kalerkantho


দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও সহিংসতা থেকে মুক্তি চাই

আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে থাকবে না জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা। শিশু ও নারীদের ওপর কোনো আঘাত আসবে না। বেকারত্ব ঘুচবে। কমবে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য। এ ছাড়া রাজনীতিবিদরা হবেন সৎ, শিক্ষিত ও দক্ষ। মানুষ হবে আরো মানবিক, আরো সুসংগঠিত। আর সবার হাত ধরে গড়ে উঠবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শভিত্তিক এক সোনার বাংলাদেশ। স্বাধীনতা দিবস সামনে রেখে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোনে ও ই-মেইলে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও সহিংসতা থেকে মুক্তি চাই

কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই—তার প্রত্যাশার তালিকা করলে দীর্ঘ হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে আমি এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যার রাজনীতিবিদরা হবেন দুর্নীতিমুক্ত, সৎ, শিক্ষিত, চৌকস ও দেশপ্রেমিক।

কেবল তাহলেই জনসাধারণ যেমন বাংলাদেশ দেখতে চায় তার বেশির ভাগ চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে।

আবদুর রহমান

গাঙ্গেরকুট, মুরাদনগর, কুমিল্লা।  

 

ঊনসত্তর, বায়ান্ন, একাত্তরের ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও পাকিস্তানের সেই দোসর রাজকাররা এখনো তাদের অস্তিত্ব বজায় রেখেছে। আশার কথা, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশকে আবার নতুন করে সাজাতে শুরু করেছে। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে, দেশকে জঙ্গিমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। বর্তমান সরকার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করছে; যদিও সরকারের এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে নস্যাৎ করার জন্য এখনো বিরোধী শক্তি নানা কাজে তত্পর। তারা গত বছরের শুরুতে পেট্রলবোমা আর সহিংসতায় বাংলাদেশ অস্থির, অশান্ত করে তুলেছিল। তাদের এসব কাজের কারণে অনেক নিরীহ সাধারণ মানুষ মারা যায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে, রাজাকারমুক্ত সুখী দেশ গড়ে উঠবে—এটাই প্রত্যাশা।  

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

দলগুলোর সমান রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে, সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত ও ক্ষুধামুক্ত সোনার বাংলাদেশ দেখতে চাই।

মো. বজলুর রহমান

সেকারা, বহরপুর, রাজবাড়ী।  

 

স্বাধীনতার ৪৬ বছরে আমাদের প্রত্যাশা বেকারত্বমুক্ত একটি দেশ। এ ছাড়া থাকবে না সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, হানাহানি। একটি সুস্থ, সুন্দর ও সুখী সমাজ গঠন আমরা প্রত্যাশা করি।

মোকাদ্দেস হোসাইন

গ্রামপাঙ্গাসি, সিরাজগঞ্জ।

 

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও বাংলাদেশ রাহুর গ্রাস থেকে মুক্ত হতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পাঁচ বছরে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল, তাকেই একমাত্র বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বলা যায়। আওয়ামী লীগ আশা করেছিল, জনগণের জীনযাত্রার মান পরিবর্তন করতে পারলেই জনগণ তাদের ভোট দেবে। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে যতই নীলনকশা করা হোক না কেন, আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছিল এ দেশের জনগণের মতিগতি। তাই ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিলেও আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের সেই সরকারের সাফল্যের প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। শর্ষের ভূত ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের সাফল্য অনস্বীকার্য; কিন্তু দেশে বিদ্যমান দুর্নীতি প্রতিরোধ করাও জরুরি।

রাজকুমার সিংহ

শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

 

আমাদের শ্যামল বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। একসময় আমরা পরাধীন ছিলাম। কিন্তু অদম্য বাঙালি তাদের বুকের রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। বর্তমানে স্বাধীনতা ও প্রকৃতি বিরোধীরা স্বাধীন বাংলার প্রাকৃতিক সম্পদ, পশুপাখি, বন্য প্রাণী, নদী, জলাশয়, পাহাড়, বন-জঙ্গল ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে। আমরা স্বাধীন হয়েও প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছি প্রতিনিয়ত। যে প্রকৃতি আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে, তাদের আমরা রক্ষা না করে ক্রমাগত ধ্বংস করছি। অপরূপ বাংলাদেশ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে বিশ্বে আলো ছড়াক—স্বাধীনতার ৪৬ বছরে এটাই প্রত্যাশা।

মো. আবদুর রাজ্জাক নাছিম

চান্দাইকোনা, শেরপুর।

 

কোনো মা-বাবাকে যেন তাঁদের সন্তান বাইরে থাকলে উত্কণ্ঠায় থাকতে না হয় এমন একটি বাংলাদেশ চাই আমি।

মো. শফিকুল ইসলাম ইউসুফ

নাসিরনগর, ব্রাক্ষণবাড়িয়া।

 

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সোনার বাংলা দেখতে চাই।

আজহারুল ইসলাম সরকার

আহ্বায়ক, শিক্ষা ঐক্য, নরসিংদী।

 

এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে থাকবে না কোনো সন্ত্রাস বা রাজনৈতিক হানাহানি। গণতন্ত্রের পথচলা হবে নিষ্কণ্টক। প্রত্যেক মানুষ তার অধিকার ফিরে পাবে। একটি কল্যাণমূলক আদর্শ রাষ্ট্র চাই।

কাজী আবু মো. খালেদ নিজাম

মরিয়মনগর, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।

 

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি বাংলাদেশ চাই, যা হবে প্রতিরক্ষা শক্তিতে বলবান। হবে শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধ এবং ডিজিটাল একটি দেশ।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

দেশের উন্নতি করতে হলে প্রথমে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। একটি সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে সে তার কাজগুলো শেষ করে যেতে পারে। সামনের বাংলাদেশ হবে জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত একটি দেশ।

নাদিম খান

চাকরিজীবী, পিরোজপুর।

 

স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও এখনো আমাদের মাঝেমধ্যে অন্য রাষ্ট্রের খবরদারি শুনতে হয়। সেটা বন্ধ রাখার জন্য বা এটাকে প্রশমিত করার জন্য আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় আরো দক্ষ হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণের জন্য তাঁর বক্তৃতা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।

মো. নাজিম আদি

সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।

 

এর চেয়ে উন্নত বাংলাদেশ আমাদের পাওয়ার কথা ছিল। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এগিয়ে যায়, আমরা পারি না। যে মানুষটি নিজের জীবনকে বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করলেন, তিন বছরের মধ্যে বিধ্বস্ত দেশকে একটি শক্ত ভিত দিলেন, অর্থনীতি গতি পাচ্ছিল—সে মুহূর্তে সেই মানুষটিকে সপরিবারে হত্যা করল একটি কুচক্রী মহল। আমাদের সব উন্নতি যেন ওই মুহূর্তেই থেমে গেল। এরপর স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশ পরিচালনা করল ২১ বছর। তবে আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশ আবারও গতি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশকে সোনার বাংলা করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। এই শ্রম বৃথা যেতে পারে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতে আমরা ভালো এগিয়েছি। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। দেশ উন্নত হবে। শ্রমিকরা কাজের নিশ্চয়তা পাবে—এ প্রত্যাশাই থাকল।

কুমারেশ চন্দ্র

 বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

 

আমরা স্বাধীন জাতি। তবে স্বাধীনতা পাওয়াই সব নয়। মানুষের বাক্স্বাধীনতা, যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মের অধিকার—এসব থাকতে হবে। ক্রয়ক্ষমতা থাকতে হবে সবার। দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে সব ক্ষেত্রে। সব ধর্ম ও মতের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে হবে। তা না হলে স্বাধীনতা আর স্বাধীনতা থাকে কই! স্বাধীনতার ৪৬ বছরে আমাদের প্রত্যাশা, দেশ এমন শিখরে উঠুক, বিশ্ব যেন উন্নয়নের মডেল হিসেবে আমাদের স্বীকৃতি দেয়। সুখী, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা চাই। কর্মদক্ষতা ও সততার প্রয়োগ করা গেলে এমন স্বপ্নের দেশ গড়া কঠিনও হবে না। মুকুট জয় করা সহজ, রক্ষা করা কঠিন। এই কঠিন সময় আমরা এখন পার করছি। মানুষে মানুষে হানাহানি কমছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়ছে। আশা করি, বর্তমান সরকারের সাহসিকতায় দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। জাতি গড়ে উঠবে সত্যিকার স্বাধীন দেশ হিসেবে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

আমরা আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা চাই। শিশুরা এত দিন ছিল খাঁচায় বন্দি। এখন তাদের দিকে হাত বাড়াচ্ছে হায়েনারা। শিশু স্কুলে যাবে, মাকে আগলে রাখতে হয়। ফিরবে, তখনো মাকে আগলে রাখতে হয়। তার পরও কি সবাই নিরাপত্তা পাচ্ছে? ওরা কেন মুক্ত বিহঙ্গ হতে পারছে না? শিশু অপহরণ বাড়ছে। অভিভাবকদের ভয় ও উত্কণ্ঠাও বেড়ে চলেছে। হবিগঞ্জের বাহুবলের নিভৃত পল্লীতেও চার শিশুকে হত্যা করা হয় একসঙ্গে। এমন অহরহই ঘটছে। স্বাধীন দেশে এমন নিরাপত্তার ঘাটতি কেন দেখা দেবে?

আমরা চাই, দেশ মুক্ত ও নিরাপদভাবে ঘুরে দাঁড়াক। ভর্তিযুদ্ধ প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে ভাবিয়ে তোলে। পরীক্ষা, পরীক্ষা আর পরীক্ষা। তবু শেষে সোনার হরিণের দেখা মেলে না। শিক্ষার অধিকার শতভাগ বাস্তবায়ন চাই। নিয়োগ-বাণিজ্যমুক্ত জনপ্রশাসন চাই। মেধার লালন হোক। অর্থ নিয়ে বা দলীয় বিচারে যদি নিয়োগ চলে, তাহলে দেশ দক্ষ জনপ্রশাসন পাবে কোথা থেকে? ঘুষ, দুর্নীতি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে আছে। জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পায় না কোথাও। দুর্নীতিপরায়ণ, ঘুষখোরদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হোক। আমাদের আরো স্বপ্ন, কিষান-কিষানিরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ফুলে-ফলে, সবুজে মাঠ ভরিয়ে ফেলবে। তাকে যেন বিপণনপ্রক্রিয়া নিয়ে আর ভাবতে না হয়। কৃষক যেন তার পণ্যের যথার্থ মর্যাদা পায় রাষ্ট্রকে সে নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।

সরকারি উদ্যোগে ১০টি বেসরকারি উদ্যোগসহ মোট ১০০টি অর্থনৈতিক বিশেষ অঞ্চল হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে সড়ক অবকাঠামো জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মিলিয়ে সেভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে না। যোগাযোগ অবকাঠামো যথার্থভাবে গড়ে তোলা হলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের চাকা পূর্ণ গতি পাবে। আমাদের কাজের খোঁজে বেরিয়ে সাগরে ডুবে মরতে হবে না। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হব। নীতিনির্ধারক, সরকার ও রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে দেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে।

মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।

 

কোথায় যেন অপূর্ণতা থেকেই গেল। স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে যে ত্যাগ স্বীকার করা হয়েছে, তা যেন আমরা ভুলে গেছি। আজও আমাদের স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিতর্ক শুনতে হয়। এই বিতর্ক আমাদের দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিএনপি-জামায়াতের এত অনীহা কেন? কারণ তারা পাকিস্তানপ্রীতি আদৌ ছাড়তে পারেনি। তারা যদি বাংলাদেশকে প্রকৃত ভালোবাসত, তাহলে বর্তমানে দেশের যে উন্নয়নের ধারা তা কখনোই বাধাগ্রস্ত হতো না। দেশ আরো এগিয়ে যেত। এ ছাড়া দেশে যে বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড ঘটছে, তা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। এত কিছুর পরও দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতৃত্বের কারণে। আমি চাই স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর এসব নেতিবাচক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।

মোহাম্মদ শেখ সাদী

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম।

 

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আরো সফলতা সবার কাম্য ছিল। দেশ কৃষি খাতে আধুনিক কৃষিনির্ভর হয়ে ওঠেনি। এই কৃষি খাতের উন্নতিও সবার লক্ষ্য ছিল। দেশে এখনো একদল শিক্ষিত যুবক বেকার রয়েছে। তাদের কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ দেশ ছিল সবার একান্ত আশা। এ দেশের যোগাযোগ খাতের উন্নতি হলেও তা আশানুরূপ নয়। ৪৬ বছরে যতটুকু উন্নত যোগাযোগ মাধ্যম প্রয়োজন ছিল ততটুকু হয়নি। তাই যোগাযোগ খাতের আরো উন্নতি কামনা করছি। এ দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারেনি। আশা করি, আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যাব।

ইয়াকুব আল মাহমুদ

সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী।

 

প্রান্তিক স্তর থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে মানুষ যেন তার মৌলিক চাহিদাসহ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সমুন্নত করে বৈষম্যহীন সমাজে বসবাস করতে পারে সেই রকম বাংলাদেশ চাই। আমরা একটি যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিমুক্ত, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে বুকে সাহস নিয়ে কথা বলার মতো গণমানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যে দেশে শুধু কিছু মানুষ রাতারাতি ধনী হবে না। বাংলার প্রান্তিক কৃষক থেকে মেহনতি শ্রমিক, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, শিক্ষা ও চিকিসার সুযোগ এবং মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য একটি গৃহ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বর্তমান প্রজন্মকে গড়ে তোলা, শিশুদের বেঁচে থাকার অধিকার, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও যুদ্ধাপরাধী মুক্ত একটি সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ দেখতে চাই। যে দেশ হবে বিশ্বের কাছে মডেল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইকনিক লিডারশিপে আমাদের চাওয়ার বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।

মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির

দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, চট্টগ্রাম।

 

রাজাকারমুক্ত দেশ চাওয়া ছিল আমাদের। আজও আশা পূরণ হয়নি। আশা করি, অচিরেই দেশ রাজাকারমুক্ত হবে। দেশের মানুষ পাবে পূর্ণ নিরাপত্তা।

শিবুপ্রসাদ মজুমদার

 লেকসার্কাস, কলাবাগান, ঢাকা।

 

দেশের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। সংস্কৃতির কথাই যদি বলি, সিনেমা হল ভেঙে বিপণিবিতান করা হচ্ছে। শিল্প-সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি সব ক্ষেত্রেই নিয়মনীতি প্রতিষ্ঠা হোক।

 মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, বাসাবো, ঢাকা।

 

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা পাইনি। মানুষের নিরাপত্তা নেই। সর্বশেষ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জোহা নিখোঁজ হলেন, তিনি কাজ করছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হ্যাকড হওয়ার ঘটনায়। আশার কথা, প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করছেন দেশের উন্নয়নে। কিন্তু দেশে মাত্র দুই কোটি মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছে, বাকি ১৪ কোটি বঞ্চিত। এই বৈষম্য কি হ্রাস হবে? ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিদের পরে দেশ এখন এক শ্রেণির ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। হাইব্রিড রাজনীতিবিদরাও স্বাধীনতার সুফল লুট করছে। এগুলো থেকে বের হতে না পারলে সোনার দেশ গড়া সম্ভব হবে না।

 মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন

মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ, চট্টগ্রাম।

 

ঁ স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত ফল আজও আমরা পাইনি। আমি চাই, বাংলাদেশ রাজাকারমুক্ত, জঙ্গিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠুক। দেশবাসীকে এ জন্য আরো দুই যুগ আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত করতে হবে।

জুয়েল বৈদ্য

কুসুমবাগ, মৌলভীবাজার।

 

বঙ্গবন্ধু যে আশা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন তাঁর সেই স্বপ্নের সোনার বাংলা দেখতে চাই।

সাকিব আল হাসান

রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

 

স্বাধীনতার ৪৬ বছরে আমাদের দেশ হাঁটি হাঁটি পায়ে বহুদূর এগিয়ে এসেছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো বড় কাজ আমরা এখন হাতে নিতে পারছি। অপ্রাপ্তির তালিকাও কম দীর্ঘ নয়। প্রবাসী শ্রমিকদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্সের টাকা যখন হ্যাকড হয়ে যায় কষ্ট পাই। এখনো কোটা নামের ব্যবস্থার বৈষম্যের ফাঁদে হারিয়ে যায় লাখো তরুণের স্বপ্ন। আমরা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশ দেখতে চাই, যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে আর কাউকে বেকার বসে থাকতে হবে না। কোটা প্রথা বা ঘুষের দানব তাদের স্বপ্ন কেড়ে নেবে না।

মো. আব্দুস শাক্কুর আলম

জিনজিরা, ঢাকা।

 

দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় তো আমাদের সম্পদ বলতে কিছুই তেমন ছিল না। আগেই সব লুট হয়ে গিয়েছিল। এর পরও যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল তার পরিপূর্ণতা আমরা পাইনি। স্বাধীনতার অল্প সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়া, জাপান কোথায় পৌঁছে গেল, আর আমরা কোথায় রয়ে গেলাম তুলনা করলেই এই অপ্রাপ্তিটা পরিষ্কার হয়। আমরা এখনো আদর্শ নেতা পাইনি। এখনো বহু মানুষ তিন বেলা খাবার পায় না। বেশি কিছু চাই না। দুর্নীতিমুক্ত ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ চাই।

আনোয়ারুল ইসলাম শাহিন

 কোটবাজার, উখিয়া, কক্সবাজার।

 

সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, হত্যামুক্ত ও ধর্ষণমুক্ত বাংলাদেশ আমি দেখতে চাই। দেশ হোক উন্নত ও সমৃদ্ধ।

 মো. ইকবাল হোসেন

নবাং, বিয়ানীবাজার, সিলেট।

 

শিশু নির্যাতন যে হারে বাড়ছে তা দুঃখজনক। সরকার প্রতিরোধের চেষ্টা করেও সফল হচ্ছে না। জনগণকেও তাই এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দুর্নীতির রাশও টেনে ধরতে হবে। সমাজে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চাই, যেখানে বৈষম্য হ্রাস পাবে। স্বাধীনতা পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়। সরকার ও জনগণকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। পদক্ষেপ নিতে হবে।

 সৈয়দ আশিক রহমান

মিজমিজি, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।

 

স্বাধীনতার পর এত বছর কেটে গেলেও অস্থিরতা কাটছে না। আজ বেশি কিছু না, দেশে শুধু শান্তি চাই।

মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন

নুহা সিএনজি, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।

 

 

সংখ্যালঘুর ওপর সব ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ হোক। সন্ত্রাস নির্মূল হোক।

 মোহন লাল দাস

কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।

 

স্বাধীনতার ৪৬ পরও কোটি মানুষ বেকার। আমরা চাই বেকারমুক্ত একটি সমাজ। চাই সন্ত্রাসমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ।

শ্রাবণী খাতুন

গ্রামপাঙ্গাসি, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

 

৪৬ বছর আগে আমরা স্বাধীন হয়েছি। দেশ এখন বয়ঃপ্রাপ্ত বলাই যায়। ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। আত্মমুক্তি ও আত্মপ্রত্যয়ের প্রতীক এই দিবস। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছর দিনটি জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃত ছিল না। এই ঐতিহাসিক দিবসকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সরকার ১৯৮০ সালের ২৬ মার্চ দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তবে জনজীবনকে গ্রাস করে আছে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও লুটেরা নব্য ধনিক শ্রেণির বেপরোয়া লুণ্ঠন। পাকিস্তান আমলে ছিল সাম্প্রদায়িকতা, এখন আছে হিংস্র ভয়াল মৌলবাদ, আছে নৈরাজ্য, সন্ত্রাস, সহিংসতা। আমরা জঙ্গিবাদমুক্ত ও উন্নত দেশ চাই।

রুপেন সরকার আশীষ

শান্তিনিকেতন, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।


মন্তব্য