যা মঙ্গল, তা আমাদের বড় দল দুটি ভালোভাবে বুঝতে পারবে বলে মনে করি।

ওয়াহিদ মুরাদ

স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর।

 

► স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। সেই সঙ্গে বৈদেশিক সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে আমাদের দেশ এগিয়ে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক সুদৃঢ় হতে থাকে। যখন সারা দুনিয়ায় জঙ্গি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হচ্ছে, এ থেকে আমাদের দেশও বাদ পড়েনি। ঠিক এই সময়ে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক জোরদার করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের দেশ সফর করে গেলেন এবং বলেও গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠছে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিকে জঙ্গি ও সন্ত্রাস বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি এও বলেছেন, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ও বৈদেশিক সম্পর্ক দৃঢ় করতেই জঙ্গিরা এ দেশকে বেছে নিয়েছে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► বর্তমান সরকারের পূর্ব-পশ্চিমের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তবভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগ, বিচক্ষণ নেতৃত্ব, জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থান ও গতিশীল অর্থনীতির ফলাফলই হলো জন কেরির প্রশংসা ও উচ্ছ্বাসের কারণ। এতে কারো কারো অন্তর্জ্বালা হবে—এটাই বাস্তবতা। অবশ্যই তাঁর সফরে ভালো কিছু আশা করা যায়।

মানসুর আজিজ

মাশকান্দা, ময়মনসিংহ।

 

► জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে জন কেরির ঢাকা সফর অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আজ বাংলাদেশ বা বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় যে জঙ্গিবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ চলছে তাকে শুধু দেশীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দেখলে চলবে না। দেখতে হবে চলমান বিশ্বপরিস্থিতি আর অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে। সন্ত্রাস দমন করতে আন্তর্জাতিক সাহায্যের প্রয়োজন। যেমন প্রয়োজন জঙ্গি দমনে নতুন প্রযুক্তি এবং এ ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও তাদের প্রজ্ঞা।

মুশফিকুর রহমান

দাশুরিয়া, পাবনা।

 

► একদিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তাচ্ছিল্য করেছিল। পৃথিবীর বড় প্রভাবশালী এই রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর আমাদের জন্য বড় বার্তা বহন করে।

মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক নাছিম

কালিয়াকৈর, চান্দাইকোনা, বগুড়া।

 

► বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।

নাদিম খান

ভাইজোরা, পিরোজপুর।

 

► নিরন্তর ধন্যবাদ জন কেরিকে, ধন্যবাদ যুক্তরাষ্ট্রকে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বাংলাদেশ সফর সত্যি দারুণ খুশির খবর ছিল। আশা করি, সরকার তা কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে আরো মজবুত করবে। দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হবে। আমি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনার আশাবাদী ছিলাম। আগামী পাঁচ বছর পর সুপার পাওয়ারফুল দেশ হবে ভারত ও চীন। প্রতিটি দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক সৃষ্টি করে উন্নয়নশীল বাংলাদেশও সেই পথে হাঁটবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তাই যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। বিয়োজন নয়, সংযোজন চাই এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিধর দেশকে সদা পাশে চাই। তাদের সঙ্গে জোড়া-মই-শিকল সম্পর্ক সৃষ্টি করতে জন কেরির এই সফর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মোহাম্মদ নুর উদ্দীন

কাটিরহাট, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

► অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশে আসতে রাজি হয়নি। জন কেরির সফরের পর এ মুহূর্তে কেউ আর হয়তো বলবে না, বাংলাদেশে যাওয়া নিরাপদ নয়। এখনো যুক্তরাষ্ট্রই আমাদের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। ভবিষ্যতে এ বাজার আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। জিএসপি ও শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পাবে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জঙ্গিদের অর্থের জোগান বন্ধ করতে পারলে তাদের নির্মূল করা সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উচ্চতর প্রশিক্ষণও দিতে পারে। দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্যবিনিময়ও হতে পারে।

আলমগীর ইমন

লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

 

► স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে অর্থনীতির সূচক ছিল নাজুক। তখনকার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার আমাদের বলেছিলেন তলাবিহীন ঝুড়ি। আজ আমরা যখন অনেক দূর এগিয়ে এসেছি, যখন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছি; রাশিয়া, চীন, ভারত, জাপানসহ আরো অনেকে যখন উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে এসেছে তখনই যুক্তরাষ্ট্র পাঠিয়েছে জন কেরিকে। কেরি তাঁর কূটকথায় আমাদের সন্তুষ্ট করতে সচেষ্ট হন। কেরি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেছেন। স্বাধীনতাযুদ্ধে কেনেডির সঙ্গে জন কেরিও আমাদের পক্ষে নিজ দেশের রাজপথে নেমেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিও তাঁর যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে তা তাঁর অভিব্যক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমান সময়ে কেরির এই সফর আমাদের আশান্বিত করলেও সতর্ক থাকতে হবে। আমরা একটি বিখ্যাত কথা যেন ভুলে না যাই, ‘আমেরিকা যার বন্ধু তার শত্রুর প্রয়োজন নাই। ’

আসাদুল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►  মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে আশান্বিত হওয়ার মতো কোনো বার্তা আছে বলে আমি মনে করি না। তাঁর সফরের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশে মার্কিন প্রভাববলয় বজায় রাখা, পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখা। জিএসপি প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশের পোশাকশিল্প যুক্তরাষ্ট্রে তার আগের অবস্থান হারাচ্ছে; কিন্তু এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সহযোগিতার কোনো মনোভাব নেই। তাই সফরটি কেবলই মার্কিন স্বার্থ উদ্ধারের সফর।

আবদুস শাকুর

জিনজিরা, ঢাকা।

 

► জন কেরি আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে আমাদের চমকপ্রদ অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন। ১৯৭১ সালে তাঁর দেশের সরকার আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। জন কেরি এসে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রদর্শন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। পরিদর্শন বইয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এ খবরে আমাদের ক্ষোভ কিছুটা হলেও কমবে। আর দেশ এখন হেনরি কিসিঞ্জারের সেই তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে একদিন আমরা বিশ্বে মডেল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করব।

রামগোপাল সাহা

তমালতলা কৃষি ও কারিগরি ডিগ্রি কলেজ, বাগাতিপাড়া, নাটোর।

 

► জন কেরির সফর দুই পক্ষের দিক থেকেই ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্কের প্রয়োজন আছে।

শিবুপ্রসাদ মজুদার

লেকসার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

 

► যুক্তরাষ্ট্র বড় অর্থনীতির দেশ। যুক্তরাষ্ট্রকেও বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য ব্যবহার করতে হয়। বর্তমান বিশ্বে কেউ একা চলতে পারে না। দরিদ্র দেশ তো বটেই, ধনী দেশগুলোরও অন্যদের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক রাখতে হয়। এ ছাড়া জঙ্গি-সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ার প্রয়োজন আছে। তবে আমরা প্রয়োজনমাফিক সহযোগিতা নেব। কোনো শর্ত সাপেক্ষে সহযোগিতা নেওয়া যাবে না। কেরি জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। সব বিবেচনায় এ সফর বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি জন কেরি। তাঁর বাংলাদেশ সফরে দেশের গণতন্ত্রের ভিত মজবুতকরণে সহায়ক হবে। জন কেরি জাতির জনকের স্মৃতি জাদুঘরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিলেন। দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হলে ব্যবসা-বাণিজ্যও আরো ভালো হবে, সন্ত্রাস নির্মূলে সহায়ক হবে। জন কেরি বঞ্চিত শ্রমিকসমাজের পক্ষে বলে গেছেন, তাতেও আমরা আশান্বিত হয়েছি। শ্রমিক অধিকার আদায়ে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে আমাদের পাশে থাকলে শ্রমিক অধিকার আদায়ে সহায়ক হবে।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

 

► আগে কি তোমার মনে ছিল না, এখন কেন কান্দ রাধে? যতই বলুন, জন কেরিকে শান্তির দূত হিসেবে শতভাগ মেনে নিতে আমাদের সময় লাগবে।

মোমিন হৃদয়

নাটুয়ারপাড়া, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

► প্রথমে ধন্যবাদ জানাই সাবেক সচিব ও কবি মোফাজ্জল করিমকে। ২ সেপ্টেম্বর দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদকীয় পাতায় তাঁর লেখা, ‘জন কেরির খেলা কি ড্র হয়েছে?’ অসাধারণ হয়েছে। তিনি দারুণভাবে বলেছেন, ‘যো ওয়াদা কিয়া হায়, উয়া নিভানা পড়েগা। ’ ‘কিসের কষ্ট, কিসের ক্লেশ/চলো মন, যাই বাংলাদেশ। ’ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বাংলাদেশ সফরটা কেমন জানি শীতকালের বৃষ্টির মতো মনে হলো। শীতকালে বৃষ্টির প্রয়োজন না থাকলেও হলে মন্দ হয় না। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। আবার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, আপনাদের নির্বাচনের পর আবার আসবেন। আমাদের অনেক সুনিপুণ কাজ আছে, পারলে দেখে যাবেন।

রহিমা আক্তার মৌ

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

► জন কেরি বাংলাদেশের জন্য কিছু সম্ভাবনাময় রেখা নিয়ে এলেও তা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। প্রতিবেশী দেশ থেকেও আমরা বেশ কিছু সম্ভাবনাময় রেখা দেখতে পেয়েছি। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ এবং উন্নত দেশের রাষ্ট্রদূত সব সময় নিজেদের স্বার্থ বুঝে নিয়ে কেটে পড়েছে।

মেহেদী হাসান হিমেল

সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, মুন্সীগঞ্জ।

 

► জন কেরি বাংলাদেশে এসেছেন বাংলাদেশ জঙ্গি ও সহিংস উগ্রবাদ নিরসনে কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা দেখতে।   অতএব, তাঁর সফর গুরুত্বের দাবি রাখে।

আবদুল মোতালেব

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

► জঙ্গি হামলার পর বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তাবিষয়ক যে ভীতি বিদ্যমান ছিল জন কেরির আগমনের সুবাদে তার মোটামুটি একটি সুরাহা মিলল বলে মনে করছি।

মাসুমা রুমা

ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

► মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি পরম প্রাপ্তি। ঢাকায় এসে তিনি যে পাঁঁচটি ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন তার প্রতিটি ইস্যুই গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে। তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণতা পেলে বাংলাদেশ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনীতিতে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। কেরি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে সামনে নিতে শুল্কবিহীন প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। জঙ্গিবাদ রোধে সরকারের পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরত পাঠানোরও আশ্বাস মিলেছে। সবচেয়ে বড় কথা, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর দেশ যেদিকেই থাকুক—কেরি তখন বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে আরো মার্কিন বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেছেন তিনি।

তানজিদ হাসান

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► মার্কিন পররাষ্ট্র্রমন্ত্রী জন কেরির ঝটিকা সফর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ধরনের সফর নিতান্ত  লোকদেখানো হয় না। বিশেষ কিছু গুরুত্ব অবশ্যই বহন করে থাকে। তাঁর সফরের মধ্যে একটি বিষয় খুবই স্পষ্টভাবেই পরিলক্ষিত হয় যে বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। এই বদনাম থেকে বাংলাদেশ এখন মুক্ত। এ ধরনের সফরে গোপন কোনো এজেন্ডা থাকলেও থাকতে পারে; যদিও তা স্পষ্ট হয়নি।

হাবিবুল ইসলাম রুবেল

সদস্য, পল্লীমা সংসদ, খিলগাঁও, ঢাকা।

 

► ২০১২ সালের পর ঢাকায় এলেন কোনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি পরম প্রাপ্তি ও গর্বের বিষয়। ঢাকায় এসে তিনি যে পাঁচটি ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন তার প্রতিটি ইস্যুই গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে।

ওয়াসিম রহমান সানী

সভাপতি, বাংলাদেশ কবি পরিষদ (বাকপ), ঢাকা।

 

► গুলশানে জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতার মধ্যেই কেরির এই ঢাকা সফর। এতে বিদেশি পর্যটক, উদ্যোক্তা ও কূটনীতিবিদদের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনাচার ফিরে আসবে বলে ধারণা করছি। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ভ্রমণ সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের চলাফেরায় বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। কেরির এ সফরের পর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে আমার বিশ্বাস। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ঢাকা সফর করেছিলেন। ওয়াশিংটনে ফিরে গিয়ে তিনি বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে তিরস্কার করেছিলেন। তবে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যে মুগ্ধ জন কেরি। তিনি অকপটে বললেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথে তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

সোলায়মান শিপন

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।

 

► আমাদের প্রত্যাশা, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরো দৃঢ় করবে।

মো. মোকাদ্দেস হোসাইন

গ্রামপাঙ্গাশী, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

 

► এ সফর বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো মজবুত হবে। বাংলাদেশের নানাবিধ সমস্যায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে বলে মনে করি।

তকরিমুল মোস্তফা

সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম।

 

► জন কেরির এ সফর বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক সুফল বয়ে আনবে বলে আশাবাদী।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।


মন্তব্য