kalerkantho


নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের কান্না

২৭ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



২০০৫ সালের আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতার মাপকাঠি বিচার করা হতো না। বিএ পাস থাকলেই নিয়োগ দেওয়া হতো। ফলে উপযুক্ত শিক্ষক পাওয়া যেত কম। উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠন করা হয় এনটিআরসিএ। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সাল থেকে ১৩টি পরীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্তদের সনদ প্রদান করে। কিন্তু এ পর্যন্ত নিয়োগ হয়েছে হাতে গোনা কয়েক হাজার। প্রায় ছয় লাখ নিবন্ধনধারী শিক্ষক নিয়োগের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়, শিক্ষক নিয়োগের সরাসরি সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ, প্রতিষ্ঠান ম্যানেজিং কমিটির হাতে কোনো ক্ষমতা থাকবে না। ঘোষণাটি সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। শূন্যপদ খালি সাপেক্ষে নিয়োগ পেয়েছিলেন মাত্র ছয় হাজার নিবন্ধনধারী শিক্ষক। বাকি পদগুলো এখনো পূরণ করা হয়নি। শূন্যপদের ভিত্তিতে বিসিএসের আদলে ত্রয়োদশ নিবন্ধনধারীদের পরীক্ষা নিয়েও চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ভাইভা পাসের পর নিয়োগ হয় না, এমন ঘটনা পৃথিবীতে বিরল। বর্তমানে দেশে প্রায় ষাট হাজারের মতো শূন্যপদ রয়েছে। লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএ কেন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করছে না, তা আমরা জানি না। কিছুদিন আগে এনটিআরসিএ নিবন্ধন সনদপ্রাপ্তদের একটি জাতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করে। কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কোনো খবর নেই। অনেকে ভেবেছিল, ঈদুল আজহার আগেই গণবিজ্ঞপ্তি আসবে; কিন্তু তা আর হলো না। তবু নিবন্ধন সনদধারীদের আশা, হয়তো ঈদের পরই গণবিজ্ঞপ্তি আসবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মুন্নাফ হোসেন

ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ।



মন্তব্য