কর্তৃপক্ষের আচরণ সংশয়ের জন্ম দিয়েছে-334959 | মতামত | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


কর্তৃপক্ষের আচরণ সংশয়ের জন্ম দিয়েছে

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অনেক রকম ব্যবস্থাই নিতে পারে। তবে সেটি নির্ভর করে ইসি কতটুকু নিরপেক্ষ ও নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে পারছে তার ওপর। ইসিকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সব পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। সরকারি প্রভাব থাকলে ইসির কার্যক্রমই শুধু বাধাগ্রস্ত হবে না, ব্যাহত হবে নির্বাচনও।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সংশোধিত বিধিমালা ও আচরণবিধির কপি এখন ইসির হাতে থাকলেও বিষয়টি জনমনে স্বস্তি দিতে পারেনি এই বিধিমালায় বেশ কিছু সংশোধনীর কারণে। ইউপি নির্বাচনে বিধি লঙ্ঘনের কারণে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। আর তার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করলে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করার বিষয়ে প্রস্তাবটি সংশোধন করে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এর কারণে সাধারণ জনমনেও কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার ফাঁকে বেশ কয়েক দফায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত পরিচালনা বিধিমালায় রাজনৈতিক দলের অপরাধে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় ভেটিংয়ে তা কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এর পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ধারা ২০(২)-এ অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদানের বিধান রয়েছে। এ বিধানের সঙ্গে মিল রাখতে খসড়ায় সংশোধন করা হয়েছে। পরিচালনা বিধিমালায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো যেসব ইউপিতে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে, সেখানে প্রার্থীও নির্বাচনী কার্যক্রমে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করতে পারবেন। কোনো রাজনৈতিক দল সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার বেশি অনুদান নিতে পারবে না এবং তা চেকের মাধ্যমে নিতে হবে।

এসব বিধি লঙ্ঘন করলে অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে বিধিমালায়। উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে চার হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ বিবেচনায় ভোটের জন্য উপযুক্ত ইউনিয়ন বাছাই করে ধাপে ধাপে ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ২৯(৩) ধারা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান রাখা হয়েছে। এদিকে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুনের মধ্যে সব ইউপির নির্বাচন শেষ করা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে তাই ইসিকে অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে কাজ

করতে দিতে হবে। অন্যথায় সুষ্ঠু নির্বাচন করা কখনোই সম্ভব হবে না।

সোলায়মান শিপন

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।

মন্তব্য