kalerkantho


এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রশ্ন

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এবার এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের ২ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে সারা দেশে চিকিত্সকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাংলা প্রশ্নের সৃজনশীল অংশে যে উদ্দীপকটি দেওয়া হয়েছে, তা চিকিত্সা পেশাকে হেয় করে। সরাসরি কোনো পেশা উল্লেখ করে একজন লোভী চরিত্র সৃষ্টি করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। প্রশ্নে নেগেটিভ চরিত্রের চিকিত্সককে লোভী উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অভাব ও দারিদ্র্যমোচন করতে তিনি সব সময় অর্থের পেছনে ছুটতেন। এ তথ্যও বিভ্রান্তিকর নয় কি? অভাব ও দারিদ্র্যমোচনকে কি কোমলমতি শিশুদের কাছে খারাপ কাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হলো না? আমরা মনে করি, একটি পেশাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় করার জন্য এ ধরনের বিতর্কিত চরিত্র সৃষ্টি করা হয়েছে। একই বিষয়ের ১ নম্বর প্রশ্নে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ণনায় আদিবাসী শব্দটি তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে। এটিও কি সচেতনভাবে করা হয়েছে? নাকি পাঠ্যপুস্তকের অমার্জনীয় ভুল এখন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেও সংক্রমিত হচ্ছে। আসলে বর্তমান সৃজনশীল পদ্ধতি ও তার উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। কিছুদিন আগে কালের কণ্ঠে এ নিয়ে রিপোর্ট হয়েছে। সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরিতে প্রশ্নকর্তাদের দুর্বলতা, সরাসরি গাইড বই থেকে প্রশ্ন তুলে দেওয়া এবং মূল্যায়নের সময় ভুল উত্তরেও নম্বর প্রদান ইত্যাদি অভিযোগ পুরনো। এতে শিক্ষার মান কমছে বলেই সচেতন মহলের অভিমত।

তা ছাড়া উদ্দীপকে কোনো নেগেটিভ চরিত্র উল্লেখ করতে গিয়ে কারো নাম উল্লেখ করাটা কতটুকু জরুরি তাও প্রশ্নবিদ্ধ। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বোধোদয় কামনা করছি।

 

ডা. মঈনুল ইসলাম হাসিব

শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।


মন্তব্য