kalerkantho


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করুন

২৭ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



স্বাধীন ও দায়বদ্ধ মূলধারার গণমাধ্যমের পাশাপাশি স্বাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যম যেকোনো ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচারের আগেই দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারছে। এই মাধ্যমে মানুষ খুব সহজেই নিজেদের চিন্তাভাবনা ও মতামত প্রকাশ করতে পারছে। এখানে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত—সবাই মতামত প্রকাশ করতে পারছে। কিন্তু এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিক রয়েছে। যেহেতু এ মাধ্যমের কোনো জবাবদিহি বা দায়বদ্ধতা নেই, তাই সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত অনেক তথ্যই অসত্য, ভুল, বানোয়াট, এমনকি গুজবও থাকে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা জনমনে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করে থাকে, যা অনেক সময়ই দেশ ও জাতির জন্য ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনে। অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক মাধ্যমের চরম অপব্যবহার হচ্ছে। কোনো রকম বিধি-নিষেধ না থাকায় অনেকের ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়েও কুৎসা, মিথ্যা ও অশ্লীল প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি বিব্রত হচ্ছেন, অনেকের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ অন্যান্য মাধ্যমে যা প্রচার করা হচ্ছে, তার বেশির ভাগই আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিপন্থী। এর ফলে পারিবারিক ও সামাজিক অপরাধপ্রবণতাও বাড়ছে। বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতেও সামাজিক মাধ্যম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। নেতিবাচক ও অপপ্রচার বন্ধে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। অসত্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের বিরুদ্ধেও প্রচারণা চালাতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।

বিপ্লব বিশ্বাস

গোয়ালচামট, ফরিদপুর।



মন্তব্য