kalerkantho


ডাক বিভাগে মূল্যবৃদ্ধি

২৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তাদের বিভিন্ন সেবার মাসুল বৃদ্ধি করেছে। স্বল্প সময়ে বিদেশে পণ্য পাঠানোর এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিসের (ইএমএস) মাসুল ৮০ শতাংশ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি চিঠিপত্রের ডাকটিকিটের মূল্য যে হারে বৃদ্ধি করেছে তাতে জনগণ ডাকঘরবিমুখ হয়ে পড়ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সেবা পেতে এখন ডাকঘরের পরিবর্তে প্রাইভেট কুরিয়ার সার্ভিসের দ্বারস্থ হচ্ছে মানুষ। শুধু ডাকটিকিট নয়, খাম, পোস্ট-কার্ড, একপ্রেস মেইল, পার্সেল ইত্যাদির মূল্যও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাঁচ টাকার কম দামের সব মাসুল তুলে দেওয়া হয়েছে। দেশের ডাকঘরগুলোতে ডাক সেবা পেতে গ্রাহকরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। অতিরিক্ত মাসুল বৃদ্ধির পরপর এরই মধ্যে ডাকঘরের সেবার প্রতি জনগণের দূরত্ব বেড়ে গেছে। গত ৩ জুন নতুন মাসুল কার্যকর করার পর থেকে ডাকঘরের রাজস্ব এখন ৬০ শতাংশ কমেছে। আগে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ গ্রাম পণ্য পাঠাতে খরচ লাগত ৬০০ টাকা আর এখন নতুন হারে লাগে দুই হাজার ৫০০ টাকা। আগে যেখানে নিউজিল্যান্ডে ২০ গ্রাম পণ্য পাঠাতে ৮০০ টাকা লাগত, এখন লাগে তিন হাজার ২০০ টাকা। এটা প্রায় ডিএইচএলের সমান। অথচ ডাকঘরের সেবার মান তাদের চেয়ে অনেক নিম্ন পর্যায়ের। ডাকমাসুল বাড়ানোর প্রভাবে তাদের গ্রাহক কমে গেছে। ইএমএসের পণ্য পাঠানোর লাইনটি এখন ফাঁকা। খরচ কয়েক গুণ বাড়ালেও নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছাতে পারে না ডাক বিভাগ। বেশির ভাগ ডাকঘরে ডাক বাঁধার জন্য দড়ি, বাতি, গালা, আঠা পর্যন্ত নেই। জরাজীর্ণ অনেক ডাকঘর ভবনের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে দরকারি কাগজপত্র ভিজে অহরহ নষ্ট হয়। গ্রামাঞ্চলের প্রায় ডাকঘরেই একজন পোস্ট-মাস্টার, একজন পিয়ন ও একজন রানারের পদ থাকলেও অনেক পোস্ট-মাস্টারকে একাই প্রায় সব দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া করা ঘর পর্যন্ত নেই এবং আসবাবও নেই। ডাকঘরের কাজকর্ম চলে লোকজনের বৈঠকখানা কিংবা ঘরের বারান্দায়। মানুষ ডাক বিভাগের ওপর আস্থা হারিয়ে বিকল্প সেবার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। বিষয়টি ডাক মন্ত্রণালয় বিবেচনা করবে বলে আশা করি।

মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

 



মন্তব্য