kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের অপেক্ষায়?

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের অপেক্ষায়?

বাংলাদেশের প্রথম গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর পর ২০০৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ২৯ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে দাঁড়ায় ৭৪.৭০ শতাংশে। তখন জিপিএ ৫ (এ+)ধারী ছিল মাত্র ২০ জন, যা ২০১৬ সালে এসে দাঁড়ায় ৫৮ হাজার ২৭৬ জন।

অন্যদিকে ২০০১ সালে প্রথম গ্রেডিং পদ্ধতিতে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৩৫.২২ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে দাঁড়ায় ৮৮.২৯ শতাংশ। তখন জিপিএ ৫ (এ+) ছিল ৭৬ জন, যা ২০১৬ সালে দাঁড়ায় এক লাখ ৯ হাজার ৯৬৭ জন। সময় পরিক্রমায় এখন তা প্রায় এক হাজার ৫০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কি গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের এক হাজার ৫০০ গুণ মেধাবী বেড়েছে, আসলেই ব্যাপারটা তা নয়। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের একটি সংবাদে আমি খুব বিস্মিত হই। এ+ধারী ৮২ শতাংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি। এতেই বোঝা যাচ্ছে এ+-এর মান কেমন। আমি একটি এমপিওভুক্ত কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। প্রভাষক হিসেবে বিগত পাঁচ বছরে আমি যা দেখলাম তা রীতিমতো ভয়ংকর। তবে চলতি বছর ২০১৬ সাল থেকে আরেক ধরনের ভয়ংকর পদ্ধতি চালু হয়েছে, যা আমার বিবেককে নাড়া দিয়েছে। আমার কলেজ এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হওয়ায় ঢাকা শহরের নামকরা দুটি কলেজ এবং ছোট সাতটি কলেজের পরীক্ষা চলেছে। যখন দেখলাম খ্যাতনামা সেই দুটি কলেজের ছেলেমেয়েরা এ বয়সেই তাদের শিক্ষকদের কাছ থেকে দুর্নীতি, অনৈতিকতা এবং দুর্বৃত্ততা শিখছে, তা দেখে আমি চরমভাবে বিস্মিত। আমি বিভিন্ন নামকরা কলেজের অন্য শিক্ষক বন্ধুদের সঙ্গে ব্যাপারটা শেয়ার করতেই তাঁরা বললেন, পুরো বাংলাদেশের চিত্রটা একই। সাধারণত যে কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, তারা চার-পাঁচ ঘণ্টা আগে ডিসি অফিস থেকে পুলিশের সহযোগিতায় প্রশ্ন নিয়ে কেন্দ্রে আসেন আর এখানেই ঘটে বিপত্তি। এই সময়ের মধ্যে কিছু অসৎ শিক্ষক স্মার্টফোনে প্রশ্নের ছবি তুলে পাঠিয়ে দেন ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোনে। তখন ৪০ নম্বরের Objectiveটির সমাধান করতে সময় লাগে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা। এ ছাড়া Written-এর জন্য  Revised ছাড়াও প্রশ্ন দেখে নকল রেডি করে পরীক্ষার হলে নিয়ে আসে। প্রথম দিন সেই খ্যাতনামা কলেজের ছাত্রছাত্রী কলেজের পোশাক পরে এলেও পরবর্তী সময় তারা আর কলেজের পোশাক না পরার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলল, স্যার নিষেধ করেছেন। পরবর্তী সময় বুঝলাম চিহ্নিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ কৌশল। আগে আমরা Objective পরীক্ষা দিতাম লিখিত পরীক্ষার পরে। কিন্তু এ বছর থেকে কেনই বা তা প্রথমে দেওয়া হলো আমার জানা নেই। এতে অন্য কোনো সুবিধা না থাকলেও প্রশ্ন আউটকারীদের সুবিধা হয়েছে ১০০ শতাংশ। তবে কি ধসে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা?

নাজমুল হক সুমন

প্রভাষক, বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গুলশান, ঢাকা।


মন্তব্য