kalerkantho


ভবন নির্মাণে নিরাপত্তা আইন মানুন

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সম্প্রতি মগবাজারে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ওপর থেকে পড়ে এক শ্রমিক মারা গেছেন। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এ ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে এ দেশে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক নিরাপত্তা, বিশেষ করে নির্মাণকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি। অতীতেও উন্মুক্ত স্থানে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন থেকে ইট পড়ে, নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে পড়ে অনেকের প্রাণনাশ ঘটেছে। শুধু শ্রমিকরাই নয়, পথচারীও হয়েছে এর অসহায় শিকার।

একটি জাতীয় দৈনিকের গবেষণা থেকে জানা যায়,  কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় গত এক বছরে দেশে ৯০০-র বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে পাঁচ শতাধিক। কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকার কারণে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে, এর পুনরাবৃত্তি রোধ করা জরুরি। বাংলাদেশে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ে একসঙ্গে ১৫ জনের প্রাণহানির দৃষ্টান্তও রয়েছে। ২০১০ সালে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিও কি আমাদের সাবধান করতে পারেনি! উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় নিরাপত্তার ওপর। আমাদের দেশের প্রচলিত শ্রম আইনে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিধান রয়েছে। তা ছাড়া ‘সেফটি ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে নিরাপত্তা’ কথাটি সুপরিচিত শুধু নয়, ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েও আসছে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ ততটা দৃশ্যমান নয়।

রাজধানীর অনেক ভবনেই নিরাপত্তাবেষ্টনী না দিয়ে কাজ করছে শ্রমিকরা। বহুতল ভবনের মালিকপক্ষ কিংবা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অধিকাংশেই বেষ্টনী আইন মানছে না। রাজউকের পক্ষ থেকে গত বছর এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাজউকের আওতাধীন এলাকায় ইমারত নির্মাণস্থলে যেকোনো দুর্ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো, ভূমিধস রোধ, কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান, আশপাশের ভবন, অবকাঠামো ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ভবন মালিক বা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের। বাংলাদেশ জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৬, ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা ২০০৮ ও ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২-এ এসব দায়দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা আছে। কাগজে-কলমে থাকা বিধানগুলোর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে কে? বারবার যখন এসব ঘটে তখন এটাকে কি নিছক দুর্ঘটনা বলা যায়? এর দায় তো কাউকে না কাউকে নিতে হবে।

দেশে এখন অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিশেষ গতি পেয়েছে। নগর থেকে মফস্বল—সর্বত্রই যোগাযোগ উন্নয়ন, স্থাপনা নির্মাণ ও শিল্পায়নের কাজ চলছে। তাই নির্মাণকাজসহ সব ধরনের শ্রমক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এ-সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হোক।

 

মো. রেদোয়ান হোসেন

বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।


মন্তব্য