kalerkantho


নিরাময়কেন্দ্র নিজেই অসুস্থ

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী শত শত মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র গড়ে উঠলেও এগুলোর বৈধ অনুমোদন আছে কি না সন্দেহ। বেশির ভাগ নিরাময়কেন্দ্রের নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ওষুধপত্র এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার ও নার্স। বেশির ভাগ নিরাময়কেন্দ্র গড়ে উঠেছে স্পর্শকাতর মাদকদ্রব্য বেচাকেনার আখড়াগুলোর কাছে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসার পরিষ্কার বিছানাপত্র, লকারসহ খাট, স্যালাইন স্ট্যান্ড, পেশেন্ট ট্রলি, স্ট্রেচার বেডপ্যান, ইউরিনাল, ড্রসক্যান, ফ্লেমিটার ও মাস্কসহ অক্সিজেন সিলিন্ডার, ট্রান্সফিউশন সেট, ইলেকট্রিক শকার, স্টেরিলাইজার, সার্জিক্যাল কাঁচি, বেড, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন মালপত্র ও যন্ত্রপাতি এবং জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের জেনারেটর থাকা বাধ্যতামূলক হলেও এসবের বেশির ভাগই নেই। নেই অন্যান্য জীবন রক্ষাকারী উপকরণও। অথচ এসব কেন্দ্রে চিকিৎসার ব্যয়ভার অত্যধিক। এমনও অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো নিরাময়কেন্দ্র রোগীর আর্থিক সচ্ছলতা কিংবা পারিবারিক সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে রীতিমতো ব্ল্যাকমেইলিং করে থাকে। মাদকাসক্ত রোগীদের দীর্ঘদিন চিকিৎসার নামে ক্লিনিকে রেখে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা করতে এসে অনেকে সর্বস্বান্ত হয়েছে। এমনকি চিকিৎসার নামে এসব কেন্দ্রে মাদকাসক্তি বা রোগীদের মারধর ও নির্যাতন করার অনেক অভিযোগও রয়েছে। এমনকি কোনো কোনো নিরাময়কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীরাই জড়িত এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রগুলোকে তাদের মাদকের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেও ব্যবহার করতে দেখা যায়।

নিরাময়কেন্দ্রে দীর্ঘদিন রোগী ধরে রাখার জন্য স্বল্প পরিমাণ মাদক প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা পদ্ধতি চালানো হয়ে থাকে। এটিকে সম্পূর্ণ অনৈতিক পদ্ধতি আখ্যায়িত করে দেশের মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ পদ্ধতিতে রোগীকে কখনো সুস্থ করা সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নজরদারির জন্য অনুরোধ করছি।

মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী, ফরিদাবাদ, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।


মন্তব্য