kalerkantho


বাংলাদেশ বিমানের যাত্রী হয়রানি প্রসঙ্গে

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশ বিমানে বর্তমানে চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও অব্যবস্থাপনার মহোত্সব চলছে। গত ১৬ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ফ্লাইটে আমার এক আত্মীয় কলকাতায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে যান।

কিন্তু বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো কাউন্টার থেকে জানানো হয়, ওভারবুকিংয়ের কারণে আপনার যাওয়া হচ্ছে না। অথচ ওই টিকিট কেনা হয়েছিল প্রায় দেড় মাস আগে। সেদিন আরো দুজন ভারতীয় যাত্রীকেও একই অজুহাতে যাত্রা থেকে বঞ্চিত করা হয়। তাঁদের একজন বেঙ্গালুরু এবং অন্যজন মুম্বাই থেকে এসেছিলেন একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের আমন্ত্রণে। এর পরে অনেক বাগিবতণ্ডার পর এই তিনজনকে রিজেন্ট এয়ারের ফ্লাইটে কলকাতায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু রিজেন্টের সেই ফ্লাইট ছাড়ে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ। কলকাতা শহরে পৌঁছতে তাঁদের রাত ৯টা বেজে যায়। ফলে ওই দিনের যা কর্মসূচি ছিল সব বাতিল হয়ে যায়। এরপর ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রত্যাবর্তনের সময় করা হয় আরেক নাটক। বলা হয়, যেহেতু রিজেন্টের ফ্লাইটে এসেছেন, অতএব বিমানে যাওয়া যাবে না। এই রকম তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিয়ে যাত্রীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা শুধু অন্যায়ই নয়, অমানবিকও বটে। এরপর অনেক কথা-কাটাকাটির পর তাঁরা একজন কর্মকর্তাকে ডেকে এনে বিমানের অসংগতিগুলো ঠিক করে ৪০ মিনিট পর বোর্ডিং কার্ড ইস্যু করেন। এই হচ্ছে দুজন বিদেশি যাত্রীসহ একজন স্বদেশি যাত্রীর প্রতি বাংলাদেশ বিমানের অতুলনীয় যাত্রীসেবা। এ ছাড়া যাত্রীদের জন্য বিদেশি বিমান সংস্থার বোর্ডিং কার্ড ইস্যু করা বিমানের দেউলিয়াত্বের এক নির্লজ্জ নমুনা।

আজকের এই প্রেক্ষাপটে সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমার আবেদন, যাত্রীদের প্রতি এহেন অমানবিক স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড বন্ধ করুন, নতুবা বিমান সংস্থার সরকারি মালিকানা রহিত করে জনগণকে হয়রানি থেকে মুক্তি দিন। আর বেসরকারি বিমান সংস্থায়ও এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটতে পারে তারও ব্যবস্থা নিন।

শাখাওয়াত করিম, ঢাকা।


মন্তব্য