kalerkantho


মাজার ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার হয়েছে ওলি-আউলিয়া, দরবেশ-বুজুর্গদের মাধ্যমে। মধ্যযুগে আমাদের দেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ব্যাপকভাবে হয়েছে। ইসলাম নিয়ে এসেছিল সাম্য, মৈত্রী, শান্তি ও বৈষম্য দূরীকরণের অমিয় বাণী। ফলে মানুষ ইসলামের ছায়াতলে নিজেকে সমর্পণ করে। ইসলাম প্রচারক দরবেশরা ছিলেন মুগ্ধকর ক্ষমতার অধিকারী। তাঁদের কথাবার্তা, চালচলন এবং জীবনযাপনে মুগ্ধ হয়ে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তাঁরা শুধু ধর্মপ্রচারক ছিলেন না, সমাজসংস্কারকও ছিলেন। কুসংস্কার, মূর্খতা, অধর্ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। মৃত্যুর পর তাঁদের কবরকে মাজারে পরিণত করা হয়। মাজারকেন্দ্রিক নানা কুসংস্কার গড়ে ওঠে। সৃষ্টি হয়েছে মাজারকেন্দ্রিক একদল স্বার্থান্বেষীর। কোথাও কোথাও ভুয়া মাজার তৈরি করে চলছে রমরমা ব্যবসা। মাজারকে পুঁজি করে একটি শ্রেণি কালো টাকায় লাল হচ্ছে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর ‘লালসালু’ ও আহমদ ছফা তাঁর ‘একজন আলী কেনানের উত্থান পতন’ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন মাজারের সত্যিকারের চিত্র। আমাদের মাজারগুলো যেন তাঁদের লেখা উপন্যাসগুলোর বাস্তব প্রতিচ্ছবি। এসব মাজার ও তত্সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক আছে কি? এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

মো. মাহবুবুর রহমান সাজিদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 



মন্তব্য