kalerkantho

নদী দূষণ ও দখল

৩০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নদী দূষণ ও দখল

দখল আর দূষণের কবলে পড়ে তুরাগ নদ মৃতপ্রায়। আশপাশের কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্য, পাম্প হাউসের দূষিত পানি ও ডায়িং কারখানার দূষিত তরল বর্জ্যে তুরাগের অবস্থা কাহিল। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং না করায় তুরাগ পরিণত হয়েছে সরু খালে। নদটি ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তুরাগের বুকজুড়ে এখন দখল আর দূষণের অত্যাচার। এতে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক, পলিথিন, বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিনই ফেলা হচ্ছে। দূষিত আর দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে মাছ তো দূরে থাক, কোনো পোকাও টিকতে পারছে না। নদের আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে দূষণের প্রভাব। টঙ্গী-গাজীপুর এলাকায় তুরাগের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শিল্প-কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদে এসে পড়ছে। এ ছাড়া মিরপুর-উত্তরার বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনার একাংশ নদে এসে পড়ছে। নদের দুই তীরে সীমানা পিলার বসানো সত্ত্বেও তীর ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা। একসময় তুরাগ নদের সৌন্দর্য দেখতে বিকেলে দর্শনার্থীদের আনাগোনা দেখা যেত; কিন্তু এখন চারপাশে শুধুই দুর্গন্ধ। তুরাগের বুকে এখন কালো কুচকুচে পানি। নদ পারাপারের সময় নাকে রুমাল চেপে ধরতে হয়। নদের এক পাশে ওয়াকওয়ের পথ তৈরি হলেও দূষণের দুর্গন্ধে অনেকে সেখানে যায় না। ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, সেচব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা রোধ, পানির চাহিদা পূরণ, নদকেন্দ্রিক মানুষের জীবন-জীবিকাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ নদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। কিন্তু দূষণ ও দখলের কবলে পড়ে ধীরে ধীরে তুরাগ মরা নদে পরিণত হচ্ছে। তাই এখনই পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন।

সাধন সরকার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 



মন্তব্য