kalerkantho


সড়কে মৃত্যুর দায় কে নেবে

২৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। বেশির ভাগ দুর্ঘটনার কারণ ছিল বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে নিষিদ্ধ পরিবহনের দৌরাত্ম্য। ঈদের ছুটিতে বাসে থাকে উপচেপড়া যাত্রীর ভিড়। জীবনের তোয়াক্কা না করে যাত্রীরা ঠাঁই নেয় যানবাহনের ছাদে। বাসে জায়গা না পেয়ে ট্রাকে চড়ে মানুষ ঢাকা থেকে বিভিন্ন শহরে গমন করে। যাত্রীর অনুপাতে যানবাহনের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় গতিসীমার বাইরে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে বেশি ট্রিপ দেওয়ার অশুভ প্রতিযোগিতা লেগে যায়। সড়ক, মহাসড়কের ওপর পড়ে যানবাহনের বাড়তি চাপ। আর তাতে দুর্ঘটনার হারও অনেকাংশে বেড়ে যায়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য মতে, গত তিন বছরের ঈদুল ফিতরে ৬০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮০৩ জন। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর এমনিতেই সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যায়। শিক্ষার্থীরা যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানবাহন চলাচলের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছিল, সেই সপ্তাহখানেক ভালোই ছিল সড়কের শৃঙ্খলা। তারপর আন্দোলনটি ভিন্ন রূপ নিল। সর্বগ্রহণযোগ্য আন্দোলনের মধ্যে রাজনৈতিক কূটকৌশল জড়িয়ে পুরো উদ্যোগটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হলো। দেশের সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে হলে সব বাস কম্পানিকে নির্দিষ্ট কয়েকটি সংস্থার আওতায় আনা দরকার। কম্পানির বাসের সংখ্যা, আকার ও মানের ওপর নির্ভর করে তাদের রুট পারমিট নির্দিষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন। বাসচালকদের প্রশিক্ষণ লাভের পর দক্ষতা অর্জনের ওপর ভিত্তি করে বিআরটিএ কর্তৃক প্রথমে ‘লার্নার’, নির্দিষ্ট সময় পরে ‘প্রোবেশনাল’ এবং সর্বশেষে ‘চূড়ান্ত’ লাইসেন্স  দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর পর বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট দিতে বিআরটিএকে শতভাগ সততা বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। সড়ক নির্মাণে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে প্রকৌশলীদের সজাগ থাকা মানবিক দায়িত্ব। ট্রাফিক আইন, সিগন্যাল অমান্যকারী চালক, পথচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। যাত্রী, পথচারীদের মধ্যেও সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমবে।

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

পশ্চিম মালিবাগ, ঢাকা।



মন্তব্য