আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি-334958 | মতামত | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করুন

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অনেক অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অনেক স্থানেই সরকার সমর্থিত দলের প্রার্থীরা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। হয়রানির শিকার হচ্ছেন বিরোধী দলের প্রার্থীরা। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই এসব অনিয়মের ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা দলের চাপে তাদের প্রভাবিত হওয়া চলবে না। গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির স্বার্থে সরকারকেও থাকতে হবে নিরপেক্ষ। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা ফোনে ও ই-মেইলে এমন অভিমতই ব্যক্ত করেছেন

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করুন

দেশ ও জনসেবার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অনেক প্রার্থী অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। গাছে গাছে পেরেক ঢুকিয়ে পোস্টার ও ব্যানার প্রদর্শন করছেন। অসহায় বন্য ও গৃহপালিত জীব ও পশুপাখি নির্বাচনী প্রতীক ও প্রচারের পণ্য বানিয়ে তাদের অধিকার হরণ করে অনেকে পরিবেশবিরোধী কাজও করছেন। দ্রুত নির্বাচন কমিশনকে বিধি মোতাবেক নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে তাঁদের প্রার্থিতা বাতিল করারও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

মো. আবদুর রাজ্জাক নাছিম

চান্দাইকোনা, শেরপুর, বগুড়া।

 

যেকোনো নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এর যথাযথ প্রয়োগ দেখতে চাই। এটা করা না গেলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। জনগণ নির্বাচনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

আজহারুল ইসলাম সরকার

শিক্ষা ঐক্য, নরসিংদী।

 

যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দলই দলীয়ভাবে নির্বাচনে সুবিধা নিতে চায়। এটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনসাধারণ বা মিডিয়ার কাছে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ বলে বুলি আওড়ালেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অনেক অভিযোগ উঠলেও এখনো কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা আশা করি, নির্বাচন কমিশন এবার একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন করবে। জনসাধারণ তাদের ওপর আস্থা রাখতে চায়। তাই নির্বাচনের আগেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

রুবেল রানা

ঢাকা।

 

দেশের উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র আবশ্যক। গণতন্ত্রের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন জরুরি। মাগুরার সেই নির্বাচন কিংবা ফেব্রুয়ারির সেই বাতিল হওয়া ভোট—এজাতীয় নির্বাচন জনগণ আর আশা করে না। নির্বাচনী এলাকার সব নির্বাহী ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন করা নির্বাচন কমিশনের পবিত্র দায়িত্ব। সাধারণ জনগণ কিন্তু আইন ভঙ্গ করে না। আইন ভঙ্গ করে প্রভাবশালীরা। কালো টাকা ও পেশিশক্তির কাছে যোগ্য ব্যক্তির পরাজয় মানে আমাদের জাতির পরাজয়। এমন পরাজয় আমরা বরণ করতে চাই না।

নজরুল ইসলাম খান

নতুন জুরাইন, ঢাকা।

 

নির্বাচন কমিশনের সর্বপ্রথম দায়িত্ব হচ্ছে প্রার্থী ও ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত করা। পুলিশ বাহিনী শুধু কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকলে হবে না, পুরো নির্বাচনী এলাকা থাকতে হবে তাদের আয়ত্তে। ভোটাররা যেন কেন্দ্রে আসতে বাধাগ্রস্ত না হয়। কেন্দ্রের বুথে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের দিতে হবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং রাখতে হবে কঠোর নজরদারিতে। কারণ নির্বাচনী ফলাফল অনেকটা তাঁদের ওপরই নির্ভর করে।

তৌহিদুল ইসলাম রবিন

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত বিধিনিষেধ আছে। আইন অনুযায়ী গেজেট প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার আগে কোনো ধরনের পোস্টার, প্রচারবিলি, বিজ্ঞাপনসহ প্রচারণা করা যাবে না। যাবে না কোনো ধরনের ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেন কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহন সহকারে মিছিল বা মশাল মিছিল কিংবা শোভাযাত্রা করা। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, অনেক প্রার্থী নিজ দলের প্রভাব খাটিয়ে জেনেশুনে এসব আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। কক্সবাজারের একাধিক উপজেলায় এই নির্বাচনকে সামনে রেখে চরম বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করছেন স্থানীয় প্রার্থীরা। কিন্তু দেখা গেল তাঁদের নামমাত্র ফোন করে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনকে আরো কঠোর হতে হবে।

মোহাম্মদ শেখ সাদী

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, চট্টগ্রাম।

 

আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ হতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে বেপরোয়াভাবে—এমন অভিযোগ তো আমার এলাকায় শুনছি না। এই সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন কয়েকটি নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। সরকার সক্ষম নেতৃত্ব বের করার চেষ্টা করছে।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল।

 

নির্বাচন কমিশন কঠোর হচ্ছে না। সরকারি দল প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছে যথারীতি। নির্বাচন তো প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ইসিকে অবশ্যই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। পিরোজপুরে একজন খুন হলেন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সরকার নির্বাচনী পরিবেশ সংঘাতমুক্ত করতে পারছে না কেন? এমন চলতে থাকলে সরকারেরই ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।

শাহিন মোল্লা

বনগ্রাম বাজার, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ।

 

এই নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন সারা দেশেই যেন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যে দেশে বিনা ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, সে দেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনই আসলে অর্থহীন। এ ছাড়া এই নির্বাচনও হচ্ছে দলীয় প্রতীকে। দেশ ও জাতির স্বার্থে ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রেখে আগের নিয়মে করুন।

আনোয়ারুল ইসলাম শাহিন

কোটবাজার, উখিয়া, কক্সবাজার।

 

নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে—এ ভরসা তাদের ওপর রাখতে চাই। প্রয়োজনে বিজিবি মোতায়েন করে হলেও নির্বাচন সংঘাতমুক্ত রাখতে হবে।

শিবুপ্রসাদ মজুমদার

লেকসার্কাস, কলাবাগান।

 

নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোহাম্মদ আলী

 

যেকোনো নির্বাচনে নিয়মশৃঙ্খলা মানতে হয়। এই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে, তবে কারো প্রতি কোনো রকম অন্যায়-অবিচার যেন না হয়। সব দলের সমান অধিকার থাকতে হবে। মানুষ যাতে নিরাপদে ঠিকভাবে ভোট দিতে পারে। যে যার পছন্দের পাত্রকে ভোট দেবে, এখানে কেউ যেন বাধা সৃষ্টি না করে সেদিকে কমিশনকে লক্ষ রাখতে হবে। গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই হলো সবার সমান অধিকার, জনগণের স্বাধীনতা। মানুষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাদের নেতা নির্বাচিত করবে। এখানে কারো হাত থাকতে পারে না।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আরজতপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

 

নির্বাচন কমিশন মিডিয়ার সামনে বা সভা-সমাবেশে বলছে, তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। কিন্তু সত্যিটা হচ্ছে, তাদের সব সময় সরকারের নির্দেশমতো কাজ করতে হবে এবং তারা তা-ই করবে। এ দেশের বর্তমান ক্ষমতার ব্যবহারগুলো তা-ই বলে। সিটি করপোরেশন ও পৌর নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের খবরাখবর যতটুকু জনগণ মিডিয়ায় দেখেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সেটুকুও দেখার সম্ভাবনা কম। কারণ ক্ষমতা মিডিয়াগুলোকে কোণঠাসা করে রেখেছে। নির্বাচন কমিশনের নিজের শক্তি নেই। লোকদেখানো শক্তি দিয়ে কমিশন অনিয়ম ঠেকাতে পারবে না। কারণ দেশের আইনগুলো শোকেসে সাজানো শোপিস।

রহিমা আক্তার মৌ

চাটখিল, নোয়াখালী।  

 

স্বাধীনতার প্রায় ৪৫ বছর পরও নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হয়নি। তারা সরকারের এতই আজ্ঞাবহ যে তা প্রায়ই সরকারি দলের নাচের পুতুলের মতোই আচরণ করে আসছে। যখন যিনি ক্ষমতায় থাকেন তাঁর ইচ্ছানুয়ায়ী ‘হ্যাঁ’, ‘না’ বাস্তবায়নই যেন নির্বাচন কমিশন নামক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের হাতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল থেকে শুরু করে অনেক কিছুই করার ক্ষমতা দেওয়া আছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব, পেশিশক্তি, কালো টাকার দাপট উপেক্ষা করে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর ক্ষমতা বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের আছে কি? একটি অপ্রিয় বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমানে দেশে একটি জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটানোর মতো কোনো শক্তিশালী বিরোধী দল নেই বললেই চলে। ফলে গণতান্ত্রিক সমাজ বিকাশ অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকার গণতান্ত্রিকও যদি হয়, তাকে আরো গণতান্ত্রিক করে তোলার জন্য অবশ্যই সুসংগঠিত বিরোধী দল আবশ্যক।

কাজী ফরিদ উদ্দিন আখতার

প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম।

 

প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা, আচার-আচরণ, গতিবিধি, চালচলন—সব কিছুর ওপর তীক্ষ দৃষ্টি রাখা; বিধি লঙ্ঘন করলে তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। আচরণবিধি যাতে কেউ লঙ্ঘন না করে সে ব্যাপারে জোর প্রচারণাও চালানো উচিত। প্রার্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখলেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের হার কমে আসতে পারে।

হরেন্দ্র কুমার নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের প্রার্থিতা বাতিল করা যেতে পারে বা নির্বাচন স্থগিত করা যায়। এর আগে যেসব নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয় এটাই নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রত্যাশা।

মো. বজলুর রহমান

 সেকারা, বহরপুর, রাজবাড়ী।

 

থানা ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা যাতে ঠিকভাবে পালিত হয় সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন তা দেখে না। আমার এলাকায় ব্যাপকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। কিন্তু ব্যবস্থা তো নেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত তারা আগামী ২২ তারিখ নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে কি না এ নিয়ে।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রায় সব প্রার্থীই করেন। কিন্তু কারোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বিশেষ করে সরকারি দলের প্রার্থীরা এই প্রশ্রয় বেশি পেয়ে থাকেন। এই ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ হোক।

 মো. জামরুল ইসলাম

নুহা সিএনজি, কমলপুর, ভৈরব।

 

দস্যু, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজরা জনপ্রতিনিধি হয়ে আসছেন। অপরাধীদের জনপ্রতিনিধি হওয়ার সব পথ বন্ধ করুন।

 মো. শাহাবুদ্দীন

মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ, চট্টগ্রাম।

 

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন হচ্ছে। এখন থেকেই কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। এই সরকারের অধীন সিটি ও পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আশা করি, ইউপি নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও আমরা দেখতে চাই না। এর ফল ভালো হয় না। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের দাপট দূরের কথা, প্রভাবও দেখতে চাই না। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় তোরণ, পোস্টার পরিবেশও নষ্ট করছে। প্রত্যেক মানুষের শ্রেষ্ঠ আদালত বিবেক। প্রার্থী ও ভোটার সবাইকে এই বিবেকটি ঠিক রাখতে হবে এবং সে অনুযায়ী চলতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অনেক সময় সরকারি দলের প্রার্থীদের প্রতি দুর্বল থাকে। তাদের থেকে নিরপেক্ষ আচরণ আশা করছি। নির্বাচনে ভোট দেওয়া মানুষের মত প্রকাশের অধিকার বাস্তবায়নেরই মাধ্যম। এই অধিকার ক্ষুণ্ন যেন না হয়।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

গণতন্ত্রকে সুসংগঠিত করার জন্যই সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার। আর সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। মানুষ আশা করছে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ইসিও নিরপেক্ষ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও যথাযথ হওয়া চাই। তারা কারো পক্ষ নিতে পারবে না। কোথাও অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা তাদের নিতে হবে। কোনো দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যাতে বাড়তি সুবিধা না পায় তা ইসি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিশ্চিত করতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবির

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

এই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে ভোটের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আন্তরিক ভূমিকা আমরা প্রত্যাশা করছি। ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা হলে ফলাফল বাতিল করতে হবে।

ইলিয়াস সুমন

সন্দ্বীপ অনলাইন প্রেসক্লাব, চট্টগ্রাম।

 

নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। সরকারের কাছ থেকেও ইতিবাচক সহযোগিতা লাগবে এ ক্ষেত্রে।

 মো. মোকাদ্দেস হোসাইন

গ্রামপাঙ্গাসি, সিরাজগঞ্জ।

 

নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে বিরোধী দলের প্রার্থীরা সমান সুযোগ পাচ্ছেন। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি দল সবাইকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

 মো. আবদুস শাক্কুর আলম

জিনজিরা, ঢাকা।

 

সরকারি দল, বিরোধী দল, স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী—যে পক্ষের প্রার্থীই আচরণবিধি লঙ্ঘন করুক তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।

আসাদউল্লাহ মুক্তা

মহেশপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই শোনা যাচ্ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যাঁরা এগিয়ে আছেন তাঁরা সরকারি দলেরই বেশি—এমনটাই শোনা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়দায়িত্ব অনেক বড় ও কঠিন। নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারলে এবং দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই বিষয়টি কমবেশি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। আমরা মনে করি, বিরোধী রাজনীতি যাঁরা করেন তাঁরাও যে ধোয়া তুলসীপাতা তা নয়। যে প্রার্থী যেখানে প্রভাবশালী, সেখানেই তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রভাবমুক্ত থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারলে প্রার্থীরাও আচরণবিধি পালনে বাধ্য হবেন। নির্বাচনে জয়-পরাজয় জনগণের ভোটের মাধ্যমে হবে—এটাই মানুষের একমাত্র কামনা। জনগণ কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়া তাদের ভোটাধিকার যোগ্য এবং সৎ প্রার্থীর পক্ষে প্রয়োগ করবে—এটাই দেশবাসী দেখতে চায়। স্থানীয় নির্বাচনে এলাকার পাতি নেতারা বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করেন। এটা যাতে না হতে পারে সে জন্য সরকারকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। দলীয় প্রতীকে এবারই প্রথম ইউপি নির্বাচন হচ্ছে। সুতরাং এর ভবিষ্যৎ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই দীর্ঘজীবী হতে পারে।

ওয়াহিদ মুরাদ

নেসারাবাদ, পিরোজপুর। 

 

ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১০০ জনের ওপরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা যায়। এবার নির্বাচনে অনেকের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও যথাযথ ব্যবস্থা নেবে—এটাই কাম্য। বর্তমান সরকার জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে এনেছে। সুতরাং একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাও সরকারের দায়িত্ব। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। তাই নির্বাচন কমিশনকে আরো দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার জন্য সব রকমের ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ আচরণ না করে, তাহলে নির্বাচনে ভালো মানুষের মূল্যায়ন হয় না। কমিশনকে সব সময় জনগণের কথা ভেবে নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঠিক করতে হবে। নির্বাচনে শুধু পুলিশ দিয়ে কাজ হবে না। র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা, প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে হলেও নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হবে। সবাই যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে কমিশনকে।

নিকেশ বৈদ্য

জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

 

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সততা, নিরপেক্ষতা ও নীতির প্রশ্নে কঠোর অবস্থান আচরণবিধি লঙ্ঘন ও দুর্নীতিরোধে সহায়ক। ঢিলেঢালা, নৈতিকতাবিহীন এবং দায়িত্ববোধে অসচেতন ব্যক্তির দ্বারা কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে পালনের আশা করা যায় না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় অবস্থান গ্রহণই হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধের অন্যতম উপায়।

রাজকুমার সিংহ

শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

 

নির্বাচন কমিশন স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা বাড়াতে হবে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিধি লঙ্ঘনকারীদের দ্রুত শাস্তি দিতে হবে। যেখানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করতে হবে। নিজ নিজ দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো রকম পক্ষপাত না করে নির্বাচন কমিশনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য সচেষ্ট হতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

মন্তব্য