kalerkantho


দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনও হতাশ করেছে

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপেও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ঘটেছে। এবারও অনেকে ভোট দিতে পারেননি। মানুষ আশা করেছিল, প্রথম ধাপের সহিংসতা থেকে কর্তৃপক্ষ শিক্ষা নেবে। তাদের আশাহত হতে হয়েছে। বিএনপি বলেছে, তৃতীয় ধাপেও তাদের প্রতি অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হলে তারা শেষ তিন ধাপের নির্বাচনে অংশ নেবে না। তাই সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোনে ও ই-মেইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনও হতাশ করেছে

► নির্বাচন কিভাবে মূল্যায়ন করব? যা দেখেছি তাতে সত্যি আমরা দুঃখিত। যেভাবে মারামারি, হানাহানি হয়েছে, অনেকে মারাও গেছে, এটা কারোরই কাম্য ছিল না।

এক দেশের মানুষ, মানে একটি বৃহৎ পরিবার। সেখানে মতের অমিল থাকতেই পারে, তবে এ ধরনের মারধর থাকা ঠিক না। ভোট হলো জনগণের নিজস্ব ব্যাপার, যার যাকে ইচ্ছা তাকেই ভোট দেবে। দেখি তার উল্টোটা। সবই আমাদের দুর্ভাগ্য। এমন দেশে জন্ম আমাদের, যেখানে জানমাল নিরাপদ নয়। দিন কাটাতে হয় আতঙ্কের মধ্য দিয়েই।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আরজতপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

 

► গণতান্ত্রিক দেশে ভোট জনগণের নাগরিক অধিকার—এই বাক্যটিতে ঘুণপোকা ধরেছে।

ভোট এখন লাশের মিছিল। যেখানেই ভোট সেখানেই লাশ। যখন ভোট তখন লাশ। এই লাশের রাজসাক্ষী আমার স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের লাল-সবুজের মানচিত্র। নির্বাচনের কথা শুরু হলেই আঁতকে উঠি। এ পরিস্থিতিতে দেশে কি নির্বাচন হওয়ার প্রয়োজন আছে? ক্ষমতা মানুষকে এতটাই হিংস্র করে তুলেছে যে কোথাও নিরাপত্তা নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপে রাতে সিল মারা হয়নি। তার মানে প্রথম ধাপে রাতে সিল মারা হয়েছে—এটা তিনি স্বীকার করেন। নির্বাচন এখন যে গতিধারায় চলছে তা পরিবর্তনের প্রয়োজন। অযোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষমতার জোয়ার নির্বাচনের পরিবেশ আরো বিশৃঙ্খল করে তুলছে। দেশ যে সম্পূর্ণ ক্ষমতার চাবিকাঠিতে চলছে, তা আবারও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। এই দেশ এখন গুলি ছোড়ার খেলায় পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকেরা রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। ঠিকভাবে দায়িত্ব নিতে না পেরে তারা ঠুস ঠুস করে গুলি ছুড়ছে। এমন নির্বাচন আমরা চাই না। এমন লাশের মিছিল আর নয়। আর এসব বন্ধ করতে পারে সরকার, একমাত্র সরকার।

রহিমা আক্তার মৌ

চাটখিল, নোয়াখালী।

 

► নির্বাচন মোটামুটি সন্তোষজনক হচ্ছে। কিছু কিছু স্থানে সহিংসতা হচ্ছে। সরকার সতর্ক থাকলে সামনে এই সহিংসতা কমিয়ে আনা যাবে।

শিবুপ্রসাদ মজুমদার

লেকসার্কাস, কলাবগান, ঢাকা।

 

► অনেক অনিয়ম ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে দুই ধাপে নির্বাচন হলো। সামনে এই পরিবেশ চাই না। নির্বাচন সুষ্ঠু হোক। সুন্দর হোক।

আইরিন পারভিন

গ্রামপাঙ্গাসী, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

 

 ► ২২ মার্চের প্রথম ধাপের নির্বাচনে ১১ জন, ৩১ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে আটজনের মৃত্যুর খবর আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। নির্বাচন মানে খুন, নির্বাচন মানে মানুষকে মরতে হবে—এ রকম একটা রীতি যেন বাংলাদেশে বর্তমান। প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) আরো কঠোর হলে দ্বিতীয় নির্বাচনে মনে হয় মৃত্যুর সংখ্যা আট থেকে আরো কমে আসত। সামনে আরো চারটি ধাপে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। আমরা চাই, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের চারটি ধাপে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ইসি আরো কঠোর হবে। তবে এ কথা সত্য যে দলীয় প্রতীক থাকায় এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনেক উৎসবমুখর। ভোটারদের লম্বা লম্বা লাইন, সব শ্রেণির ভোটারের আগ্রহ নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ ও সফল করে তুলছে। অন্যদিকে বিএনপি নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছে। ভোট বর্জন করে জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায় না। জনপ্রিয়তা অর্জন করতে হলে দেশ ও দশের জন্য কাজ করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। সব শেষে আমি ছাত্র হিসেবে বলতে চাই, এই  নির্বাচন ‘দ্বিমত হলেও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’।

মোহাম্মদ শেখ সাদী

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম।

 

 ► কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন দুই দফায়ই ভালো হয়েছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। তাই কিছু সমস্যাও হচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের সাংগঠনিক শক্তি নষ্ট করছে। কিছু মহলও নির্বাচনকে বানচাল করতে চাইছে। তাই সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

জুয়েল বৈদ্য

কুসুমবাগ, মৌলভীবাজার।

 

► পৌরসভা নির্বাচনের মতোই ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। পরাজয় বিএনপিকে এতটাই দুর্বল করেছে, যার শোকে বিএনপির বুদ্ধিজীবীরাও এখন এই লজ্জা থেকে মুক্তির উপায় বের করতে পারছেন না। আর আওয়ামী লীগ কেন ভালো করল, তা নিয়েও নিজেরাই বিশ্লেষণ করছে না। জনপ্রিয়তা থেকেই দলের শক্তি নির্ভর করে। আর শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে বা অন্যদের সুযোগ দেওয়া হলে ফলাফল নিশ্চয়ই নিজেদের পক্ষে আসবে না।

তৌহিদুল ইসলাম রবিন

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু হয়নি, তবে সন্তোষজনক। বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ফলে কমছে স্বতন্ত্র বিজয়ের হারও। অন্যদিকে বিএনপি আগে থেকে প্রার্থী নির্বাচন করতে না পারায় সব জায়গায় প্রার্থী দিতে পারেনি। ফলে তাদের দলীয় বিপর্যয় ঘটেছে। এ থেকে নির্বাচন কমিশনার, সরকার, রাজনৈতিক দল সবাই যেন শিক্ষা নেয়।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

► দুই ধাপেই অনিয়ম দেখলাম। কেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি, প্রাণহানি সবই হলো। অনেক ভোটার নিজের ভোট নিজে দিতে পারেননি। এই নির্বাচন পুরো সুষ্ঠু হতে পারে না।

মো. বজলুর রহমান

সেকারা, বহরপুর, রাজবাড়ী।

 

► জামায়াত-শিবিরেরও কেউ কেউ আওয়াম লীগ থেকে নির্বাচন করছে। সরকারি দলের এই দুর্বলতা ভয়ংকর। নির্বাচন ঘিরে প্রাণহানি থেকে বাংলাদেশ কবে মুক্তি পাবে?

মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন

মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ, চট্টগ্রাম।

 

► কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে। ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন এবং যথাযথভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কারণ ভোটারদের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছিল কড়া নজরদারি। আগামী ধাপগুলোতেও যেন এমন সুষ্ঠু নির্বাচন হয় সেটাই নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা হারিয়েছিল। তখন ক্ষমতাসীনরা নানাভাবে ভোটারদের হয়রানি করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছিল। কিন্তু এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত। তাদের বুকে সদা জাগ্রত আছে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সেই বলে বলীয়ান হয়ে তারা আবারও সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী করবে—এটাই প্রত্যাশা।

 

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► দ্বিতীয় ধাপে মৃত্যু হলো আরো কিছু ব্যক্তির। দলীয়ভাবে এই প্রথম নির্বাচন হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে। নেতৃত্বহীন, গণবিচ্ছিন্ন দল বিএনপিও তাতে অংশ নিচ্ছে—নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে। এদিকে সরকারি দল প্রার্থী মনোনয়নে অস্বচ্ছতার পরিচয় দিচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমার এলাকা দুর্গানগর ইউনিয়নের কথা যদি বলি, গণবিচ্ছিন্ন কিছু মুখ প্রার্থিতা পেয়ে যেতে পারে। এমনটি আমরা তো প্রত্যাশা করি না। সাধারণ জনগণ আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে। কিন্তু তারা যদি দেখে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের নীতিনির্ধারকরা ভুল করছেন, তাহলে ক্ষোভ তৈরি হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ। আমি চাই না এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের প্রতি কোনো ধরনের হতাশা তৈরি হোক।

 

আসাদউল্লাহ

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► সাধারণ মানুষের মনে নির্বাচন নিয়ে যে সংশয় দেখা দিয়েছিল তা অনেকটাই বাস্তব ও সত্য হয়ে ফুটে উঠেছে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। ভোটকেন্দ্র দখল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা পালন এবং দলীয় ক্যাডারদের সহযোগিতায় এটি একটি প্রহসনমূলক নির্বাচন ছিল। একজন নির্বাচন কমিশনারের ‘নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু হয়েছে’ মন্তব্যটিও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারটি অনেকটাই স্পষ্ট করেছে। আওয়ামী লীগের ৪৩০ ও বিএনপির ৫৫ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন দ্বিতীয় দফার গতকালের নির্বাচনে। ৭৯টি ইউপিতে বিএনপির কোনো প্রার্থী ছিল না। ৩১টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। তবে কোনো কোনো ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরা নিরপেক্ষ ভোট না হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ভোট বর্জন করলেও তার বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে কোনো কোনো ইউনিয়নে। এ ছাড়া বেশির ভাগ ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানারসহ অন্যান্য প্রচার-প্রচারণা লক্ষ করা যায়নি। ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিক দল ও মূল দলের কর্মীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নির্বাক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।

সোলায়মান শিপন

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।

 

► ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এবার রাতে সিল মারার ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ কিছু এলাকায় হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন নজরদারি বাড়ালে সামনের নির্বাচনগুলো আরো ভালো হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► বেপরোয়া রাজনীতি গ্রামবাংলার নির্বাচনী উৎসবকে সহিংসতা ও মৃত্যুর উৎসবে পরিণত করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ১০০ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অনেক জায়গায় সরকারি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অন্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রই জমা দিতে পারেননি। এভাবে শুরু থেকেই ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার লক্ষণ দেখা গেছে। অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আর নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করার দায়িত্ব সরকারের। দুঃখের বিষয় হলো, নির্বাচন কমিশন ও সরকার ইউপি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ উপায়ে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অনেকটাই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, যা দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। নির্বাচনী সংঘর্ষে আহত-নিহতের সংখ্যা দেখে সরকারি দলের অনেকেই বলেছেন, আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবার আহত-নিহত কম হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও নির্বাচনী অনিয়মে তেমন বিচলিত নয় বলেই মনে হচ্ছে। তাদের জানা উচিত, দেশের সাধারণ মানুষ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে তাদের ভোটাধিকার নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চায় এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশেই রাজনৈতিক চর্চা করতে চায়। আশা করি, সরকার এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে।

বিপ্লব

ফরিদপুর।

 

► নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ। নির্বাচনে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হোক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমতি থাকলে আরো বেশি ধাপে, যেমন প্রতি ধাপে ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করা হোক।

নজরুল ইসলাম খান

নতুন জুরাইন, ঢাকা।

 

► এই নির্বাচনী খেলা না খেলে সরাসরি নিজেদের লোকদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিলেই ভালো। যার শক্তি আছে তারই ক্ষমতা, যার শক্তি নেই সে ইলেকশনের নাম নিলেই শুরু হয় মহাবিপদ—এটাই কি নির্বাচন?

এম এ কাদের অপু

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► ভোলার সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের উত্তর মুরাদ ছবুউল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে বেশ কিছু লোক দাঁড়িয়ে গল্প করছে। তখন পুলিশ গাড়ি থেকে নেমে রাস্তা ফাঁকা করে দেয়। যে কেউ বিশ্বাস করবে কেন্দ্রের ভেতরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে। কেন্দ্রের ভেতরে তখন চলছিল প্রকাশ্যে সিল মারা। তাহলে কি এটা সুষ্ঠু নির্বাচন বলা চলে? বিরোধী দলের এমনকি বিদ্রোহী প্রার্থীদের মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালাতে দেওয়া হয় না। তাঁদের সমর্থকদের মারধর করা হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন তখনই হবে, যখন প্রশাসন ও নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সবাই ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সাকিব আল হাসান

রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

 

► প্রথম ধাপের নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও সহিংসতার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাতক্ষীরা অঞ্চলের ঘটনায় সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় তলব করেছিল। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা ব্যালট পেপারে সিল মারার খবর জেনেছিল সকাল ৯টায়। গত পরশু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে আবারও সহিংসতার ঘটনা ঘটল। রক্তপাত হলো। নির্বাচনকালীন সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে পরিমাণ সতর্ক ও কার্যকর থাকা দরকার, দেখা যায়—সেটা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। বেশির ভাগ থানার ওসি দলীয় প্রভাবে পড়ে, টাকা খেয়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করেন। তাই আমার মতে, নির্বাচনের সময় থানার ওসিদের বদলি করে দিতে হবে। যে এলাকাগুলোয় বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটে, সেখানে এই কাজ করা আরো জরুরি। ওসিকে সরিয়ে দিলে অন্তত কিছুটা হলেও স্বজনপ্রীতি, দলীয়প্রীতি কমবে; যদিও অনেক এলাকায় ওসিরা নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের লোক বলে প্রচার করলেও দেখা যায় তিনি আসলে তা নন। এদিকেও রাজনৈতিক দলগুলোর নজর দিতে হবে। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে মারামারি, খুনের ঘটনা ঘটেছে। তাই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে বিশেষ অনুরোধ, নির্বাচনী এলাকাগুলোতে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ বাড়ান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ ঠিকমতো করার জন্য থানার ওসিদের নির্বাচনের আগে বদলি করুন। এই কাজটুকু করতে পারলে প্রশাসন নিজেদের আয়ত্তে ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

মো. নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

 ► ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দুই দফায় ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট, সহিংসতা, রক্তপাত, খুন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলি চালানো ইত্যাদি ঘটনা ঘটেছে। এসব থেকে বলা যায়, নির্বাচন খুব একটা সুষ্ঠু হয়নি। এখনো চার দফা ভোটগ্রহণ বাকি আছে। আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, সহিংসতা, রক্তপাত রোধ করতে সেনাবাহিনীর নজরদারির ব্যবস্থা করুন। তাহলে সাধারণ মানুষ শান্তিতে ভোট দিতে যেতে পারবে, নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। আশা করি, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে।

মোহাম্মদ মোকাদ্দেস হোসাইন

গ্রামপাঙ্গাসী, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

 

► এবারের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। একে তো তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, এরপর বিভিন্নভাবে নির্বাচনে দলীয় প্রভাব বিস্তার ও নির্বাচন কমিশনের ক্রমাগত ব্যর্থতা সরকারকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখায় আওয়ামী লীগের পায়ের নিচের মাটি ক্রমেই সরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে ওঠা নিজেদের অর্জনকে ম্লান করে দিতে চলমান ইউপি নির্বাচনও প্রভাব রাখবে।

রাজকুমার সিংহ

শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

 

► ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই ধাপেই সহিংসতা হয়েছে। বাকি ধাপগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ করতে চাইলে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে আরো কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। বিএনপি আর এক ধাপ দেখে পরের তিন ধাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছে। এই হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এবার নির্বাচন যেভাবে চলছে পাঁচ বছর পরের নির্বাচন নিয়ে এখনই আমি আতঙ্কিত বোধ করছি। সরকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে বের করবে।

শাহিন মোল্লা

বনগ্রাম বাজার, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ।

 

► চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের দুই দফায় সুষ্ঠু নির্বাচনের চিহ্নমাত্র পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী এলাকায় সহিংসতা, কেন্দ্র দখলসহ সব ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের প্রভাবটাই বেশি লক্ষ করা গেছে। এসব আমরা মিডিয়ার সুবাদে জানতে পেরেছি। সহিংসতার ঘটনায় যে মানুষগুলোর প্রাণ গেছে সেগুলো কি আসলেই অনাকাঙ্ক্ষিত, নাকি অনাকাঙ্ক্ষিত বলে আমরা দায় এড়িয়ে যাচ্ছি? জানি, অপরাধীদের বিচার হবে না। এর মধ্যে এটাও জানা গেছে যে সহিংসতার কারণে যাদের ধরা হয়েছিল, পুলিশ তাদের নাকি ছেড়ে দিয়েছে! আমরা ইউপি নির্বাচনের পরের ধাপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ আশা করছি।

মো. সাইফুল ইসলাম

কুমিল্লা।

 

► ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকায় এ নির্বাচনের আমেজ সর্বোব্যাপী ও অতুলনীয়। আমরা আশা করব, সেই আমেজের ব্যত্যয় না ঘটানোর জন্য সরকারি দলের নেতাকর্মীরা বাধাবিপত্তি, আক্রমণ-হুমকি থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকবে। পুলিশ, জনপ্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন দল-মত-নির্বিশেষে সব প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতহীন আচরণ করবে—সেই প্রত্যাশা জনগণ করে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য ইউপি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার সুযোগ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ হাতছাড়া করবে না বলেও আমাদের বিশ্বাস; যদিও নির্বাচন কমিশন নিজেই মনে করছে, ইতিমধ্যে কিছু বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে, যা কারো কাম্য ছিল না। আমাদের দেশের জনগণ প্লেটোর মতবাদে (সমাজে বিদ্বান, সুপণ্ডিত ও যোগ্য লোকের তুলনায় অযোগ্য, অশিক্ষিত এবং অজ্ঞ লোকের সংখ্যাই বেশি। গণতান্ত্রিক শাসন মানেই প্রকারান্তরে অযোগ্যের শাসন) নয়, বরং আব্রাহাম লিংকনের মতবাদে (গণতন্ত্র জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা গঠিত সরকার এবং জনগণের জন্য সরকার) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।


মন্তব্য