kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বিএনপি চলে গেলে নির্বাচন অর্থ হারাবে

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



প্রথম ধাপে ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হয়েছে। সংঘর্ষে নিহত হয়েছে—বিভিন্ন তথ্য মতে ২৪ জন। আহত শতাধিক। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন হলো ৬৩৯টি ইউপিতে। এ পর্যন্ত আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ দুই ধাপে নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেওয়া, বোমাবাজিসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অহেতুক গোলাগুলিও করেছে। এবারের নির্বাচনে তিনটি পক্ষ নির্বাচন করেছে। দলীয়, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র। বিদ্রোহীরাই বেশি সমস্যা করছে—এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে অনেক জায়গা থেকেই। দাঙ্গা-হাঙ্গামার মূলে এই দলছুট পক্ষটিই বেশি তত্পর ছিল। বিএনপির প্রার্থীদের তত্পরতা কম দেখা গেছে। দলীয় নিষ্ক্রিয়তার কারণে তারা মাঠে সরবও ছিল না। পার্বত্য এলাকার কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগ বা বিএনপির কেউই মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোনো কোনো পক্ষের সশস্ত্র সহিংসতার ভয়ে। এত কিছুর সঙ্গে আরো হতাশ করেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বক্তব্য। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কৌশল পরিবর্তন করেছে। তবে প্রথম ধাপের মতো এবার আর রাতের বেলা ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়নি। ’ অবশ্য নির্বাচন কমিশনের প্রথম ধাপে ৬০টি কেন্দ্র, দ্বিত্বীয় ধাপে ৩৫টি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। যে ধরনের গোলযোগ হয়েছে স্থগিত কেন্দ্রের সংখ্যা সে তুলনায় নগণ্য।

এদিকে বিএনপি দুই ধাপেই কিছু নির্বাচন বাতিলের কথা বলেছে। তৃতীয় ধাপে যদি একইভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু না হয় তারা পরের তিন ধাপ নির্বাচন বয়কট করবে বলে জানিয়েছে। যদি বিএনপি অংশগ্রহণ না করে, তাহলে নির্বাচন অর্থবহ হবে না। ভোটাররা কেন্দ্রে যাবে না। নির্বাচন কমিশনের গুরুদায়িত্ব ছিল এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার। এই দায়িত্বে আমরা তাদের শিথিলতা লক্ষ করছি। প্রথম দুই ধাপ থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের নির্বাচনগুলোতে নির্বাচন কমিশন আন্তরিকভাবে সদিচ্ছার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়াতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় আগে থেকেই পূর্ণ সতর্কতা নেওয়া হোক। প্রশাসনকে থাকতে হবে নিরপেক্ষ।

মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।


মন্তব্য